Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

পবিত্র মক্কা মদীনায় স্মরণীয় দিন গুলো

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 185 বার

প্রকাশিত: February 6, 2018 | 12:28 PM

আহবাব চৌধুরী খোকন : আমাদরকে বহনকারী এয়ার ক্রাফ্টটি যখন সৌদীআরবের জেদ্দা এয়ারপোর্টে অবতরণ করলো তখন ঘড়িতে বিকেল ৪ ঘটিকা । জেদ্দা এয়াপপোর্টের গল্প অনেকবার শুনেছি কিন্তু এবারই প্রথম দেখার সুযোগ হলো। পবিত্র উমরা পালন এবং হুজুর (সঃ) রওজা শরিফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে  গত এপ্রিল মাসে (২০১৭) সালে ) সৌদী আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদীনায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার । সাথে প্রিয়তমা পত্নী এবং প্রিয় পুত্র-কন্যাগন। আমরা যখন নিয়ইয়র্ক থেকে সৌদী আরবের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছিলাম তখন ও নিউইয়র্কে কন কনে শীত ।কিন্তু সৌদী আরব নেমে দেখলাম প্রছন্ড গরম । প্লেন থেকে নেমে মনে হলো যেন গায়ে আগুনের পুস্কা লেগেছে। ইত্তেহাদ এয়ার ওয়েজের ফ্লাইটটি আবুদাবি যাত্রা বিরতি দিয়ে সৌদী আরব যাবে । নিয়ম অনুযায়ী ওমরা পালন করতে হলে আবুদাবীতে এহরামের কাপড় পরে নিতে হয় । আমাকে তাই করতে হলো । আবুদাবি এয়ারপোর্টে নেমে গোসল করে এহরামের কাপড় পরে নিলাম। নিউইয়র্ক থেকে আবুদাবির উদ্দেশ্যে আমরা যে এয়ার ক্রাফ্টে  উঠেছিলাম তখন প্লেনের আরোহীরা ছিলেন মিক্স কিন্তু আবুদাবী থেকে জেদ্দাগামী প্লেনে উটে মনে হলো এই ক্রাফ্টটের সকল আরোহীরাই মুসলমান এবং হাজী। আবুদাবী থেকে জেদ্দা মাত্র দুই ঘন্টার পথ । তাই বেশীক্ষন লাগলো না ।আমরা দেখতে দেখতে যেনো জেদ্দা এয়ারপোর্টে পৌছে গেলাম। প্লেনে উটেই ওমরার নিয়ত করে নিয়েছিলাম। ক্রাফ্টবর্তী  হাজীদের মধ্যে আমরা মাত্র দুটি পরিবারই আমেরিকা থেকে যাচ্ছি। বাকী  বেশীর ভাগই  মিশরীয় । বেশ কয়েকটি দলে বিভক্ত এই সকল  হাজীরা দুই ঘন্টার এই যাত্রাকালে সারাটি পথ জুরে জুরে পড়ছিলেন  হ্বজের নিয়ত। লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক ।লাব্বায়েক লা শরিকা লাকা লাব্বায়েক। ইন্নাল হামদা-লাকাওয়াল মুল্ক । লা শরীকালাকা লাব্বায়েক । কিন্তু সৌদী আরবের জেদ্দা এয়ারপোর্টে নেমে যতোটা খুশী হয়েছিলাম ততোটাই বিরক্ত হলাম যখন দেখলাম প্রায় ঘন্টা খানেক  লাইনে দাড়িয়ে ইমিগ্রেশন  করার পর আমাদের লাগেজ এসে পৌছেনি । এই সমস্ত দেশে ভ্রমনে একটি সমস্যা হলো  ইমিগ্রেশন ডেক্সে যারা কাজ করেন তারা ইংরেজী জানে না । জানে কেবল আরবী  । ফলে এদেরকে বুঝানো খুব কঠিন । তবে এয়ারপোর্টের  ব্যাগেজ ডিপার্টমেন্টে যারা  কাজ করে তারা প্রায় সবাই বাঙ্গালী এবং বেশ আন্তরিক । একজনের সাথে আলাপ করে জানলাম জেদ্দা এয়রপোর্টে নাকি দুটি টার্মিনাল আছে ।একটি ইনটারন্যাশনাল আর অপরটি ডমেষ্টিক । আমরা ডমেষ্টিক টার্মিনালে ইমিগ্রেশন করেছি কিন্তু আমাদের ল্যাকেজ গুলো ভুল ক্রমে চলে গেছে ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনালে  ।এখন এগুলো ফেরত আসতে নাকি আরো দেড় দুই ঘন্টা সময় লাগবে । এখন কি আর করা । ততোক্ষন এয়ারপোর্টে বসে আর নামাজ পড়েই কাঠাতে হলো । শুধু আমরা নয় আরো অনেকেই পড়েছেন দেখলাম এমন বিড়ম্বনায় । অবশেষে ব্যাগেজ ফিরে আসার পর আমরা একটি ল্যাঞ্জ রবার জিপে করে রওয়ানা দিলাম মক্কার উদ্দেশ্যে ।
মক্কায় হেরেম শরিফের কাছেই ছিলো আমাদের হোটেল ইলাফ আজাদ ইন্টারন্যাশনাল। চার তারকা বিশিষ্ট এই হোটেলটি একটু হিলের মাঝে অবস্থিত হলেও ভিতরের পরিবেশ ছিলো খুবই চমৎকার। দুই রুমের একটি স্যুইট । মক্কায় আজাদ হোটেলে এসে যখন পৌছি তখন রাত প্রায় সাড়ে নয়টা  ।এয়ারপোর্টে নেমেছিলাম বিকাল ৪ ঠায় আর হোটেলে এসে পৌছিলাম রাত সাড়ে  ৯টায় । আমাদের গাইড়  জকিগঞ্জের হাফিজ রকিব উদ্দিন । খুব ভালো মানুষ । জেদ্দায় নেমেই উনার সাথে ফোনে  কথা হয়েছে ।উনি বললেন আপনারা একটু রেষ্ট নেন । আমি রাত ১ঠার দিকে হোটেলে আসবো । রাত ১ঠয়  উনি যথা সময়ে আসলেল এবং আমরা রওয়ানা হলাম কাবা শরীফের উদ্দশ্যে ।কাবা শরিফ থেকে আমাদের হোটেল ছিলা ৭/৮ মিনিটের পথ । আমরা যখন কাবা শরীফের দিকে যাচ্ছি তখন চোখে পড়লো হাজার হাজার হাজীদের স্রোত । মহিলা পূরুষ শিশু কিশোর সকল বয়সের লক্ষ লক্ষ মানুষ কেউ আসছে আবার কেউবা আমাদের মতো যাচ্ছে ।কাবা শরিফের ভিতরে পৌছে মনের মাঝে এক অন্য রকমের অনুভুতি কাজ করছিলো ।দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালাম । একমাত্র ছেলে রাইয়ানকে বুকের সাথে বেঁধে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আল্লাহর ঘর তওয়াফ করা শুরু করলাম । কাবা শরীফের চতুর দিকে ঘুরাকে তওয়াফ বলে । তওয়াফ সাতবার করতে হয় । তওয়াফের সময় রকিবভাই জুরে জুরে দোয়া পড়ছিলেন  আর আমরা তাকে অনুকরণ করছিলাম ।কাবা শরীফের গিলাপ ধরে আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দোয়া করলাম । মা বাব আমাদের সন্তান সন্ততি,আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী আর মুসলিম জাহানের জন্য দোয়া করলাম ।কাবা শরীফে সাতবার তওয়াফ করার পর গেলাম সাফা মারোয়ায় । সাফা মারোফায় আরো সাত বার দৌড়াতে হয় । প্রায মাইল খানেকের এই সাফা মারোয়া দৌড়ে মনে হলো হ্বজের মধ্যে এটি একটি কঠিন কাজ । শক্তি সামর্থ না থাকলে এই কাজটি সবাই পারবে না। সাফা মারোয়ায় আমাদের দৌড়ানো শেষ হলো আর ফজরের আজানও পড়লো। শেষে এখান থেকে জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। উমরা শেষ হলে মাথা মুন্ডন করতে হয় । ফলে মাথা মুন্ডন করে সোজা চলে গেলাম হোটেলে।দ্বিতীয় দিন দুপুরে হোটেলে বিশ্রাম  নিচ্ছি এমন সময় দেখি ভাগিনা মিজান এসে হাজির। মিজান আমার গিন্নির এক ভাগিনা । থাকে জেদ্দায় ।২০০২ সালে একবার দেখা হয়েছিলো মিজানের সাথে  ।বাড়ী হবিগঞ্জে । মিজানকে সাথে নিয়ে একসাথে জামায়াতে আছর এবং মাগরিব এবং এশার নামাজ আদায় করলাম। এশার নামাজ শেষে মিজান জোর করে আমাদেরকে নিয়ে গেলেন জেদ্দায় । জেদ্দা আমার দেখা সুন্দর একটি শহর ।তবে পথিমধ্যে ড্রাইভারের গাড়ী চালানো দেখে ভয় পেয়েছিলাম ।সারাটি পথ মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে  সৌদী বংশদ্ভূত এই ড্রাইভার  ১২০ মাইল ভেগে যেভাবে গাড়ী চালাচ্ছিল ভয় না পেয়ে কি উপায় আছে ?  সারা রাত জেদ্দার সুন্দর সুন্দর দর্শনীয় জায়গা গুলো বিশেষ করে জেদ্দার বলদ, গুলাইল,আলবাওয়াদী ইত্যাদি স্থান গুলো দেখে এবং কিছু কেনা কাঠা করে মিজান আমাদেরকে রাতের খাবার খাওয়াতে নিয়ে গেলেন ওবর কার্ণেশ নামের আরব সাগরের পাড়ে ।এটি লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ।খোলা আকাশের নীচে সুন্নতী কায়দায়  বসে আরবীয় ফুড় খেতে ভালোই লেগেছে  । জেদ্দায় দেখা হলো মিজানের বড়ভই হেলালমামার সাথে ।হেলালমামা আমাদেরকে নিয়ে  গাড়ী ড্রাইভ করে জেদ্দা শহর ঘুরে দেখালেন । দেখলাম অনেক লোকজন এরকম খাবারদাবার নিয়ে চলে এসেছে সাগর পাড়ে  । জেদ্দায় দেখা হলো আমাদের কমিউনিটির অনেক মানুষের সাথে ।আলাপ করে বুঝতে পারলাম তারা আমাদের থেকে আরামে থাকলেও মানষিক শান্তি কম ।এখানকার মানুষের মধ্যে আজনবি এবং গজনবি নামে বৈসম্য  আছে ।আছে মানুষের মাঝে সামাজিক বৈষম্য ।রাত তিনটার দিকে আমরা জেদ্দার আরো কিছু দর্শনীয় জায়গা দেখে দেখে রওয়ানা হলাম মক্কার উদ্দেশ্যে । গল্প করতে করতে আমরা যখন মক্কা পৌছি তখন চারিদিক থেকে কানে আসলো ফজরের আজানের ধ্বনি । কিন্তু লক্ষ লক্ষ হাজীদের ভীড় টেলে তখন মসজিদে যাওয়ার কোন উপায় ছিলো না ।ফলে আমরা রাস্তার উপরই দাঁডিয়ে অন্যান্য হাজীদের সাথে জামাতে ফজরের নামাজ পড়ে নিলাম। আমাদেরকে হোটেলে ড্রপ করে উনারা চলে গেলেন গন্তব্যের পথে ।
মক্কা ও মদীনায় অবস্থান কালে  স্ত্রী ও সন্তানদেরকে সাথে নিয়ে প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ার চেষ্টা করেছি ।লক্ষ লক্ষ হাজীদের সাথে এত বিশাল বিশাল জামায়াতে অংশ নিতে পেরে মনে খুব শান্তি পেয়েছি  । মক্কায় অবস্থাল কালে তৃতীয় দিন আমার সাথে দেখা করতে আসলেন ফেঞ্চুগন্জ কলেজের এক সময়ের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সৌদীআরব প্রবাসী সংগঠক ও ব্যবসায়ী তসলিমুল ইসলাম রুমেল, চতূর্থ দিন আসলেন হৃদয়ে ফেঞ্চুগন্জ আন্তজাতিক অন লাইন গ্রুপের সিনিয়ার সহ সাধারণ সম্পাদক স্নেহাস্পদ সুমেল আহমদ খান সহ আরো দুজন । একেক জনের সাথে অনেক বছর পর দেখা হলো। প্রবাসের এই ব্যস্ততার মাঝে তাদের এই আন্তরিকতা ও আতিথিয়তা আমাকে মুগ্ধ  করেছে ।তাছাড়া রিয়াদ থেকে আমার বন্ধু শাহাবুদ্দিন খালেদ, মদিনা থেকে হৃদয় ফেঞ্চুগন্জ আন্তজাতিক অন লাইন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ,ফেঞ্চুগঞ্জের সাবেক ছাত্রনেতা স্নেহাস্পদ মান্নাসহ আরো অনেককেই ফোন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে আমার সুবিধা অসুবিধার খবর নিয়েছেন। মক্কা অবস্থান কালে তৃতীয় রাতে আমরা দেখতে গেলাম আয়শা মসজিদ ।এই মসজিদের অপর নাম মসজিদে তানঈম ।অত্যান্ত সুন্দর এই মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে । মক্কা থেকে উমরা করতে হলে হাজীদেরকে এই মসজিদে গিয়ে নিয়ত করে নিতে হয ।
মক্কায় অবস্থানের শেষ দিনে দেখা করতে এসেছিলো আমার  প্রিয় বন্ধু শাহিন । শাহিনের বাড়ী পুরানবাজারে ।অনেক দিন থেকে জেদ্দায় আছে । শাহীনকে সাথে নিয়ে এক সাথে জোহরের নামাজ আদায় করলাম এবং কাবা শরীফে বিদায়ী তওয়াফ করে নিলাম । প্রায় সতের বছর পর আমাদের দেখা  ।শাহিনের সাথে রুমে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছি আর গল্প করছি এমনি সময় রফিক ভাইয়ের ফোন পেলাম । রফিকভাই বার্মিজ মুসলমান (রোহিঙ্গা) ।প্রাইভেট টেক্সি চালান।।আজ তিনি আমাদেরকে মদিনা নিয়ে যাবেন । যাওয়ার সময় দেখিয়ে নেবেন মক্কার ঐতিহাসিক স্থান গুলো । শাহিনের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে আমরা রওয়ানা হলাম মদিনার উদ্দেশ্যে ।বিদায়ের আগে স্বপরিবারে জিয়ারত করে নিলাম জান্নাতুল মুয়াল্লা ।মক্কা শরীফের কবর স্থান ।বহু গৌস কুতুব অলি আউলিয়া শুয়ে আছেন এই কবর স্থানে ।রফিকভাই এখান থেকে আমাদেরকে গাড়ী চালিয়ে প্রথমেই নিয়ে গেলেন একটি গুহা দেখাতে । নাম জাবালে ছহর । কতিত আছে যে হিযরতের সময় মহানবী সঃ ও হযরত আবু বক্কর রাঃ সহ অন্যান্য সাহাবীগন এই গুহায় তিন দিন অবস্থান করেছিলেন ।জাবালে নুর -মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল দুরে অবস্থিত জাবালে নুর ।এটি একটি পাহাড় ।এই পাহাডের সর্বচ্ছ ছুড়ায় অবস্থিত একটি গুহাকে বলা হয় গারে হেরা বা হেরা গুহা ।হযরত মোহাম্মদ মস্থফা সঃ নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে এখানে এসে ইবাদত করতেন । এই গুহায় সর্ব প্রথম ওহি নাযিল হয়েছিলো ।তারপর গেলাম আমরা আরাফাত ময়দান দেখতে ।কতিত আছে হযরত আদম আঃ এবং বিবি হাওয়া জান্নান থেকে পৃথিবীতে আসার পর এই ময়দানে দুজনের মধ্যে প্রথম সাক্ষাত গঠেছিলো ।তারপর গেলাম মিনায। হ্বজের সময় মিনায় এসে হাজীদেরকে দুই দিন তাবুতে থাকতে হয় ।দেখলাম সাদা সাদা তাবুতে আচ্ছাদিত পুরো মিনা প্রান্তর ।এখানে রয়েছে একটি প্রসিদ্ধ মসজিদ ।নাম মসজিদে খায়েফ  ।এই ভাবে একের পর এক মুসলিম নিদর্শন গুলো দেখার পর আমরা রওয়ানা হলাম মদিনার পথে । আমাদের ড্রাইভার রফিকভাই খুব ভালো এবং পরেজগার মানুষ ।ভালো বাংলা বলতে পারেন না । বললেন ৪০ বছর যাবৎ সৌদী আরব আছেনআমাদের গাড়ী ধীর গতিতে এবার রওয়ানা হলো মদিনার পথে ।ড্রাইভারকে আগেই বলা ছিলো গাড়ী আস্তে চালাতে হবে । আমাদের গাড়ী এগিয়ে চলছে মদিনার পথে । যে দিকে চোখ যাচ্ছে দেখলাম শুধু ধু ধু মরু প্রান্তর ।যেন পাথর আর পাথর ।বালি আর বালি।শুধু মাত্র খেজুর গাছ ছাড়া আর কিছুই নেই এখানে । পথিমধ্যে আছর এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করে আমরা যখন মদিনা সিটিতে পৌছি তখন রাত ৯ঘটিকা । মদিনা খুব সুন্দর ও আলোকোজ্জল সিটি । আমার মেয়েরা বলছিলো বাবা মনে হচ্ছে যেন ম্যানহাটন সিটিতে এসেছি । আসলে মদিনা সিটি দেখতে পৃথিবীর উন্নত সিটি গুলোর মতোই অত্যাধুনিক এবং আকর্ষনীয  ।ইসলামের ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে মদিনার সুন্দর্য়ের বিবরণ আগে বই পুস্তকে পড়েছিলাম এবার স্বচক্ষে অবলোকন করলাম ।মদিনায় আমাদের হোটেল সারাইয়া তাবা ।মসজিদে নববীর ৩৭ নম্বর গেইটের মুখে অবস্থিত । পাঁচ তারকা বিশিষ্ট এই হোটেল দেখে মনে হলো সদ্য তৈরী একটি প্রাসাদ ।রাত ১২টায় বের হলাম মসজিদে নববীতে নবী করিম (সঃ) রওজা শরীফ জিয়ারত করতে । মদিনা মসজিদ আমার এযাবৎ দেখা মসজিদ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ । এই মসজিদের প্রতিটি  দরজা এবং জানালায় স্থাপত্য শৈলির এমন সব নিদর্শন রয়েছে দেখলে মনে হয় যেন এর প্রতিটি দরজা ও জানালা স্বর্ণে মোড়ানো ।মসজিদে নববীর এই নিখুঁত  স্থাপত্য  শৈলি দেখে খুবই ভালো লাগলো  ।মসজিদের বাহিরে চারি  দিকে রয়েছে বিশাল উন্মুক্ত প্রাঙ্গন আবার এই প্রাঙ্গনের উপরে রয়েছে বিশাল বিশাল আকৃতির অনেক গুলো সবুজ ছাতা ।মসজিদের ভিতরে ছোট একটা জায়গা রয়েছে ।যেটাকে বলাহয় রিয়াজুল জান্নাহ বা বেহেস্তের টুকরা ।এই স্থানটি দাঁডিয়ে নামাজ পড়ার নাকি অনেক ফজিলত । কিন্তু প্রচন্ড ভিড়ের মাঝে জায়গা পাওয়া খুব কঠিন ।শেষ রাতে অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর সুযোগ পেলাম বেহেস্তের এই টুকরোটিতে ঢুকার । এখানে  দুই রাকাত নামাজ পড়ে খুব শান্তি পেলাম  ।অবশ্য যে তিন দিন মদিনায় ছিলাম বেশ কয়েক বারই দেখার এবং নামাজ পড়ার সুযোগ নিয়েছি পবিত্র এই স্থানটিতে ।তারপর সুযোগ নিলাম নবিজীর প্রথম কুতবা দেওয়ার স্থানটি হাত দিয়ে ছোয়ে দেখার ।শেষ রাতে ভিড় কম থাকাতে কিছুক্ষন বসে রইলাম মহাপবিত্র এই স্থানটিতে । চারি দিকে নানা রংয়ের ও বর্ণের হাজারো মানুষ  ।সবার লক্ষ্য একটাই মহানবী সঃ এর স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র এই স্থানটি দেখার ।মসজিদের ভিতরে  রয়েছে নবী করিম (সঃ) এর রওজা মোবারক । তাঁর দুই পাশে ইসলামের প্রথম ও দ্বিতীয় খলিফা হযরত আবু বক্কর রাঃএবং হযরত উমর রাঃ এর রওজা । হাজী সাহেবের প্রচন্ড ভিড় ঠেলে নবী করিম (সঃ)এর রওজা শরীফের পাশে দাড়িয়ে অসংখ্য সালাম ও দুরুদ আদায় করে  নিলাম নবী করিম( সঃ)এর সম্মানে যে মহানবীর উম্মত হিসাবে গর্ভিত আমরা  ।
মদীনা অবস্থানের শেষ দিনে  কামালভাই আমাদেরকে নিযে গেলেন  মদীনার দর্শনীয় স্থান গুলো দেখাতে ।কামালভাই কানাইঘাটের (সিলেট ) লোক । অনেক দিন থেকে মদীনায় আছেন  ।তিনি আমাদেরকে মদিনার ঐতিহাসিক স্থান গুলো এক এক করে দেখালেন ।কুবা মসজিদ -মহানবী সঃ মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করে যে মসজিদটি নির্মান করেছিলেন সেটি হচ্ছে কুবা মসজিদ ।কতিত আছে যে ঘর থেকে ওজু করে এসে এখানে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়লে নাকি একটি ওমরার ছওয়াব পাওয়া যায় ।নবী করিম সঃ প্রতি শনিবার পায়ে হেটে মসজিদে কুবায় এসে দুই রাকাত সালাত আদায় রকতেন ।মসজিদে ফাত্তাহ-এখানে সাতটি মসজিদ ছিলো ।পরবর্তীতে সব গুলো ভেঙ্গে এখানে একটি মসজিদ করা হয়েছে ।মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই রিবলার মসজিদ-এখানে নামাড পড়ারত অবস্থায় মসজিদের কিবলা আল্লাহর নির্দেশে বাইতুল মুকাদ্দাস থেতে কাবা শরীফের দিকে পরিবর্তন হয়। মসজিদে মিকাত, মসজিদে জুমা,মসজিদে গামামাহ, মসজিদে আবু বক্কর, ও মসজিদে বেলাল ইত্যাদি ইসলামের প্রসিদ্ধ স্থান গুলো দেখে নিলাম।মদীনা অবস্থান কালে দেখা হলো সেখানকার সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত অসংখ্য বাঙ্গালী শ্রমিকের সাথে ।যারা এই প্রছন্ড গরমের মাঝে রাস্তা ক্লিনিংয়ের কাজ করে থাকেন। আলাপ করে মনে হলে খুব মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা ।তাদের অনেকের সাথে কথা ও পরিচয় হলো।এদের মধ্যে একজন। নাম শাহাবুদ্দিন ।দেশের বাড়ী ফেনী। বললেন সারা মাসে বাংলাদেশী টাকায় বারো হাজার টাকা রুজী করেন।  থাকা ফ্রী।তবে খাওয়া নিজের । খুঁজে বের করলাম ঢাকা রেষ্টুরেন্ট। পরিচয় হলো এই রেষ্টেরেন্টের মালিকের  সাথে। ভদ্রলোকের বাড়ী কুমিল্লায় । রেষ্টেরেন্টের  পরিবেশনা কিছুটা নোংরা মনে হলেও খাবারের মান খারাপ না। মদীনায় থাকাকালীন সময়ে প্রতিদিনই রাতের খাবার এখানে খেয়েছি ।মদিনায় বাঙ্গালী মার্কেট ঘুরে দেখলাম। তুলনামুলক ভাবে এখানে জিনিষের দাম কিছুটা সস্তা। এখানকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্টানে রয়েছে বাংলা সাইন ও দেশীয় নাম।রাতে নিউইয়র্ক ফিরে আসবো। ভাবলাম প্রিয় মহানবীর রওজা শরীফটা শেষ বারের মতো দেখে নেই। এমন সময় মনোয়ারভাই  ফোন করলেন। পুরো নাম মনোয়ার হোসেন। মদীনা সিটি শ্রমিকলীগের সভাপতি। দেশের বাড়ী সিলেটের মোগলাবাজারে। উনি বেশ কিছু নেতাকর্মী  নিয়ে হোটেলে এসেছেন। বুঝলাম হৃদয়ে ফেঞ্চুগন্জ আন্তর্জাতিক অন লাইন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদের বন্ধু তিনি। আমি এসেছি শুনে আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন। আমি উনাকে বললাম আপনি হোটেলের লবিতে একটু বসুন আমি আসতেছি । কিন্তু আমার গিন্নি তখন ছোট মেয়েকে নিয়ে মসজিদে নববীতে ঢুকেছেন। উনি বের হচ্ছেন না আর আমিও ভদ্র লোকের সাথে দেখা করতে হোটেলে যেতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত উনারা অনেকক্ষন অপেক্ষা করে মসজিদে নববীতে আসলেন আমার সাথে দেখা করতে।  উনাদের সাথে মসজিদের বাহিরে বসে অনেকক্ষন কথা  হলেও সময়ের অভাবে কোন আতিথিয়তা দেখাতে পারিনি বলে  খুবই লজ্জিত হয়েছি। এই দিন রাত ১১ ঘটিকায় আমরা আবারো ইত্তেহাদ এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে চেপে রওয়ানা হলাম নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে। আমার এই সৌদী আরবে ভ্রমন, আল্লাহর ঘর তওয়াফ এবং নবী করিম (সঃ) এর রওজা মোবারক জিয়ারতের সুন্দর মুহুর্তটি মনে থাকবে অনেক কাল।
লেখক-সংগঠক সমাজকর্মী ও কলাম লেখক, নিউইয়র্ক ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV