‘বুদ্ধিতে, কৌশলে, জনকল্যাণে শেখ হাসিনার মত এ রকম আরেকজন নেতা পৃথিবীতে পাওয়া বড় কষ্টকর’ : নিউইয়র্কে অর্থমন্ত্রী মুহিত
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ‘শেখ হাসিনার মত সাহসী নেতৃত্ব টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে বাংলাদেশ অভ’তপূর্ব উন্নয়ন সাধনে সক্ষম হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার স্থিতাবস্থায় রাখার পাশাপাশি বৃদ্ধিতেও সক্ষম হয়েছি আমরা। এসব কারণে বলতে পারি ২০১৪/২০১৫ সাল থেকে আমার মনে একটা দারুন তৃপ্তি এসেছে। যে স্বপ্ন দেখতাম, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন, যা নিয়ে এক সময় অনেকে হাসি-ঠাট্টা করতো, অথচ এখন আমরা সেই সোনার বাংলার পথেই রয়েছি। গ্রাম-গঞ্জে এখন আর হাড্ডি-সারশূন্য মানুষ পাওয়া যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গাড়ি চালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। রাজধানী অথবা সিলেটে বিমান অবতরণের আগে জানলা পথে নীচে তাকালে উন্নয়নের চেহারা দৃশ্যমান হয় অবলিলায়। এবং এসব কারণে আমার ফিলিংসটা হলো, ‘অবশেষে যখন যাবোই এ পৃথিবী থেকে, তখন পরম তৃপ্তি নিয়ে যাবো যে, দেশের মানুষ সুখ-শান্তিতে রয়েছে’-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ৮৪ বছর বয়েসী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বসন্তকালিন বৈঠক শেষে ২২ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে প্রবাসীদের এক সমাবেশে বাংলাদেশের এগিয়ে চলার ঘটনাবলি বিবৃতকালে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আরেকটি টার্ম শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে পারলে দারিদ্রসীমা ১২% এ নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। চরম দারিদ্রের হার কমে ৭% এ আসবে। আর এই ৭% এর অধিকাংশই হবে চলাচলে অক্ষম কিংবা কাজে অক্ষম জনগোষ্ঠি, তাদেরকে সরকার অর্থ-সহায়তা দেবে। এমন সহায়তা সব দেশই দেয়।’ মুহিত বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তি ১০ বছর হচ্ছে বাংলাদেশের জন্যে স্বর্ণ যুগ।’

‘সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছিল বাহাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থমকে দাঁড়িয়েছিল সবকিছু। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৫ সালের জুলাই মাস থেকে মূলত: বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা স্থির রাখতে পারলেও উন্নয়ন ঘটেনি জনগোষ্ঠি কিংবা বাংলাদেশের। হাওয়া ভবন হয়েছিল লালে লাল। সে সময় বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ ও জ্ঞানী-গুণিদের জেলে নেয়া হয়। অকথ্য নির্যাতন চলে হাওয়া ভবনের অপছন্দের লোকজনের ওপর। এভাবে নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থি কর্মকান্ডে সমগ্র জনগোষ্ঠি বিষিয়ে উঠেছিল’-উল্লেখ করেন মুহিত।
২০০৯ সাল থেকে নানা প্রতিক’লতা সত্বেও বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রবীন এই রাজনীতিক মুহিত বলেন, ‘নিজের স্বার্থের ওপর দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। এটিই মূলমন্ত্র বাংলাদেশ এগিয়ে চলার। ১৯৮৬ সাল থেকেই আমি শেখ হাসিনার সাথে কাজ করছি। দীর্ঘ এ অভিজ্ঞতায় বলতে পারি যে, মানুষের সার্বিক কল্যাণে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কালক্ষেপণ করেন না বঙ্গবন্ধুর কন্যা। সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেই সবকিছুর সুফল পাচ্ছেন বাংলার মানুষ।’

‘আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, বঙ্গবন্ধুর পর আরেকটি নেতৃত্ব পেয়েছি, আর তিনি হলেন শেখ হাসিনা। আমার আরো সৌভাগ্য যে, আমি ওনার (বঙ্গবন্ধু) আমলেও উল্লেখযোগ্য ভ’মিকায় দায়িত্বপূর্ণ কাজ করেছি।’মুহিত বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ক্রমাগতভাবে উন্নত হয়েছে। ১০ বছর আগে যে শেখ হাসিনা ছিলেন, এখন আর ঐ শেখ হাসিনাকে পাবেন না। এখন বুদ্ধিতে, কৌশলে, জনকল্যাণে শেখ হাসিনার মত এ রকম আরেকজন নেতা পৃথিবীতে পাওয়া বড় কষ্টকর।’
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এ মতবিনিময় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এগিয়ে চলার ঘটনাবলির আলোকে আরো বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন। রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে শেখ হাসিনা ও তার সরকার বদ্ধপরিকর বলেই বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের গন্ডি পাড়ি দেবার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন বলেন, ‘নিকট প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচক সবক্ষেত্রে অগ্রগামী। এটি সম্ভব হচ্ছে উন্নয়নের সাথে সমগ্র জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করায়। আর সে কারণে অন্য দেশের মত বাংলাদেশে ধনী ও গরিবের ব্যবধান খুব বেশী নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছেছে।’ ড. মোমেন উল্লেখ করেন, ‘সবার কাছে উন্নয়ন পৌঁছেছে, মানবিক উন্নয়ন ঘটছে নিয়মতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বনের পরিপ্রেক্ষিতে।’
অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম খান সেলিম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা আকতার হোসেন, সৈয়দ বসারত আলী, লুৎফুল করিম, শামসুদ্দিন আজাদ, ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আবুল হাসিব মামুন, ফরিদ আলম, শাহানারা রহমান, খোরশেদ খন্দকার, মমতাজ শাহানা, তৈয়বুর রহমান টনি, এম এ মালেক, সাখাওয়াত বিশ্বাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শুরু হয় আতাউল গণি আসাদ কর্তৃক পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের পর। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে জাতিরজনক সহ তার পরিবারের সকল শহীদ সদস্য, জেল হত্যাকান্ডের শিকার জাতীয় ৪ নেতা, একুশে আগস্টে গেনেড হামলার ভিকটিমদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করেন সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আগে। এনআরবি নিউজ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!