Sunday, 14 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব‍্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন‍্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র‌্যালি’ নিউইয়র্কে সিএমবিএ’র ১৬তম ‘লিটল বাংলাদেশ ব্রুকলিন পথমেলা’ অনুষ্ঠিত Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
সব ক্যাটাগরি

ব্যালটে বাংলা চেয়ে নিউইয়র্কে মামলা দায়ের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 188 বার

প্রকাশিত: July 8, 2013 | 6:51 AM

মাহমুদ মেনন ও শিহাবুদ্দিন কিসলু, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বেশ তোড়জোড় চোখে পড়ছে। ১০ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচনের প্রাইমারি অনু্ষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে যেখানেই বাংলাদেশি কমিউনিটির কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে ছুটে আসছেন মেয়র থেকে শুরু করে সব পদের প্রার্থীরা।

 
ব্যালটে বাংলা চেয়ে নিউইয়র্কে মামলা দায়ের
বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থী জন লু -বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সংবাদপত্র অফিসগুলোতে ঘুরে ঘুরেও সহযোগিতা চাইছেন কেউ কেউ। সংবাদপত্রগুলোতেও দেখা যাচ্ছে এনডোর্স করার ঝোঁক। ভোট নিয়ে কমিউনিটির মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাস। কিন্তু বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হচ্ছে তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। অনেক আগেই সুযোগ থাকলেও এখনো ব্যালট পেপারে বাংলাভাষার ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এবারের নির্বাচনে যাতে ব্যালটে বাংলাভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় সেই চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত মামলা হয়েছে। এই মামলার উদ্যোক্তা এশিয়ান-আমেরিকান লিগাল ডিফেন্স এন্ড এডুকেশন ফান্ড (আলডেফ)। বাদী হিসেবে আরও রয়েছে ছায়া কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ও অ্যালায়েন্স ফর সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (অ্যাসাল)। গত ২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয় ১৯৬৫ সালের ভোটিং রাইটস অ্যাক্টের আলোকে। আইন মতে, কোনো এলাকার মোট ভোটারের ৫ শতাংশ কিংবা সর্বমোট ১০ হাজার ভোটার থাকলেই ব্যালট পেপারসহ সকল নথিতে সেই ভাষার ব্যবহার থাকতে হবে। এই আইনে দেওয়া অধিকারের ভিত্তিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যালট পেপারে বাংলাভাষার পক্ষে লড়াই করে আসছে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার নগর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় ব্যালট পেপারে বাংলা যোগ করার। এরপর কেটে যায় দুটি নির্বাচন। কিন্তু কারিগরি সমস্যার কথা বলে বাংলার ব্যবহারে গড়িমসি করতে থাকে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। তাই এবারের নির্বাচন সামনে রেখে সোচ্চার হয়েছে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো তারই ধারাবাহিকতায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এবারের ব্যালট পেপারে বাংলাভাষার ব্যবহার হবে বলেই তারা আশাবাদী। যদি তাই হয় নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টির ৬০টি পোলিং সেন্টারে ভোটাররা বাংলায় পড়ে ভোট দিতে পারবেন।  

উল্লেখ্য ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের পর ১৯৯৩ সালে প্রথম স্প্যানিশ ও চিনা ভাষা ব্যালট পেপারে যুক্ত করা হয়। আর ২০০১ সালে যুক্ত হয় ২০০১ সালে। কিন্তু বাংলাভাষার ব্যবহারেই চলতে থাকে অব্যাহত গড়িমসি।

নির্বাচন বোর্ডের এই গড়িমসির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আইনজীবীরা নির্বাচনে ভাষাগত সহায়তা দিয়ে বোর্ডের বার বার ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগই এনেছেন।

আলডেফ’র পরিচালক গ্লেন ডি ম্যাগপান্টে মামলা দায়েরকারী আইনজীবীদের একজন। তার মতে, ব্যালট পেপারে বাংলা ভাষা ব্যবহারের যথার্থ উদ্যোগ দেখা যায়নি। এবং আসছে সেপ্টেম্বরে ব্যালট পেপারে বাংলা দেখা যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়নি। ম্যাগপান্টের প্রত্যাশা এবারের মামলার পর আদালত সিটি কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে বাধ্য করবে।   

মামলার বাদী ছায়া সিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক সীমা আগনানির মতে, বিষয়টি নির্বাচন বোগ পুরো আমলাতান্ত্রিকভাবে পা টেনে টেনে এগুচ্ছে। এর ফলে অনেক বাংলাভাষি আমেরিকান তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ঝামেলায় পড়ছেন।

অপর বাদী আসাল এর ন্যাশনাল উইমেন কো-অর্ডিনেটর মাজেদা উদ্দিন বলেন, ব্যালট পেপারে বাংলাভাষা কোনো অযাচিত দাবি নয় এটি সম্পূর্ণ আইন সম্মত। তাই আমাদের প্রত্যাশা এবারের ব্যালটে বাংলা ভাষা থাকবে।

এ নিয়ে ছায়া সিডিসি’র কমিউনিটি এন্ড সিভিক এনগেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ রাসেল কে রহমান জানালেন, নির্বাচন বোর্ডের গড়িমসির কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে না। তারা যে কারিগরি সমস্যার কথা বলছেন তা খুব সহজেই সমাধানযোগ্য।

তবে বাংলায় নথিপত্রগুলো তৈরিতে নির্বাচন বোর্ডের কাছে সহজ বোধগম্য ভাষার ব্যবহারের আহ্বান জানান রাসেল কে রহমান।

তিনি বলেন, বোর্ড এর মধ্যে ভোটার নিবন্ধন ফর্ম বাংলায় প্রকাশ করেছে। যা এমনভাবে অনুবাদ করা হয়েছে যে অনেকেই তা বুঝতে পারেন না। সহজ ও বোধগম্য না হওয়ায় ইংরেজি পড়ে বাংলা বুঝতে হয় বলেও মত দেন রাসেল।

ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে ২০১২ সালের নভেম্বররের ভোটেও নির্বাচন বোর্ড বাংলায় ব্যালট সরবরাহে ব্যর্থ  হয়েছে। কিন্তু আগে থেকেই কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে এ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে ব্যালটে বাংলা ভাষার ব্যবহার না করার পাশাপাশি নির্বাচন বোর্ড নির্বাচন চলাকালে পোলিং সেন্টারগুরোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইন্টারপ্রেটর রাখতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন বোর্ডের মুখপাত্র ভেলেরি ভ্যাজকুয়েজের মত বোর্ড বরাবরই ভোটাধিকার আইনে দেওয়া বাধ্যবাধকতা মেনে চলার চেষ্টা করে। আগেই বলা হয়েছে ব্যালটে বাংলা ব্যবহারের জন্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে কিছু কারিগরি পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। এবং সে কারণেই এটি দেরি হচ্ছে। তবে নির্বাচন বুথগুলোতে যাতে বাংলা, হিন্দি ও পাঞ্জবি ভাষার পর্যাপ্ত ইন্টারপ্রেটর থাকে সে ব্যবস্থা আগেও করা হয়েছে এবারও করা হবে। পাশাপাশি বাংলাভাষার সংবাদপত্রগুলোতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV