Tuesday, 9 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

মহাকাশের খাবারদাবার

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 74 বার

প্রকাশিত: June 6, 2013 | 4:08 PM

আমাদের মতোই খাবার খেয়ে টিকে থাকতে হয় নভশ্চারীদের। তবে মেন্যুটাই যা একটু আলাদা। খেতে হয় খুব সাবধানে। কারণ একেবারেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাবারও মুখে বা শরীরের অন্য কোথাও আঘাত করে ঘটাতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। মহাশূন্যের খাবারদাবার নিয়ে প্রধান ফিচার লিখেছেন সজীব আশরাফ 

জন গ্লেনের জন্য মহাকাশে খাওয়াদাওয়া ছিল ধৈর্যশক্তির বিরাট এক পরীক্ষা। জন গ্লেনই নাসার প্রথম নভশ্চারী, যিনি প্রায় ভরশূন্য পরিবেশে, মানে মহাকাশে খাদ্য গ্রহণ করেন। সেটা প্রায় ৫০ বছর আগের কথা। নভশ্চারীদের খাবার বলতে ছিল অ্যালুমিনিয়ামের টিউবের স্বাদ-গন্ধহীন আধা-তরল পুষ্টিকর খাদ্য, চিবিয়ে খাওয়ার উপযোগী ছোট কিউবে ভরা শুষ্ক খাবার আর হিমায়িত গুঁড়া খাদ্য। স্বাভাবিকভাবেই খাবারগুলো তাঁদের খুব একটা প্রিয় ছিল না। খেয়েছেন কেবল প্রয়োজনের তাগিদে। তবে এখন এ ধরনের খাবারের দ্বারস্থ হতে হয় না। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিস্ময়কর অগ্রগতি ঘটেছে খাবারের মেন্যুতেও। মহাকাশচারীরা খাচ্ছেন অনেকটা পৃথিবীর মানুষের মতোই খাবার। চলছে মহাকাশেই টাটকা শাকসবজি উৎপাদনের চেষ্টা। এই অগ্রগতি এক দিনে সম্ভব হয়নি। এটি অনেক পুষ্টিবিদ আর মহাকাশবিজ্ঞানীর বহুদিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মহাকাশে খাদ্য সরবরাহ আরো সুবিধাজনক ও নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে নাসার ফুড সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাসিলিটি বিভাগ। এউ বিভাগে কাজ করছেন অনেক পুষ্টিবিদ, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী। প্রতিনিয়ত তাঁরা মহাকাশের খাদ্যব্যবস্থাকে নিয়ে যাচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। কয়েকটি দিকের প্রতি খেয়াল রেখে তৈরি করা হয় নভশ্চারীদের জন্য খাবার- খাবারের আয়তন হতে হবে ক্ষুদ্র, যাতে খুব বেশি জায়গা দখল না করে, খাবারে থাকতে হবে শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি এও খেয়াল রাখতে হবে, খাওয়ার সময় খাবারের কোনো ক্ষুদ্র অংশও যেন আলাদা হয়ে না যায়। টুকরো খাবারও মহাকাশের প্রায় ভরশূন্য পরিবেশে ভেসে থাকে। তা ছাড়া ভেন্টিলেশন সিস্টেমে বা কোনো যন্ত্রাংশে আটকে গিয়ে তৈরি করতে পারে বড় ধরনের সমস্যা, এমনকি ভেসে থাকা খাবারের টুকরায় চোখে-মুখে আঘাত পেতে পারেন নভশ্চারীরা। এ কারণে স্পেসফুড মোড়কজাত ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় বিশেষভাবে। মহাকাশ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তথা মানবজাতির প্রথম প্রকল্প ছিল প্রজেক্ট মারকারি (১৯৫৯-৬৩)। উদ্দেশ্য পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ। মারকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী নভশ্চারীদের খাবারের বড় অংশই ছিল প্রায় স্বাদ-গন্ধহীন আধা-তরল, যা অ্যালুমিনিয়ামের টিউব চেপে চেপে বের করে নল দিয়ে খেতে হতো। ছিল ছোট কিউব আকৃতির শুষ্ক খাবার, লালা দিয়ে ভিজিয়ে চিবিয়ে খেতে হতো। এসব খাবার নিয়ে অভিযোগের অন্ত ছিল না। ১৯৬৫ সালে শুরু হয় ‘জেমেনি’। এ প্রকল্পের নভশ্চারীদের খাদ্যতালিকায় যোগ হয় চিংড়ি, টার্কি, মুরগিসহ নতুন কয়েকটি পদ। খাবারগুলো ছিল শুষ্ক। তবে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করা বলে স্বাদ ছিল অনেকটাই অটুট। ওয়াটার গান দিয়ে এই শুষ্ক খাবারে পানি ঢোকালেই হয়ে যেত খাওয়ার উপযোগী। এরপর আসে প্রজেক্ট অ্যাপোলো- চাঁদে মানুষের প্রথম পা রাখার সেই ঐতিহাসিক প্রকল্প। অ্যাপোলোর নভশ্চারীরাই প্রথম পেয়েছেন তৈজসপত্র ও গরম পানি ব্যবহারের সুবিধা। তাঁদের খাদ্যতালিকাও ছিল আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ। ১৯৭৩ সালের স্কাইল্যাব মিশনের নভশ্চারীরা আরো একধাপ এগিয়ে খাবারদাবারে পেতে শুরু করেন অনেকটা ঘরের আবহ। প্রথমবারের মতো যুক্ত হয় ডাইনিংরুম ও টেবিল। খাবার গরম করার জন্য ছিল ফুড ওয়ার্মার ট্রে। ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকে প্রথমবারের মতো মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় স্পেস শাটল। সেই থেকে প্রায় পৃথিবীর বাসিন্দাদের মতো একই রকম খাবারের সুবিধা পেতে শুরু করেন নভশ্চারীরা। ৭৪ ধরনের খাবার, ২০ ধরনের পানীয় থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পান মেন্যু। শাটলের মিড-ডেকে স্থাপন করা হয় রান্নাঘরও, যেখানে আছে পর্যাপ্ত পানি ও ওভেন। ১৯৮১ সালের শাটল অভিযানগুলো ছিল দুই দিনের। ১৯৯২ সালে তা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ দিন। মিশনের মেয়াদ ১০ দিনের বেশি হলে তাকে বলা হয় ‘এক্সটেনডেড ডিউরেশন অরবিটার মিশন’। এ ধরনের লম্বা মিশনে খাবারের স্থান সংকুলান ও উচ্ছিষ্ট খাবার প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রয়োজন পড়ে নতুন ধরনের মোড়ক। মোড়ক ও উচ্ছিষ্ট খাবারের পরিমাণ কমাতে তৈরি করা হয় ট্র্যাশ কমপ্যাক্টর। খাবারের মোড়কও এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে পানি যোগ করা যায়। মোড়কের নিচে থাকে ট্রে। খাবার তৈরি করতে খাবারে পানি যোগ করে পরিমাণমতো তাপ দেওয়া হয় ওভেনে। খাবার তৈরি হয়ে গেলে মোড়কের ওপরের অংশ চাকু বা কাঁচি দিয়ে কেটে আলাদা করে ট্র্যাশ কমপ্যাক্টরে সংকোচন করা হয়। খাওয়া হয় খাবার আটকে রাখার উপযোগী সার্ভিং ট্রেতে, যেগুলো মহাকাশে খাবার ভেসে যাওয়া রোধ করে। ট্রে সংযুক্ত থাকে দেয়াল বা টেবিলে। ফলে পৃথিবীবাসীর মতো একসঙ্গে কয়েক ধরনের খাবার নিয়ে খেতে বসা সম্ভব হয় নভশ্চারীদের। স্পেস স্টেশন ফুড সিস্টেমে রয়েছে তিন ধরনের মেন্যু- ডেইলি, সেইফ হেভেন ও এক্সট্রা ভেহিকুলার অ্যাকটিভিটি (ইভিএ) ফুড। সাধারণ সময়ের খাবারই ডেইলি মেন্যু। এই মেন্যু নির্ধারণ করা হয় খাবারের পুষ্টিমান ও মহাকাশে উপযোগিতার ভিত্তিতে। নভশ্চারীরা নিজেরাই মেন্যু বাছাই করেন। এ সময় নতুন খাদ্য যোগ বা বাদ দেওয়া যায়। এ খাবারগুলো থাকে ডিসপোজেবল প্যাকেটে। ফলে নেই থালাবাসন ধোয়ার ঝামেলা। সেইফ হেভেন ফুড রাখা হয় জরুরি অবস্থার জন্য। এ ব্যবস্থায় থাকে যান্ত্রিক গোলযোগ বা অন্য কোনো কারণে জরুরি অবস্থা তৈরি হলে টিকে থাকার জন্য অন্তত ২২ দিনের খাবার। অতিরিক্ত কর্মকাণ্ড চলার সময়ের জন্য প্রতি আট ঘণ্টার জন্য দেওয়া হয় এক্সট্রা ভেহিকুলার অ্যাকটিভিটি (ইভিএ) ফুড।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চাঁদে বা মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের মতো দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য মহাকাশে বাগান করার পরিকল্পনা করছে নাসা। সেখানে চাষ করা হবে তাজা শাকসবজি। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে কয়েকটি সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে লেটুস, মটরশুঁটি, মুলাসহ কয়েকটি সবজি উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সাফল্যের কথা জানিয়েছে বেইজিংভিত্তিক চীনা মহাকাশ গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রও। ৩০০ ঘনমিটার আয়তনের একটি কেবিনে দুজনের জন্য প্রয়োজনীয় বায়ু, পানি ও খাবার সরবরাহ করতে পেরেছেন তাঁরা। সম্ভব হয়েছে চার ধরনের শাকসবজি ফলানো। নাসা মনে করে, অন্য কোনো গ্রহে বসতি স্থাপন করলে সেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় আলু, সয়াবিন, গম, চিনাবাদাম, টমেটো, গাজর, লেটুস, মটরশুঁটি, মুলাসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে।কালের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV