মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেএসডি’র আলোচনা সভা
নিউইয়র্ক: দিবস উদযাপন করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, যুক্তরাষ্ট্র শাখা। এ উপলক্ষে ২৯ মার্চ ,রোরবার ৩৭ এভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস নিউইয়র্ক এনওয়াই-১১৩৭২ এ এক আলোচনা সভার অনঠিত হয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র শাখা কর্তৃক আয়োজিত এক সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র এর সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমেদ শামীম এর সুন্দর উপস্থাপনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি ছিলেন শিশু সাহিতিক হাসানুর রহমান ও আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সভাপতি সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, লেখক এবিএম সালেহঊদিদন,জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র শাখা ঊপদেশটা আহসান মাসুদ,শামসুল ইসলাম,জসিমঊদিদ,ফিরোজ মাহমুদ দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য সারোয়ারুল আলম, সাবেক ছাএনেতা নজরুল ইসলাম, দলের উপদেষ্টা হাজী আহসান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী এনামূল হায়দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম জি সারোয়ার ।
নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থি ছিলেন সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহ-সভাপতি সুভাষ মজুমদার ও হেলালউদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিক উল্লাহ ও শরীফ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক তছলিম উদ্দিন খান, সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট জসীম উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী হারুন অর রশীদ বাবুল।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী তসলিম উদ্দিন খান, বক্তব্য রাখেন জেএসডি নেতা রফিকঊললাহ,শরীফ ঊদিদন,নূরে আলম সেলিম, হারুন অর রশীদ বাবুল, প্রমুখ।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র ইঊএসএ সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন বলেছেন, দেশে বিরাজমান ব্রিটিশ- পাকিস্তানী মডেলের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করে স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতি ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের মধ্যদিয়েই স্বাধীনতার চেতনা বাস্তাবায়ন করতে হবে। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতি ও রাষ্ট্র-প্রশাসন গড়ে উঠেনি, বিকাশ ঘটনে জাতীয় সংস্কৃতির।
উপনিবেশিক ব্যবস্থার লালন, দুর্নীতি-দুঃশাসন ও মৌলবাদী চেতনাই জাতীয় বিকাশের প্রধান অšতরায়। জাতির বিকাশের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র-প্রশাসন গড়ে তুলতে হলে দেশে ৯টি প্রদেশ, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও স্ব-শাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধি, প্রগতিশীল ও গনতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সমন্বয়ে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা সময়ের দাবী। প্রজন্ম চত্বরের গণ জাগরণ থেকে এ শক্তি গড়ে উঠবে।
লিটন বলেন, আগামী নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সকল দল-মহলের নিকট গ্রহনযোগ্য করার স্বার্থে পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ গঠন করে সেখান থেকে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান করতে হবে। যা হবে নির্বাচিত ও জবাবদিহিতামূলক। আজ ২৯ মাচ,বিকেল ৪টায় নিঊইয়কে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেএসডি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে লিটন এ সকল কথা বলেন। খবর বাপসনিঊজ.জেএসডি সাধারণ সম্পাদকশামসুঊদদীন আহমদ শামীম বলেন, আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দেশে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ ও গ্রহনযোগ্য পরিবর্তনের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির বাইরে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন শক্তির হস্তক্ষেপের পথ প্রসস্থ হচ্ছে।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন তসলিম ঊদিদন খান,শরীফ ঊদিদন, হেলাল ঊদিদন প্রমূখ।
বক্তব্য রাখেন আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,- স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আর আধিপত্য-ফ্যাসিবাদ রোখার দৃপ্ত শপথে মৃত্যুপণ লড়াই ও রক্ত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বীর বাঙালি ছিনিয়ে এনেছে জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। স্বাধিকার আদায়ের দৃঢ় মনোবল নিয়ে পশুশক্তিকে পরাজিত করে ঘোর অন্ধকার অমানিশা কাটিয়ে বাংলার চিরসবুজ জমিনে রক্তে রাঙানো লাল-সবুজ পতাকার জন্ম হয় আজকের এই ঐতিহাসিক দিনেই। কিন্তু আজও লাখো লাখো অনাহারি মানুষের দীর্ঘশ্বাস বাংলার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। বঞ্চনার শিকার হাজারও মানুষের দেখার কেউ নেই। বাংলাদেশর মানুষ আজ নিজের দেশে পর বাসী ।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন,–মানবাধিকার বহু স্থানেই আজ উপেক্ষিত। দিন দিন গরিব আরও গরিব হচ্ছে। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মধ্যবিত্তের অহঙ্কার। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, রাজনৈতিক হানাহানি, সংঘর্ষ, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি আর প্রতিহিংসা দেশ ও সমাজকে খেয়েছে কুরে কুরে। পাশবিকতায় বন্দি হয়ে পড়ছে দারিদ্র্যক্লিষ্ট বহু জীবন। এদের কাছে সাধারণ মানুষ আজ বড়ই অসহায়।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে চলমান ভয়াবহ প্রেট্রোল বোমার মাধ্যমে চলমান হত্যাযঞ্জ মানবিক বিপর্যয়, মানবাধিকার রক্ষা এবং ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আপামর মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সচেতন প্রবাসীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়,খবর বাপসনিঊজ ,
দেশের চলমান ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে বলেন- দেশ গভীর সংকটকাল অতিক্রম করছে। বারাবারি, কাটাকাটি, হানাহানি। দুই বড় দলই কেবল ক্ষমতার জন্য দেশ ও দেশের মানুষকে জিম্মিকরে রাজনীতি করছে। স্বাধীনতাত্তোর স্বাধীন দেশের উপযোগী রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ, স্বাধীন দেশের অনুকূলীয় প্রশাসন গড়ে তুলতে ব্যর্থ, বৃটিশ ও পাকিস্তানী রাষ্ট্র কাঠামোয় দেশ পরিচালিত হওয়ার কারনে গত ৪৩ বছরে আমরা এ দূরাবস্থায় পৌছেছি। আমরা ৪৩ বছরে শুধু সুশাসন, সুবিচারের দাবিই জানিয়ে গেলাম, প্রতিষ্ঠা করতে পারলাম না। আমরা বাহ্যিক স্বাধীনতা পেলেও এখনও অভ্যন্তরীন পরাধীনতার মধ্যেই বসবাস করছি। স্বাধীন দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা আজও অনুপস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের সরিষার ভূত ছিল বলেই সম্ভবত স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আমরা অভ্যন্তরীনভাবে পরাধীনই থেকে গেলাম।
সব দলের দিকে তাকালেই দেখা যায় কোথাও গণতন্ত্র নেই। দলে গণতন্ত্র থাকলে দেশ পরিচালনাতেও গণতন্ত্র কাজ করে। এছাড়া সংবিধান ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অনুকূল নয়। সরকার প্রধানকে এতটাই একচেটে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, তা স্বৈরাচারে পরিনত হতে উৎসাহিত করে। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। একটি কেন্দ্র থেকে ১৬ কোটির মতো মানুষকে সুশাসন দেয়া ও সেবা করা সম্ভব নয়। তাই ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরন করতে হবে।
বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জামায়াত শিবিরকে বাংলাদেশের জন্য রাহু উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই রাহু থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায়। তাই এই মুহুর্তে তৃতীয় শক্তির উথ্থান জরুরী। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচার ব্যবস্থা এবং স্বাধীনভাবে ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরী হয়ে পড়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সকল দলের মধ্যে আলোচনা, সংলাপ ও সমজোতা অত্যাবশ্যক।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমদ শামীম ও মিসেস শামীম এর সৌজন্যে ্রতী নৈশভোজে অনুষ্ঠানের সবাইকে বিপুল আয়োজনে আপ্যায়িত করা হয়।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে চলমান ভয়াবহ প্রেট্রোল বোমার মাধ্যমে চলমান হত্যাযঞ্জ মানবিক বিপর্যয়, মানবাধিকার রক্ষা এবং ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আপামর মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সচেতন প্রবাসীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়,খবর বাপসনিঊজ। উপস্থিত প্রত্যেকেই বাংলাদেশের এই চলমান সঙ্কটের উপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন যে, রাজনীতির নামে বাংলাদেশে যেভাবে পেট্রোল বোমা মেরে খুন, অগ্নি সংযোগ, নিরীহ বাসযাত্রী, ড্রাইভার-হেলপারদেরকে পুড়িয়ে হত্যা, রেলালাইন উপড়ে ফেলা, লঞ্চে অগ্নি সংযোগ, ব্যবসা বাণিজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল করে দেয়ার মাধ্যমে দেশকে যেভাবে এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তা কোনভাবেই কল্যাণকর নয়। রাজনীতির নামে নীরিহ মানুষকে জিম্মি করা এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশটিকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি রাজনৈতিক তাই রাজনৈতিক ভাবে এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য এবং বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বক্তারা সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তারা আরো বলেন যে, সরকারকে এজন্য অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে।
সভায় আরোগ্য কামনা করা হয়। সভার শুরুতে ৭১ এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, ৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদদের স্মরনে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!