মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ
নিউইয়র্ক : ময়ানমারের আরাকান ও রাখাইন রাজ্যসহ পুরো মায়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম নর-নারীর উপর নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশু ও গণহত্যার প্রতিবাদে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন। বিক্ষোভ সমাবেশের পূর্বে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের নবনির্বাচিত মহাসচিব এন্টোনিও গুটারেজ ও বাংলাদেশ সরকার প্রধান বরাবর (জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের মাধ্যমে) স্বারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে “ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গেনাইজেশন” (ডাব্লউআরও)। গত ১৪ ডিসেম্বর বুধবার (নিউইয়র্ক সময়) সকাল ১১টায় সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বে এ স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। “আমেরিকানস এগ্রেনিস্ট জেনোসাইড অফ মুসলিম ইন মিয়ারমার” এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশের সহযোগিতায় ছিল, উত্তর আমেরিকার অন্যতম ইসলামিক সংগঠন ‘মুসিলম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা’ (মুনা) ও ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেকিরা (ইকনা) ও বার্মা ট্রাক্স ফোর্স (বিটিএফ), ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অব নর্থ আমেকিরাসহ ৩৬টি সংগঠন। প্রচন্ড ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে এ বিক্ষোভ সমাবেশে প্রায় সহস্রাধিক লোক উপস্থিত হয়। তাদের হাতে ছিলো বিভিন্ন ধরনের প্লেকার্ড ও ফেস্টুন। যার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমাদের উপর নির্যাতনের অমানুষিক চিত্র। এনা
বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে মায়ানমার সরকার অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করে এবং তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধ চরমপন্থীদের হাতে নিপীড়ন, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের মংন্ড এবং পার্শ্ববর্তী রাতেডং শহরের তিনটি চৌকিতে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীদের হামলায় ৯ জন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের অভিযুক্ত করে তাদের গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অভিযানের নাম করে মায়ানমার সেনাবাহিনী, বিজিপি ও পুলিশের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানা হচ্ছে। তারা নারীদের ধর্ষণ, হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা গণহারে মানুষ হত্যা, গ্রেপ্তার এবং নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করায় সকল প্রকার নাগরিক ও মৌলিক সুবিধা হতে বঞ্চিত রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ ও আন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা হলেও মায়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে তা বন্ধ করা হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বে বৌদ্ধদেরকে সরাসরি ইন্ধন ও মদদ যোগাচ্ছে মায়ানমার সরকার।
বক্তারা আরো বলেন, মিয়ানমারে মুসলিম হত্যা বিশ্ববিবেককে তাড়িত করেছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রতিদিন যে হারে মানুষ হত্যা ও আহত করছে তার নিন্দা জানানোর আমাদের ভাষা জানা নেই। তারা বলেন, মিয়ানমারে নীরিহ মুসলমানদেরকে হত্যা করে বাড়ি-ঘর থেকে বিতাড়িত করে বিশ্ব মুসলমানদের হৃদয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। মিয়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থারসমুহসহ জাতিসংঘের নবনির্বাচিত মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হস্তক্ষেপ কামনা করেন । বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, মিয়ানমার মুসলমানদের প্রতি সদয় হয়ে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় প্রদানের জন্য আহবান জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইকনার সেক্রেটারী জেনারেল তারিকুর রহমান, ইমাম আইয়ূব বাকী, মুনার সহকারী সেক্রেটারী আরমান চৌধুরী, ইউনাইডেট উলামা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মুফতি লুৎফর রহমান ক্বাশেমী, মূলধারার নেতা মোহাম্মদ এন মজুমদার, আদম কেরর, লুৎফর রহমান লাতু, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ওয়াদুদ, সাংবাদিক ইমরান আনসারী, মাহবুবুর রহমান, জেনারদান চৌধুরী, হোসনেয়ারা বেগমসহ আরো অনেকে।
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ