বাংলাদেশের বিশ্ব জয়
তুহিন চৌধুরী : গৃহ নয়, গ্রহে আছো তুমি, শ্রেষ্ট এই প্রিয় জন্মভুমি, তুমি থাকো বিশ্ব পর্যটনে যুক্ত থাকো সূর্য প্রদক্ষিণে। গনমানুষের কবি দিলওয়ারের কবিতায় এভাবেই নিজ স্বদেশ কে আবিষ্কার করেছিলেন কবি। কবিরা যা ভাবেন তাই বিজ্ঞানীরা একসময় আবিষ্কার করেন। বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বিষ্ময়, গ্রহ গ্রহান্তরে পৌছে গিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশিদের ইউরোপ আমেরিকা কানাডা জয়ের গল্পই ধরা যাক, বাংলাদেশ এর বিশ্ব জয় এর গল্প শুধু বাংলাদেশের বিশ্ব জয় নয় বাংলাদেশ জিতলে জিতে যায় বিশ্ব।
বাংলাদেশ সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশিদের গর্ব করার মত যা কিছু আছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা ভাষা, যার জন্য বাংলাদেশিরা আন্দোলন করেছিল।
বাংলাদেশিদের ভাষা আন্দোলন
আমাদের বাংলা ভাষার জন্য এক দারুণ দিন ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেসকোর ৩০তম সেই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়। ঠিক পরের বছর ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়। এ আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে আছে কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠীর নাম। এই গোষ্ঠী প্রথমে ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ নামে একটি দিবস ঘোষণার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সেখানে তাঁরা বলেন, ‘বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেটা ছিল তাদের ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আজকের পৃথিবীতেও অনেক জাতি-গোষ্ঠীর ভাষাও একই সমস্যা ও বিপদের মধ্যে আছে।’ কাজেই মাতৃভাষা দিবসের দাবিটি খুবই ন্যায়সংগত।
মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠীর এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন সাত জাতি ও সাত ভাষার ১০ জন সদস্য। তাঁরা হলেন অ্যালবার্ট ভিনজন ও কারমেন ক্রিস্টোবাল (ফিলিপিনো), জ্যাসন মোরিন ও সুসান হজিন্স (ইংরেজি), ড. কেলভিন চাও (ক্যান্টনিজ), নাজনীন ইসলাম (কা-চি), রেনাটে মার্টিনস (জার্মান), করুণা জোসি (হিন্দি) এবং রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম (বাংলা)। জাতিসংঘ মহাসচিবের অফিস থেকে এই পত্রপ্রেরকদের জানিয়ে দেওয়া হয়; বিষয়টির জন্য নিউইয়র্কে নয়, যোগাযোগ করতে হবে প্যারিসে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি-বিষয়ক সংগঠন ইউনেসকোর সঙ্গে।
সকল প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ শুধু বাংলা ভাষার বিশ্ববিজয় নয়; পৃথিবীর সব মাতৃভাষার জয়।
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি কিশোরী মুনিরা
সভ্য দেশের অসভ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার ধর্মীয় সামিজিক বৈষম্য ,বর্ণবাদ উসকে দিচ্ছিলেন তার নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই। এরপর তার বিজয় শান্তিকামী মানুষের কন্ঠ স্তব্ধ করে দেয়।
২০ জানুয়ারি ২০১৭ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিষেক, এর আগে আমেরিকার পতাকায় মোড়ানো হিজাব বানিয়ে সেটি,র ছবি দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই ছবিটা সবার এত প্রিয় হয়ে উঠে যে ট্রাম্পের অভিষেকের সময় শান্তিকামীমানুষের প্রতিবাদ এর ভাষা পোষ্টার হয়ে সে ছবিটি সবার হাতে হাতে ছিল। সেদিন
ট্রাম্পের মুখের চেয়ে নাকি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা মোড়ানো অশ্বেতাঙ্গ তরুণীর মুখটির আবেদন খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই বড় হয়ে গিয়েছিল ? দুনিয়াজুড়ে ট্রাম্প বিরোধী লাখো নারীর মিছিলে মুনিরার পোস্টারই বরণবাদের বিরুদ্ধে উত্তরটা দিয়ে দিয়েছে। পোস্টারটায় লাল-নীলে আঁকা মুনিরার মুখের নিচে লেখা: উই আর দি পিপল, গ্রেটার দ্যান ফিয়ার (আমরাই জনগণ, ভয়ের চেয়েও বড়)। আমেরিকা কোন মুখ নিয়ে
দাঁড়াবে পৃথিবীতে? এক দিকে বাংলাদেশী কিশোরী মুনিরার মুখ, অন্য দিকে ট্রাম্পের মুখ। একটি মুখ দম্ভের, অন্যটি স্পর্ধার। একটি মুখ ঘৃণার, অন্যটি সরলতার। একটি মুখ বর্ণবাদের, অন্যটি সর্বজনের। একটি মুখ সাম্রাজ্যের, অন্যটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের। ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রতিবাদি পোষ্টার ছাপানো নিষেধ দেখা গেল নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট-এর মতো বড় বড় পত্রিকায়
ট্রাম্প বিরোধী পূর্ণ পৃষ্ঠা পোস্টার ছাপা হয়েছে। সেই থেকে মুনিরা হয়ে গেলেন সকল প্রকার বৈষম্য বিরোধী এক নাম।
নিরাপদ বিশ্ব গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশি সন্তানহারা মা লিজা
লিজি রহমান। জননিরাপত্তা, বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন লিজি। আট বছর আগে নিজের ছেলেকে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে হারানোর দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অন্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। কুইন্স বুলুবার্ডে সাইকেল চালাতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন তার ছেলে । সেই থেকে নিউইয়র্কের সড়কে বাইক লেন চালূ করার আন্দোলন করে আসছিলেন । আজ বিভিন্ন সড়কে আমরা যে আলাদা বাইক লেন দেখছি এটা লিজি রহমানের দীর্ঘ আন্দোলনের ফল। বাইকলেন ধরে যারা বাইক চালান সে সকল বাইকার রা লিজি রহমানের নাম না জানলেও বাইকলেনগুলো তাঁকে মনে রাখবে। তার কথা বলে যাবে।
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ঈদের ছুটি বাংলাদেশিদের আন্দোলনের ফল
নিউইয়র্কের স্কুল-গুলোতে ইদের ছুটির দাবি নিয়ে অনেক আগ থেকেই মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো আন্দোলন করে আসছিল তবে বাংলাদেশিদের হাত ধরেই এ আন্দোলনের সফলতা আসে। বাংলাদেশি কমিউনিটির সরব ভুমিকার পাশাপাশি অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (আসাল) এর গুরুত্বপুরণ ভূমিকা ছিল তাতে, আসাল এর সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করে আছেন বাংলাদেশি প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা মাফ মিসবাহ উদ্দিন। যা গনমাধ্যমে নিয়মিত ই স্বীকার করেছিলেন নিউইয়র্কের কর্তারা মেয়র ব্লাজিও থেকে শুরু করে সকলেই এ কৃতিত্ব বাংলাদেশিদের দেন। বাংলাদেশিদের অনুষ্টান ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্টানে গেলেই তারা এ বিষয় নিয়ে প্রসংগক্রমে আলোচনা এলে তার কৃতিত্ব বাংলাদেশিদের দিতে কার্পণ্য করেন না।
২০১২ সালের দিকে নিউইয়র্কের স্কুল গুলোতে ইদের ছুটি নিয়ে আসার কলকাটি টি নেড়েছিল আসাল ই .
এ সকল প্রসঙ্গে কবি মুখলেসুর রহমান বলেন বাংলাদেশিরা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অভ্যুদয় পরে সারা বিশ্বের মানুষের কল্যাণে নিজেদের ব্রতি করে দেন। সুকান্ত তার কবিতায় যে সচেতনতার ধান রোপণের কথা বলেছেন।সারা বিশ্বে সেই সচেতনতার ধান রোপন করে যাচ্ছেন বাংলাদেশি চাষারা।
সর্বশেষ সংবাদ
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity