ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যুরোধের গবেষণা টিমে বাংলাদেশী সৌখিন খান
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : চিকিৎসা বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারেও আমেরিকায় বিভিন্নভাবে গবেষণা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ২ লাখ ৫২ হাজার ৭১০ জন মহিলা ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা নেবেন। এ রোগে আক্রান্ত পুরুষের সংখ্যা ২৪৭০ জন। এর মধ্যে ৪০৬১০ মহিলা এবং ৪৬০ পুরুষ মারা যেতে পারেন এ বছর। অর্থাৎ ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনক। অনেকেই এ রোগ আমলে নিতে না চাওয়ায় ক্রমান্বয়ে তা বিস্তৃত হচ্ছে শরীরের অপর অংশে। তারই পরিসমাপ্তি ঘটাতে গত বছরাধিককাল চালানো হয় ‘এ্যাসপ্যারাজিন বায়োএভেইলিবিলিটি গভার্নস মেটাস্ট্যাটিস ইন এ্যা মডেল অব ব্রেস্ট ক্যান্সার’ ( Asparagine bioavailability governs metastasis in a model of breast cancer) শীর্ষক এই গবেষণা।
প্রাথমিক স্তরেই এই রোগ শনাক্তের পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে তার স্থায়ী নির্মূল করা যায় অথবা কীভাবে তার বিস্তৃতি রোধ করা সম্ভব-তা নিয়ে দীর্ঘ এক গবেষণার রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান মেডিক্যাল জার্নালে। আর ২১ সদস্যের এই গবেষক-টিমে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার ২১ তরুণ চিকিৎসা-বিজ্ঞানী। এর মধ্যে বাংলাদেশী-আমেরিকান সৌখিন খানও রয়েছেন।
মানবতার কল্যাণে অপরিসীম ভ’মিকা রাখতে সক্ষম এই গবেষণার ফেলোশিপ প্রদান করে ‘দ্য হোপ ফান্ড ফর রিসার্চ’। ক্যান্সার সেন্টার সাপোর্ট গ্র্যান্ট (৫পি৩০সিএ০৪৫৫০৮) এর সার্বিক সহায়তায় ছিল যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার রিসার্চ, ক্যামব্রিজ ইন্সটিটিউট প্রটিউমিক্স কোর ফ্যাসিলিটি। এই গবেষণা কর্মকে অব্যাহত রাখতে স্থায়ী ফেলোশিপ প্রদান করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার হিউম্যান ফ্রন্টিয়ার সাইয়েন্স প্রোগ্রাম।
এ রোগ ধরা পড়ার পর সর্বোচ্চ ৫ বছর বেঁচে থাকেন ৯৯% রোগী। আর যদি ধরা পড়ার আগেই তা বিস্তৃত হয় দেহের অপর অংশে তাহলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে ২৬% হয়।
নিউইয়র্কে বসবাসরত জামালপুৃর জেলার মাদারগঞ্জের সন্তান শাহীন খান ও নাসরীন শিল্পীর জ্যেষ্ঠ পুত্র নিউইয়র্কে হাওয়ার্ড হাজেস মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটে ওয়াটসন স্কুল অব বায়োলজিক্যাল সাইয়েন্সেসের ছাত্র তরুণ বিজ্ঞানী সৌখিন খান এনআরবি নিউজকে বলেন, প্রত্যেকটা এঞ্জাইম হচ্ছে একেক ধরনের প্রোটিন। খাদ্যাভাসের ওপর প্রোটিনের সজীবতা নির্ভর করে। আমরা এ গবেষণায় চেষ্টা করেছি খাদ্যাভাসে ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিস্তার কীভাবে ঘটে এবং বংশানুক্রমে অথবা অন্য কোনভাবে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মৃত্যু কীভাবে ঠেকানো যায়।
সৌখিন খান বলেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে সারা দুনিয়াতেই উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বেড়েছে। এ্যাসপ্যারাজিনের প্রভাব বেশী থাকলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের জার্ম সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার রোগিকে বাঁচানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ এ্যাসপ্যারাজিন বেশী থাকার অর্থই হলো মেটাস্ট্যাটিসের আশংকা প্রবল হওয়া।
সৌখিন খান উল্লেখ করেন, জীনের মাধ্যমে এ্যাসপ্যারাজিনের প্রকাশ ঘটছে নানাভাবে, কারণ প্রত্যেকটা জীন জৈব রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার বাহন হিসেবে কাজ করে থাকে।
গবেষণা কর্মের আলোকে সৌখিন খান বলেন, অনেক রোগী কিমো থেরাপি নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি তাদের খাদ্যাভাসেও পরিবর্তন আনা জরুরী। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নেই।
এই গবেষণার দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকবেন না সৌখিন খান। এটি জানিয়ে বলেন, অন্যেরা অব্যাহত রাখবেন এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের জীবানু দেহের অপর অংশে বিস্তৃত না হতে পারে-তেমন পন্থা অবলম্বনের একটি কৌশল খুঁজবেন তারা। এ ব্যাপারে সৌখিন খান প্রচন্ড আশাবাদি।
এই গবেষণা টিম কেবলমাত্র এ্যাসপ্যারাজিন এবং মেটাস্ট্যাটিস নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছে। আর এই গবেষণা কর্মকে সঠিক হিসেবে নিরূপণের অভিপ্রায়ে ইঁদুরের ওপর নির্ভর করেছেন তারা।
কোন একটা মেটাবলিক পন্থার মাধ্যমে জীন থেকে এ্যাসপ্যারাজিনের প্রকাশকে রুদ্ধ করা যায়, এবং যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এ্যাসপ্যারাজিন আর তৈরী হচ্ছে না, তাহলেই ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করলেও এ নিয়ে গবেষণার অবকাশ রয়েছে। এই গবেষণা টিম হয়তো দ্বিতীয় ধাপে সে পরিকল্পনায় এগুবেন বলে সকলের ধারণা।
এই টিমের সদস্যরা ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের সাইমন আর ভি নট, নিকলাস ইরার্ড, ইভাঞ্জেলিয়া কে পাপাক্রিস্টো, ক্লিভ এস ডি’সান্টোস, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত নিউইয়র্ক জিনোম সেন্টারের সৌখিন খান এবং গ্রেগরী জে হনন, সান ওয়াই কিম, মার সটো, আনিকা এল গ্যাবোল, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর এলভিন ওয়াজেনব্লাস, হ্যানি গুডারজি, জর্জ পোলজিয়ানিসিস, যুক্তরাষ্ট্রের লিসা এ ক্যারি প্রমুখ।
যুুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠা বাংলাদেশী প্রজন্মের অনেকেই নানা ক্ষেত্রে অপরিসীম মেধার পরিচয় দিচ্ছে। সৌখিন খান তাদের অন্যতম। সৌখিনের ধারণা, দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশীরাই একসময় তাদের মা-বাবার জন্মস্থানকে মহিমান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।এনআরবি নিউজ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!