বিশ্বজয়ী কালো মানুষ
বিশ্বজয়ের জন্য দৈহিক গঠন বা বর্ণ জরুরি নয়। এ জন্য প্রয়োজন মেধা, মনন ও দক্ষতা। এসব গুণে গুণান্বিত হয়েই জায়গা করে নেওয়া যায় মানুষের মনে। স্থান হয় ইতিহাসের পাতায়। এমন অনেক কৃষ্ণাঙ্গ রয়েছেন, যারা করেছেন বিশ্বজয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো দাপটের সঙ্গে বিচরণ করছেন। সেইসব কালো মানুষের কথা জানাতেই আজকের এ আয়োজন-
দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ তাকে আদর করে ডাকতেন ‘মাদিবা’। নেলসন ম্যান্ডেলা বা মাদিবার জন্ম ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার মাভেজো ইউনিয়নে। আর তিনিই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে তিনি অংশ নেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিজওয়ের নেতা হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণের দায়ে ১৯৬২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার তাকে গ্রেফতার করে। সক্রিয় আন্দোলন-অন্তর্ঘাতসহ নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ম্যান্ডেলাকে। তরুণ ম্যান্ডেলা দীর্ঘ ২৭ বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী ছিলেন। এর পরও বর্ণবাদের সঙ্গে আপস করেননি তিনি। বন্দী জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি ছিলেন রোবেন দ্বীপে। অবশেষে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কারামুক্ত হন তিনি। এর পরও তার বর্ণবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে গেছেন।
তিনি তার দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। শ্বেতাঙ্গদের কাছ থেকে সহ্য করেছেন নির্যাতন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে সেই শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নীতি গ্রহণ না করার জন্য ম্যান্ডেলা প্রশংসিত হন। বিশ্বব্যাপী একজন অসাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ম্যান্ডেলা নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্যরকম উচ্চতায়। শান্তির সপক্ষে কাজ করা এবং আফ্রিকার নবজাগরণে ভূমিকা রাখার জন্য গত চার দশকে ম্যান্ডেলা ২৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারও রয়েছে। ম্যান্ডেলার বাবা গাদলা হেনরি মপাকানইসা গ্রাম্য মোড়ল ছিলেন। ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরাগভাজন হওয়ার পর তারা হেনরিকে পদচ্যুত করে। তিনি তখন তার পরিবারসহ কুনু গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। ম্যান্ডেলার বাবার মৃত্যুর পর দালিন্দ্যেবো ম্যান্ডেলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। সেখানেই আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠেন তিনি। আর নেতৃত্বের গুণটি পারিবারিকভাবেই তার মধ্যে প্রবেশ করে। ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ৭১ বছর বয়সে রোবেন আইল্যান্ড কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন ম্যান্ডেলা। বর্ণবাদ অবসানের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান ম্যান্ডেলা। শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিকভাবে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ম্যান্ডেলা। দেশটির তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর প্রচারে নামেন মরণব্যাধি এইচআইভি/এইডসের বিরুদ্ধে, যা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছিল আফ্রিকার দেশগুলোতে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়। ৮৫ বছর বয়সে ২০০৪ সালে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাবেন জানিয়ে সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে ডেক না। আমি তোমাদের ডাকব।’ ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যান বিশ্বের এই কিংবদন্তি নেতা।
পুরো নাম বারাক হুসেইন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট। ২০১২ সালের নভেম্বরে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের হনোলুলুতে জন্ম হয় তার। কেনীয় বংশোদ্ভূত বারাক হুসেইন ওবামা সিনিয়র ও মার্কিন অ্যান ডানহামের ঘরে জন্ম নেন। শৈশবের প্রথমদিকেই মা-বাবার বিচ্ছেদ দেখতে হয়েছে তাকে। ১৯৯৬ সালে ইলিনয় রাজ্য সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন ওবামা। ২০০৪ সালে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন শহরে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট দলের জাতীয় সম্মেলনে তিনি মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল
রাজনীতির ধারায় তাকে একজন উদীয়মান তারকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তার কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল মার্টিন লুথারের সেই স্বপ্ন দেখা বাণীগুলো। হয়তো সেই আদর্শকে বুকে লালন করে কাজ করে যাচ্ছেন বারাক হুসেইন ওবামা।
মার্টিন লুথার কিং। তার সম্পর্কে নতুন করে আর বলার নেই। সাদার দুনিয়ায় যে কজন কালোর দাপট আজও অগ্রগণ্য তাদের মধ্যে মার্টিনের অবস্থান সবার শীর্ষে। মার্টিন লুথার জন্মেছিলেন ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, আমেরিকার জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টা শহরে। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল মাইকেল লুথার কিং, পরবর্তীতে কৈশোরে এ নাম পাল্টে তিনি নিজেই নাম নির্বাচন করেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। যে ছেলে কৈশোরেই জন্মকালীন নাম পরিবর্তন করে নিজের পছন্দমতো নাম নির্বাচন করতে পারে, সেই ছেলে যে কোনো এলেবেলে ধরনের ছেলে ছিল না, তা তার কিশোর বয়স থেকেই বোঝা গিয়েছিল। কালো চামড়ার ছিল (তখন বলা হতো নিগ্রো) বলে কালোদের জন্য নির্দিষ্ট স্কুলে তাকে যেতে হয়েছিল। কিন্তু এই ছেলে এতই মেধাবী ছিল যে, তাকে ক্লাস নাইন ও ক্লাস টুয়েলভ পড়তেই হয়নি, দুবার অটোপ্রমোশন পেয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সে স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে ফেলে। তারপর ধারাবাহিকভাবেই ব্যাচেলর ডিগ্রি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাপ-দাদা ‘নিগ্রো’ হিসেবে অনেক বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তারপরও তার বাবা মনে করতেন, একমাত্র ভোটের মাধ্যমেই আফ্রো-আমেরিকানরা তাদের প্রতি যত বৈষম্যের অভিযোগের জবাব দিতে পারে। মার্টিন নিজেও এই বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তার যে সবচেয়ে কাছের বাল্যবন্ধু, সে ছিল সাদা, দুজনের বন্ধুত্ব ছিল খুবই গভীর, অথচ তাদের পড়ালেখা করতে হয় ‘সাদাদের স্কুল’ ও ‘কালোদের স্কুলে’ যার যার গায়ের চামড়ার রং অনুযায়ী। এই বৈষম্য মার্টিনের মনের গভীরে রেখাপাত করে। তার পরবর্তী জীবনের লক্ষ্য নির্ধারিত হতে থাকে এসব বৈষম্যের অবসান ঘটানো। এই লক্ষ্যে তিনি তার নানা সাংগঠনিক কাজ, সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখেন। সিভিল রাইটস নিয়ে তখন থেকেই তিনি সচেতন হতে থাকেন। সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৬৪ সালের ২৮ আগস্ট দাসপ্রথা বিলুপ্তির শতবর্ষ পূর্তিতে অগণিত মানুষের সমাগম হয় ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়াল হলের সামনে। সব বর্ণের মানুষ এসেছিল সে দিন ওই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে। কারণ এই সমাবেশ ছিল কালোদের স্বাধীনতা বা মুক্তি এবং চাকরির নিশ্চয়তা সম্পর্কিত। ওই সমাবেশে আমেরিকার দক্ষিণী রাজ্যের দুঃখী-কালো মানুষের হয়ে বক্তৃতা করেছিলেন মার্টিন লুথার কিং। ড. মার্টিন লুথার কিং ওই দিন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ, পৃথিবীশ্রেষ্ঠ বক্তৃতা করেন, যা কি-না ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ নামে খ্যাত। এত কিছুর পরও এক আততায়ীর গুলিতে ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল প্রাণ হারান তিনি।
মোহাম্মদ আলীর নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একজোড়া গ্লাভস হাতে দানবীয় শক্তির সেই মানুষটির অবয়ব। দুই হাতের কব্জি দিয়ে যিনি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন গোটা বিশ্ব। তার আগের নাম ক্যাসিয়াস মারকেলাস ক্ল্যা জুনিয়র। মোহাম্মদ আলী ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লুইসভিলা, কেন্টাকিতে জন্মগ্রহণ করেন। আলী ১৯৬৪ সালে ইসলামী সংগঠন নেশন অব ইসলামে যুক্ত হলে এবং ১৯৭৫ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তার নাম পরিবর্তন করেন। তিনি তিনবারের ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন এবং অলিম্পিক লাইট-হেভিওয়েট স্বর্ণজয়ী। ১৯৯৯ সালে মোহাম্মদ আলীর নাম বিবিসি এবং স্পোর্টস ইলাট্রেটেড স্পোর্টসম্যান অব দ্য সেঞ্চুরি অথবা শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭১ সালের মার্চে আলী জো ফ্রেজিয়ারের মুখোমুখি হনম, যা ‘শতাব্দীর সেরা লড়াই’ হিসেবে পরিচিত।
অপরাহ উইনফ্রে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী। নয় বছর বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অথচ জীবনের সাফল্যগাথায় তাকে ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ জন সর্বোচ্চ প্রভাবশালী মানুষের তালিকায় অপরাহ উইনফ্রে একমাত্র ব্যক্তি, যিনি টানা আটবার নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র পাঁচবার। তার দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান। তার বার্ষিক আয় প্রায় ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনিই বিশ্বের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিলিওনিয়র। মাত্র ৩২ বছর বয়সেই তিনি মিলিওনিয়র হয়ে যান এবং ৪১ বছর বয়সে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অপরাহ উইনফ্রে তার নিজের সম্পাদনায় ‘ও’ ম্যাগাজিন প্রকাশের পর তিনি শক্তিমান সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও পরিচিতি পান। আরেকটি পরিচয়, তিনি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত অভিনেত্রী।
মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন। জন্ম ২৯ আগস্ট-১৯৫৮, গ্যারি ইন্ডিয়ানায়। বাবা-মা যথাক্রমে জোসেফ ওয়াল্টার জ্যাকসন ও ক্যাথরিন জ্যাকসন। পাঁচ ভাই ও তিন বোন। সবাই কোনো না কোনো সময় পেশাগতভাবে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ছোট বোন জ্যানেট জ্যাকসন একজন সফল সংগীতশিল্পী। স্টিল টাউন নামে-খ্যাত গ্যারি ইন্ডিয়ানার এক স্টিল ফ্যাক্টরির ক্রেন-চালক ছিলেন মাইকেলের পিতা। সংগীতের প্রতি তার ছিল দুর্বার আকর্ষণ। অবসর কাটানোর জন্য ‘ফেলকন’ নামে একটি ব্যান্ডও গড়েছিলেন তিনি। পরে তিনি নিজের বড় তিন ছেলে টিটো, জ্যাকি ও জারমেইনকে নিয়ে গড়ে তোলেন সংগীত দল ‘দ্য জ্যাকসন ব্রাদার্স’। অল্প সময়ের মধ্যেই এই দলে মার্লোন ও মাইকেলকে অন্তর্ভুক্ত করে দলের নামকরণ করা হয় ‘দ্য জ্যাকসন-৫’। সময়টি ১৯৬৩ সাল। দলটি গ্যারি ইন্ডিয়ানা ও আশপাশের শহরগুলোতে নিয়মিত শো করার মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেজের ওপর সে ছিল জাদুর মতো। ওই সময় দলের প্রধান গায়ক ছিলেন জারমেইন জ্যাকসন। মাইকেলের ক্ষণজন্মা প্রতিভার পেছনে অন্যদের সঙ্গে কোরাস গাইবার জন্য কেউ ছিল না। অল্প দিনের মধ্যেই ছোট্ট মাইকেল দলটির প্রধান গায়কে পরিণত হয়। তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর, সালটি ১৯৬৭। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ‘জ্যাকসন-৫’ বিভিন্ন ট্যালেন্ট শোতে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলে তাদের প্রচার আরও প্রসারিত হয়। অ্যাপলো এবং রিগ্যাল থিয়েটারসহ বিখ্যাত সব থিয়েটারে অনুষ্ঠান করার সময় মাইকেল গভীর মনোযোগের সঙ্গে সে সময়ের সেরা সব শিল্পীর পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করতেন। অলক্ষ্যে এভাবে তিনি নিজেকে অনন্য সাধারণ এক শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে থাকেন। ১৯৬৮ সালের শেষ দিকে বেরি গর্ডির পক্ষে জ্যাকসন ৫-এর অডিশন নেওয়া হয়। ১০ বছরের মাইকেল তার বিরল ‘হাই পিচ’ কণ্ঠে ‘হু ইজ লাভিং ইউ’ গানটি গান। এর অরিজিনাল গায়ক ছিলেন স্মোকি রবিনসন। যে নিজেই সব সময় মজা করে বলতেন, মাইকেল তার থেকেও ভালো করে গানটি গাইতে পারে। এর পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৭০ সাল। অর্থাৎ পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত যে সুপার হিট গানগুলো সৃষ্টি হয়। ১৯৭২ সালে তার সোলো ব্যতিক্রমী গান ‘বিইএন’ চার্টের এক নম্বরে জায়গা করে নেয়। ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই সঙ্গে আটটি গ্ল্যামি জেতার পর মাইকেল আরও একবার প্রমাণ করেন, তিনিই সেই ব্যতিক্রমী শিল্পী, যে সংগীত ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত সব ধারা বদলে দিতে পারেন। এ সময় ‘মো টাউন রেকর্ড’ কোম্পানি তাদের ২৫তম অর্থাৎ রজতজয়ন্তী সাড়ম্বরের সঙ্গে পালন করার প্রস্তুতি নেয়। বেরি গর্ডি স্বয়ং মাইকেলকে তার ভাইদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। ১৬ মে, ১৯৮৩-র সন্ধ্যার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ৪৭ মিলিয়ন আমেরিকান অবাক-বিস্ময়ে দেখল ইলেকট্রিফাইং এক মাইকেল জ্যাকসন ও তার ‘মুনওয়াক’। ২৫ জুন, ২০০৯; মাত্র ৫০ বছর বয়সে নিজের ডাক্তারের উপস্থিতিতে তারই দেওয়া ঘুমের ওষুধের ওভার ডোজে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
শুধু ব্রাজিল বললে ভুল হবে, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। ব্রাজিলের হয়ে পেলে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ১৯৫৮ ফিফা বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে পেলে তার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেন। ১৯৫৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের সেই ম্যাচটি ছিল প্রতিযোগিতার তৃতীয় খেলা। সেই বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ (এবং তখন পর্যন্ত যে কোনো বিশ্বকাপ খেলায় সর্বকনিষ্ঠ) খেলোয়াড় পেলের সতীর্থ ছিলেন গ্যারিঞ্চা, যিতো এবং বাভা। ওয়েলসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে করা গোলটি ছিল প্রতিযোগিতায় পেলের প্রথম এবং সেই ম্যাচের একমাত্র গোল, যার সাহায্যে ব্রাজিল সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। ম্যাচের সময় পেলের বয়স ছিল ১৭ বছর ২৩৯ দিন, বিশ্বকাপের গোলদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে কম। তার মুন্সিয়ানা ও দৌড়ঝাঁপের জন্যই ফিফা বিশ্বকাপের চলতি বছরের আসরটি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অনেক কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ই ক্রিকেট বিশ্বে পা রেখেছেন। রেখেছেন মুন্সিয়ানার ছাপ। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন_ ক্লাইভ লয়েড, কোর্টনি ওয়ালস, অ্যামব্রোস প্রমুখ। কিন্তু বিশ্ববাসীর হৃদয়ে দাগ কেটে এখনো ক্রিকেটের বরপুত্র হিসেবে জায়গা করে আছেন ব্রায়ান লারা। তার পুরো নাম ব্রায়ান চার্লস লারা। তিনি ১৯৬৯ সালের ২ মে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগোর সান্তা ক্রুজে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রায়ান লারাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি টেস্ট ব্যাটসম্যান রেটিংয়ে বহুবার এক নম্বর হয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের অনেক রেকর্ডই তার। তিনিই একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি ক্রিকেটে কুয়ান্টিপল সেঞ্চুরি (পাঁচশ রান)। [ফার্স্ট-ক্লাস] এবং কুয়াড্রপল সেঞ্চুরি (চারশ রান) [আন্তর্জাতিক] করেছেন। ২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিল লারা সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আগামী ২১ এপ্রিলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার ম্যাচটিই হবে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।’ কিন্তু ২০১০ সালে তিনি আন্তর্জাতিক টুয়েন্টি-২০ খেলার জন্য প্রবর্তন করেন, পরে ২০১১ সালে আবার অবসর গ্রহণ করেন। লারা ১৩১টি টেস্ট, ২৯৯টি ওয়ানডে ও ২৬১টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেন। আর ভেঙেছেন অগ্রজদের রেকর্ড, গড়েছেন সপ্রতিভ নিজের রেকর্ড, যা এখনো দর্শকদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।
টাইগার উডসের নামটি উচ্চারিত হলে চোখের সামনে সেই ব্যক্তিটি ভেসে ওঠে যিনি অনবরত একটি ছোট বলকে পিটিয়ে বেড়াচ্ছেন। পূরণ করছেন নির্দিষ্ট লক্ষ্য। বিশ্ব গলফের অন্যতম শীর্ষ এ খেলোয়াড়ের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে। ছোট বেলা থেকেই দুরন্ত ও ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন তিনি। যে কোনো জিনিসকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আনন্দ পেতেন। শেষ পর্যন্ত এই লাঠি বা স্টিকই হয়ে উঠে তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াতেও যথেষ্ট তৎপর ছিলেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন ডিগ্রি করেছেন। মূলত ১৯৯৬ সালের একটি গলফ টুর্নামেন্ট থেকেই তার উত্থানটা চোখে পড়ে। আর এর পরের বছরই একটি রেকর্ড ব্রেকিং পারফরম্যান্স করে বিশ্ববাসীর নজরে চলে আসেন এই গলফার। এ পর্যন্ত চৌদ্দটি প্রফেশনাল মেজর গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ী হয়েছেন টাইগার। জিতেছেন ৭৯টি পিজিএ ট্যুর ইভেন্টস। এ ছাড়া ৩ বার গ্রান্ড স্লাম জয় করেছেন এ কৃষ্ণাঙ্গ। তিনি একমাত্র গলফার যিনি ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে গোল মেডেল ও সিলভার মেডেল পদক পেয়েছেন। এছাড়া ২০০২, ২০০৩, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৯, ২০১৩ সালে প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের খেতাব অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া হল অব ফেমেও নাম উঠে তার। ২০০৭ সালে এটি ঘোষণা করেন তৎকালীণ গভর্নর আরনর্ল্ড শোয়ার্জনেগার।বাংলাদেশ প্রতিদিন
- Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
- জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের
- নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত
- নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK









