মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা দু’দলকেই ভাবাচ্ছে
সুব্রত বিশ্বাস : প্রেসিডেন্ট হিসেবে অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিকই হিলারি ক্লিনটন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাচ্ছেন না। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চাচ্ছেন না থেকে বলা ভালো-ডেমোক্রেটিক অথবা রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের বরং ভয়ই পাচ্ছেন ভোটারা। সমীক্ষায় এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮১ শতাংশ। জানাচ্ছে সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এ পি)-র সমীক্ষা। সমীক্ষা অনুসারে, ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারী ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন না বেশিরভাগ মানুষ। শুধু তাই নয়, এমন মানুষও আছেন যাদের কাছে কে জয়ী হচ্ছেন, সেটাই বড় কথা নয়। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট ঘিরে অনলাইন সমীক্ষা হয়েছে। মানুষ তাদের প্রার্থী বাছাই করেছেন স্মার্ট ফোনে, ইন্টারনেটে। ৭ই জুলাই থেকে ১১ই জুলাই পর্যন্ত চলে প্রক্রিয়াটি। কিন্তু ফল দেখে সমীক্ষকদের তো চক্ষুচড়কগাছ।
হিলারি অথবা ট্রাম্পে আতঙ্কিত আমেরিকানরা। এরজন্য উভয়ের কর্মসূচীকেই দায়ী করেছেন তারা। সমানভাবে তুলে ধরেছেন উভয় প্রৃতিদ্বন্দ্বীর চারিত্রিক গঠনকে। এক্ষেত্রে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ধনি ব্যবসায়ী ট্রাম্প। মুসলিম, নারী অভিবাসী নীতির কারণে বর্তমানে সমীক্ষার রায়ে দৃশ্যতই কোণঠাসা একদা রিয়ালিটি শোয়ের দৌলতে পরিচিতি পাওয়া ট্রাম্প। অনেকেই চাচ্ছেন দু’দলই নিজেদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের বদল করুক। যাকে তারা ভোট দিতে পারবেন, এমন কাউকে আনা হোক প্রার্থী হিসেবে। এই বিষয়ে বেশ কয়েকজন দলীয়স্তরে যোগাযোগ করেছেন বলেও খবরে প্রকাশ। ’আমি দুই প্রার্থীর কাউকেই চাই না। সে ওরা যাই বলুক না কেন, জানান নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টির অ্যানি স্কট(৭০)। সমীক্ষায় ৫৭ শতাংশ মানুষ ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ডেমোক্রেট প্রার্থীর পক্ষে গেছে ৩৭ শতাংশ ভোট।
ট্রাম্পের বিপক্ষে গেছে ৬৩শতাংশ ভোট। পক্ষে ৩১শতাংশ। দেশের সাধারণ ভোটদাতার ৫৬শতাংশই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে ভাবতে একপ্রকারে ভয়ই পাচ্ছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হলে অনুতপ্ত হবেন এমন নাগরিকের সংখ্যা ৪৮শতাংশ। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে খুশি হবেন এমন ভোটদাতা মাত্র ২৭শতাংশ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক-সমীক্ষায় বিভিন্ন বিষয় ধরা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম ছিল বিদেশ সচিব থাকাকালীন হিলারি ক্লিনটনের বেসরকারি ইমেল এবং সার্ভার ব্যবহার। এই ঘটনায় হিলারির বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত না বলেই কিছুদিন আগে জানায় গোয়েন্দা সংস্থা এফ বি আই। সমীক্ষায় এই প্রসঙ্গটি ছিল মানুষের বিবেচনার জন্য। এবং ভোটে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। সমীক্ষায় ভোটদাতাদের প্রায় অর্ধেকই বিদেশ সচিব থাকার সময় হিলারির বেসরকারি সার্ভার এবং ইমেল গোপন সরকারি নথি আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন।
মানুষের মেজাজ অনেকটা সাফ হয়েছে খোদ ক্লিনটনের সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারেও। যাতে ডেমোক্রেট প্রার্থী বলেছেন দেশের অনেক ভোটদাতাই তাকে বিশ^াস করতে পারছেন না। ’আমাকে এক্ষেত্রে অনেক কাজ করতে হবে’, বিষয়টি উল্লেখ করে সম্প্রতি শিকাগোতে দলীয় বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনেই জানান হিলারি। তিনি আরো বলেন, ’আপনি কাউকে নিজেকে বিশ^াস করতে বলতে পারেন না। আপনাকে তা অর্জন করতে হয়।’
আবার রিপাবলিকান দলের বহু সমর্থকই ট্রাম্পের সামাজিক চেতনা নিয়েই সন্দিহান। দলে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৭ শতাংশ। এরমধ্যে ৩৯শতাংশ তো কোনমতেই তাকে প্রেসিডেন্ট পদে দেখতে চান না ট্রাম্পকে। ১৪শতাংশের কাছে ট্রাম্প চরম জাতিবিদ্বেষী। এক্ষেত্রে হিলারি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। কারণ ডেমোক্রেট দলে হিলারির বিরোধীরাও তার প্রতিপক্ষ ট্রাম্পকে প্রার্থীরূপে আরো বিপদজনক বলে মনে করছেন। ঠিক এমন সময় এরকম একটা সমীক্ষা রিবপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট দলের নেতাদের ফাপরে ফেলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সমীক্ষার ছাপ পড়তে পারে চুড়ান্ত পর্যায়ের জনাদেশেও। ভোট্ েউৎসাহ হারাতে পারেন মানুষ। সে নাগরিক সমাজ, যারা প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকেই তোপ দেগেছেন। এর আগে প্রাইমারী এবং কক্কাসের ভোটে ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সকে সমর্থন করেন রষাচেল ইউলার্ড (২০)। কিন্তু বর্তমানে তিনি হতাশ। দলের মনোনয়ন পাননি স্যান্ডার্স।র্ ষাচেল হতাশাপ্রকাশ করে জানান, ’হিলারির চেয়ে বার্নি অনেক বেশি স্বচ্ছ ছিলেন।’
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া