বিয়ে করলেন অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ফ্যাশিংয়ের অভিজাত ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনায় লতা-মার্কের জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী লতার ঘনিষ্ঠজন ছাড়াও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, নিউজার্সির কাউন্সিলম্যান ও বিজ্ঞানী ড. নূরন নবী এবং তার উকিল বাবা কানাডা প্রবাসী লেখক ও গণিতবিদ ড. মীজান রহমান উপস্থিত ছিলেন। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাশুড়ি পলা ওয়েন এবং নিকট আত্মীয়।
গত ১২ জুলাই লুৎফুন নাহার লতার গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। বাঙালী রীতি অনুসারেই শুক্রবার বিয়ের রিসেপশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তিনি সকলের কাছে তার সুখী জীবনের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তার বন্ধুরা নবদম্পতির ছবি প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্কের অপটিমিস্টস মিনহাজ আহমেদ শাম্মু তার ফেসবুকে নব দম্পতির বেশকয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রবাসী লেখিকা সোনিয়া কাদের, কানাডার টরন্টো প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর, বাংলাদেশের জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘বহুব্রীহি’ ও ‘এইসব দিনরাত্রি’তে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন লুৎফুন নাহার লতা। টিভিতে অভিনয় ছাড়াও তিনি মঞ্চে কাজ করেছেন। নাগরিক নাট্যাঙ্গণের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে লুফুন নাহার লতা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালেই সাবেক স্বামী মেজর (অব.) নাসির উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
লুৎফুন নাহার লতা নিউইয়র্ক সিটির বোর্ড অব এডুকেশনে চাকরি করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আকবর হায়দার কিরন : প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে কে কোথা বাঁধা পড়ে কে জানে- স্বভাবে শরীরে খাঁটি বাঙালী এবং বাংলাদেশের নাট্য জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ভালবেসে বিয়ে করেছেন এমন একজন কে যাকে অন্যদেরও খুব ভালো লেগেছে। শুক্রবার, ১৮ জুলাই নিউ ইয়র্ক শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁ ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনাতে আয়োজিত লতা এবং মার্কের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় যোগ দিতে আসা প্রবাসের বিশিষ্ট জনেরা ভালোবাসা কারে কয় সেটি হয়তোবা নতুন করে আবার অনুভব করেছেন। আপন সন্তান সিদ্ধার্থ কি চমৎকার করে সবাইকে স্বাগত জানিয়েছে মায়ের জীবনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে। আমার অনেকদিনের চেনা লুতফুন নাহার লতা, যাকে দুষ্টুমি করে বেয়াইন সাহেবা বলে সম্বোধন করি। আমি তাঁকে এই বিশেষ ক্ষণের, জীবনের এই ভিন্নমাত্রা যোগের কালে একান্ত অনুভুতি জানতে চেয়েছিলাম। তাঁর সাথে কথোপকথনের মাঝে ঢাকা থেকে ফোন আসে বার্থডে বয় এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা, আমাদের পরম প্রিয় আফজাল হোসেন ভাইয়ের। তিনিও তাঁর অভিনন্দন জানান। আসুন লুতফুন নাহার লতার মনে কথা গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করা যাক।ভালো কথা, এই লেখার সাথে ব্যবহার করা সব ছবি আমাদের প্রিয় নিহার সিদ্দিকি’র তোলা।
জীবন হল এক অন্বেষণ ,এক সফল বা অসফল জার্নি তবু প্রতিটি সূর্যোদয়ে নব আনন্দে জেগে ওঠে মানুষ । অনেকের মতই আমার জীবন এক সুদীর্ঘ লড়াই। চলার লড়াই।বলার লড়াই ।মাথা উচু করে বাঁচার লড়াই। দীর্ঘতম সেই একাকী লড়াই কেবল আমার নয় , আমার মত অগণন নারীর জীবনকে করেছে ঋদ্ধ । আমার একমাত্র সন্তান সিদ্ধার্থ জন্ম থেকে আমার এই লড়াইয়ের একমাত্র সাথী । আজ তাঁর দারুন আনন্দের দিন । তার ঐকান্তিক চেষ্টায় সে পেয়েছে একটি পারিবারিক জীবন । হ্যা বন্ধুরা সিদ্ধার্থ আর আমি একটি পরিবার তৈরী করেছি মার্ক কে নিয়ে । মার্ক ওয়াইনবার্গ ।
আজ থেকে একশো বছর আগে মার্কের দাদা দাদী খুব অল্প বয়সে আমেরিকায় এসেছিলেন ইউক্রেনের কিয়েভ থেকে । মার্কের বাবার জন্ম ক্লিভল্যান্ড ওহাইও তে । তিনি ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ । ফ্রান্সের প্যারিস শহরে সঙ্গীতের ছাত্র অবস্থায় দেখা হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের মেয়ে সুন্দরী পলা ট্রোলারের সঙ্গে । পাঁচ ছেলে নিয়ে তাঁরা রচনা করেছেন একটি অসাধারন পরিবার । কর্ম জীবনে তাঁরা দুজনেই ছিলেন স্কুলের শিক্ষক । ব্যাক্তি জীবনে দুজনেই ধর্মের অন্ধকারাচ্ছন্ন আবরন ভেঙ্গে বেরিয়েছেন আলোতে । দুজনেই মানবতাবাদী । মার্কের জন্ম মাতুলালয়ে , সুইজারল্যান্ডে। পেশায় একজন সি পি এ । কাজ করেন একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে । ওয়াইনবার্গ কেবল জন্মসূত্রে তাঁর লাস্ট নেম তাঁর দাদা দাদী , বাবা মা , আমি ও সে আমাদের কাছে ধর্মের গোঁড়ামির চেয়ে ধর্মের আলোকিত পথই গ্রহনযোগ্য । মানবতাই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় । আমার প্রিয় বন্ধু এহসান ইমদাদ আর মার্কের ছোট ভাই বব, বাংলাদেশী কায়দায় আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল , কিন্তু আমি চিরদিন বাংলা বাংলা করে মরছি সেই আমি আমেরিকান কাউকে বিয়ে করবো ! অসম্ভব ! তাছাড়া আমার তো সময় ছিল না কাউকে নিয়ে ভাববার! আমার সামনে পিছনে ডাইনে বায়ে কেবল আমার ঝড়ে পড়া বিড়াল ছানার মত আমার সিদ্ধার্থ । ফলে দীর্ঘ বারো বছর আর মার্ক কে ভালো করে দেখাও হয় নি । পাঁচ বছরের সিদ্ধার্থকে নিয়ে একা এই দেশে এসেছিলাম , কত বিপর্যায়ে কেটেছে জীবন,মাঝে মাঝে সেকথা শেয়ার করি আপনাদের সাথে । আজ যখন সে বাইশ বছরের তরুন ,পড়ছে আইন শাস্ত্র , তাঁর সাথে জেরায় আমি পেরে উঠিনা । এক পর্যায়ে বলেছি ‘ আমি যাকে ভালোবাসি না তাকে বিয়ে করব না ।’ জবাবে সিদ্ধার্থ বলেছে ‘ মা লাভ ক্যান গ্রো ।’ ২০১০ এ মায়ের মৃত্যুর পরে আমার প্রথম মনে হল আমি কত একা । সেই থেকে আমার মনের ভুবন জুড়ে এক ঝরা পাতার শুন্যতা খেলা করে বেড়ায় । আজ বয়স যখন বাড়ছে এই নিঠুর পরবাসে , সত্যি বলতে কি অন্ধকার ঘরে একলা মরে পড়ে থাকার একটু একটু ভয় ও পেয়ে বসে । ফলে মন স্থির করলাম । আমার ভাই বোন দের সাথে কথা বলে রাজী হয়ে গেলাম । এমন হতে পারতো এই মহা রোমান্টিক আমি কাউকে উন্মাতাল ভালোবাসায় ভাসিয়ে নিয়ে মহা আনন্দে বিয়ে করতে পারতাম আর আমার ছেলেটি কেবল মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাঁকে মেনে নিত ! আমি কি সুখী হতে পারতাম ! তারচেয়ে ভালো আমার ছেলে খুশী আর আমি মেনে নিলাম এই জীবন ! গত কাল সন্ধ্যায় আমার একান্ত আপনার জনদেরকে নিয়ে একটি ছোট্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি মার্ক কে সবার সাথে । যারা আমার সাথে ছিলেন তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই । এই শহরের শুধু নয় টরোন্ট থেকে এসেছেন নৃত্যশিল্পী অরুনা হায়দার , অটোয়া থেকে এসেছেন আমার আত্মার আত্মীয় , যাকে আমি আমার পিতার আসনে বসিয়েছি অটোয়ার কার্ল্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ ডঃ মীজান রহমান । তিনি ও সিদ্ধার্থ আমাকে সম্প্রদান করেছে মার্ক ও মার্কের মায়ের হাতে । আমার বাঙ্গালী কমিউনিটি আমার ভাই হয়ে বোন হয়ে বাবা মা হয়ে আমার জন্য সব করেছেন। আমার প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে আমার মাথা নত হল ।। মার্ক ভাল মানুষ । অসাধারন এক মাল্টি কালচারাল পরিবার থেকে আসা উদার মুক্ত মনের মানুষ । আমার সিদ্ধার্থ তাঁকে পেয়েছে পিতৃস্থানীয় একজন বন্ধু হিসেবে গাইড হিসেবে। তাঁর সাথে জীবন হয়তো অর্থবহ হয়ে উঠবে সেই আশা করছি । আপনাদের সবার শুভপ্রার্থনা থাকবে আমাদের জন্যে সেই আশা করি।
আমাদের জীবন একটাই এবং খুব বেশী দীর্ঘ নয়। আসুন আমরা প্রিয় লুতফুন নাহার লতার জন্যে প্রার্থনা করি, তাঁর বাকি জীবনটা যেন খুব ভালো কাটে। মার্ক কে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। অনেকেই তাঁকে দুলাভাই বলে ডেকেছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কি অপরিসীম ধৈর্য নিয়ে নেচেছেন, ছবি তুলেছেন সবার সাথে। মার্কের অনেক বয়স্ক মায়ের উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানকে মহিমান্বিত করেছে। রাত ২টা বেজে গেলেও কারো যেন বাড়ী যাবার তাড়া ছিলনা।মজার কথা হোল মার্ক তার বক্তব্য শেষ করেন জয় বাংলা বলে। অসম্ভব সুদর্শন এবং ৬ ফুটের বেশী উচ্চতা সম্পন্ন মার্ক দেখতে অনেকটাই ধনকুবের বিল গেটসের মতো।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!