Saturday, 27 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা ভালো নেই!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 57 বার

প্রকাশিত: July 29, 2017 | 12:38 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা এখন আর ভালো নেই। বিদেশে তারা নানাবিধ সংকটে দিন কাটাচ্ছে। কয়েক বছর আগে থেকে চলা অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া, যুদ্ধবিগ্রহ, ইউরোপজুড়ে মারাত্মক অভিবাসন সংকট, অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত দেয়ার চাপ ও ব্যাপক ধরপাকড় এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে পদে পদে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন প্রবাসীরা। আবার দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় নানা জটিলতা মোকাবিলা করে বাধ্য হয়ে বিদেশে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশিরা। শুধু তাই নয়, বিদেশে কর্মসংস্থান ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসা এবং আয় কমে যাওয়ায় প্রবাসীদের সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর সংখ্যা বাড়লেও রেমিট্যান্স বাড়েনি, বরং কমেছে। এছাড়া গত ৫ মাস ধরে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে জনশক্তি রফতানি। গত মার্চে এক লাখ ৬ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান হলেও পরের মাসগুলোকে কমতে শুরু করেছে। এতে দেখা যায়, গত এপ্রিলে বিদেশে গেছে ৯৫ হাজার কর্মী, মে’ মাসে গেছে ৮৩ হাজার কর্মী, জুন মাসে গেছে ৬৮ হাজার কর্মী এবং চলতি মাসে যাবে ৬৬ হাজার কর্মী। তবে সৌদি আরব, ওমান ও কাতারে যেসব কর্মী এখন যাচ্ছে তাদের একটি বড় অংশ সেখানে মাসের পর মাস কাজ পাচ্ছে না। তারা বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে ধরনা দিচ্ছে। অনেকেই অভিবাসন ব্যয়ের সঙ্গে আয় নগণ্য দেখে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসছেন। আবার অনেকে কর্মরত কোম্পানিতে মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশেও হেইট ক্রাইমে হত্যা ও এসিড সন্ত্রাসে আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশিরা।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলায় লাখ লাখ অভিবাসী জীবন বাজি রেখে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢুকে পড়ছেন। এসব অভিবাসীর চাপ সামলাতে টালমাটাল ইউরোপ ও তাদের রাজনৈতিক অঙ্গন। এ অবস্থায় ইউরোপে অবৈধভাবে থাকা ৯৩ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ইইউ। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশকে মারাত্মক চাপে রেখেছে ইইউ। এসব অবৈধদের ফেরত না নিলে, বাংলাদেশিদের নতুন করে ইউরোপের ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসার হুমকিও রয়েছে। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি বাণিজ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়বে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউরোপ থেকে পর্যায়ক্রমে সব বাংলাদেশিকে ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিবাসন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে অবৈধ বাংলাদেশি যেখানেই থাকুক, ফেরত নেয়া হবে।

এদিকে সৌদি সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরে আসার আবেদন করেছেন বলে সোমবার এ খবর দিয়েছে সৌদি গেজেট। এর মধ্যে ৪৫ হাজার বাংলাদেশি স্বদেশে ফেরার প্রক্রিয়া সৌদি আরবেই সম্পন্ন করেছে। এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন। আগামী সোমবার সৌদি সরকারের সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সৌদি গেজেটের জানায়, সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের আরার এবং দক্ষিণাঞ্চলের আসির অঞ্চলসহ সর্বত্র স্বদেশে ফেরত উচ্ছুক কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মালয়েশিয়াতেও ভয়াবহ সংকটে রয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি কর্মী। দেশটিতে ৩০ জুন শেষ হওয়ায় সাধারণ ক্ষমার সুযোগটি গ্রহণ করেননি তারা। ফলে ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যাপক অভিযানে নামে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। মাত্র তিন দিনে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী আটক করে পুলিশ। পরে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে আপাতত গ্রেফতার অভিযান ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখে মালয়েশিয়ান সরকার। ডিসেম্বরের পরপরই আবারো জোর গ্রেফতার অভিযান চালাবে দেশটি। সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ আর বাড়াবে না দেশটি। তখন সে দেশে কর্মরত অবৈধ আড়াই লাখ বাংলাদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠাতে কোনো বাধা থাকবে না। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ার মুদ্রার বিনিময়মূল্য কমে যাওয়ায় প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর আয়ও কমে গেছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোতে, বিশেষ করে জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ৯০ ভাগ অর্থনীতির জোগান আসে জ্বালানি তেল রফতানি করে। আর এই অর্থ দিয়েই তারা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এবং এসব প্রকল্পে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করেন। আর্থিক সংকটে এসব দেশে এখন নতুন প্রকল্প কমে গেছে এবং চলমান প্রকল্পগুলোও প্রায় শেষের দিকে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা ব্যাপক ছাঁটাইয়ের মুখে পড়েছেন এবং চলমান প্রকল্পে তারা বাড়তি কাজ ও আয় পাচ্ছেন না। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) তথ্য অনুযায়ী, আরব উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই বাংলাদেশ থেকে মোট জনশক্তি রফতানির ৮০ ভাগ হয়ে থাকে।

বিদেশে জনশক্তি রফতানিকারক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, তারা যেসব বড় বড় কোম্পানিতে কর্মী সরবরাহ করতেন, সেগুলোর অনেকেই কর্মী নেয়া আপাতত বন্ধ রেখেছে। কারণ, যেসব প্রকল্প তারা হাতে নিয়েছেন, তেলের দাম কমে যাওয়ার সেসব প্রকল্প শুরু করতে পারছেন না। জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক বরাদ্দ ধীরগতিতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শুরু ও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে যেসব কোম্পানিতে হয়তো ১০ হাজার কর্মী নেয়ার কথা ছিল, সেখানে কয়েক হাজার কর্মী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আবার অনেকগুলো প্রকল্প আর্থিক সংকটে শুরুই করতে পারছে না নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে। পরে ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ দুবাইকে প্রথম দফায় ভোট না দেয়ার বিষয়টি আরো জটিল হয়ে পড়ে। এটি সহজভাবে নেয়নি আরব আমিরাত। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ রাশিয়াকে সমর্থন দেয়। এরপর থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা দেয়াসহ নানা ক্ষেত্রে অসহযোগিতার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে আরব আমিরাত। তবে সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েত সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেয়া শুরু করলেও জনশক্তি রফতানির আগের গতি আর ফিরে আসছে না। তাছাড়া লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সেখানে যুদ্ধ চলতে থাকায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি বন্ধ রেখেছে সরকার। মানবকণ্ঠ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV