Tuesday, 27 October 2026 |
শিরোনাম
অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
সব ক্যাটাগরি

মস্তিষ্ককে শাণিত রাখতে সহজ ৮ অভ্যাস

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 182 বার

প্রকাশিত: October 23, 2013 | 1:02 PM

কাজী আরিফ আহমেদ: সাধারণভাবে আমরা শারীরিক গঠনটাকে সুন্দর করার প্রতি বেশি মনোযোগী। আদৌ কি আমরা তার কিছুটা সময় মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পেছনে ব্যয় করি, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। এই মস্তিষ্কের কল্যাণেই আমরা প্রাণীকূল থেকে আলাদা। মেধায়, মননে, বুদ্ধিদীপ্ততায় মানুষের অগ্রগতি থেমে নেই। বিশ্ব যেভাবে এগোচ্ছে, সেটাই প্রমাণ করে আমরা পূর্বের চেয়ে বহুগুণে বেশি মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল। জীবনের বহু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো আপনার মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এখানে মস্তিষ্ককে শাণিত করার প্রাকৃতিক ও সহজ ৮টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা অলোচনা করা হলো:

 ১) সক্রিয় থাকুন ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন। দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, অ্যারোবিক ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করা, মেডিটেশনের চর্চা স্মৃতিশক্তিকে চাঙ্গা রাখবে। বয়স বাড়তে থাকলেও, মস্তিষ্কের জটিল কোন সমস্যা দেখা দেয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। তবে, মাঝবয়স থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চার তালিকা নির্ধারণ করে নিন। 
২) মাস্তিষ্কেরও ব্যায়াম রয়েছে। অঙ্ক বা গণিতচর্চা, ধাঁধার সমাধান বের করা, প্রোগ্রামিং, পাজল গেইম বা দাবা খেলার মতো যে কাজগুলোতে মাথা খাটাতে হয়, সে ধরনের কাজ বেছে নিন ও নিয়মিত করুন। কারণ, স্নায়ুকোষের মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ তৈরি হয় এ ধরনের চর্চার মাধ্যমে। আর তা মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ম রাখে।
৩) স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট অনুসরণ করুন। চিনি কিংবা সম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ খাবার, ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার যতোটা সম্ভব পরিহার করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সাধারণভাবে, প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। নানা রঙের টাটকা ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। মস্তিষ্কের পাশাপাশি শরীরটাও ভালো থাকবে। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন। 
৪) দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত থাকার অভ্যাস করুন। অনেক চাপের মধ্যেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চর্চাটা আপনার মস্তিষ্ককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। নিয়ম করে মাঝে-মধ্যে একটু প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া উচিত। শহরে থাকলে, সময় বের করে একটু দূরে কোন গ্রাম থেকে ঘুরে আসুন। যোগব্যায়াম আর মেডিটেশনের কথাতো আগেই বলা হয়েছে।
৫) পর্যাপ্ত ঘুমান। বয়সভেদে ঘুমের সময়ের পার্থক্য হলেও, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। সুনিদ্রা মস্তিষ্ককে আরও সক্রিয় করে তোলে। সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, জেগে থাকা নয় বরং ঘুমিয়ে থাকার সময়টাতেই মানুষের মস্তিষ্ক অধিক সক্রিয় থাকে। সারাদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম কিংবা মানসিক চাপের পর মস্তিষ্কে যেসব ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়, তা পরিস্কার করে ঘুম। পর্যাপ্ত বিশ্রামে মস্তিষ্কের কোষগুলো পরিশোধিত হয়। সতেজতা ফিরে পায়। নতুন কাজ করার উদ্দীপনা তৈরি হয়। চিন্তা করার সময় জড়তা থাকে না। স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীলভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজতর হয়। ক্ষণস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্মতর হয়। 
৬) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না। গাঢ় রঙের আঙুর, ডালিম, রসুন ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই প্রথমেই জেনে নিন কোন খাবারগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এরপর ডায়েট চার্টে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন। 
৭) প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। বার্ধক্যজনিত কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ যে ক্ষয় শুরু হয়, তা প্রতিরোধে অন্যতম ভূমিকা পালন করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সারা জীবন মস্তিষ্কের ভারসাম্য রক্ষা ও মাথা খাটানোর কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে বিশেষ এ পুষ্টি উপাদানটি। তাই আপনার উচিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবারগুলোকে খুঁজে বের করা ও তা প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা। 
৮) সামাজিক জীবনে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা সে কাজগুলোর মধ্যে পড়ে। অন্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, আলোচনা করা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং চিন্তার শক্তিকে তীক্ষ্মতর করে। আপনার মস্তিষ্ক শাণিত রাখার অর্থ আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে দেয়া। কারণ, তারা আরও জটিল ও দুর্বোধ্য সব চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষমতা রাখবে।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ