Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights
সব ক্যাটাগরি

মা-বাবাই অটিজম শিশুর উত্তম চিকিৎসক

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 171 বার

প্রকাশিত: April 1, 2014 | 5:33 PM

কর্নেল (ডাঃ) মোঃ আজিজুল ইসলাম : আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে এ দিবসটি। অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই আজকের এ প্রয়াস-

১. ফুটফুটে অমিয় যখন নুসরাতের কোল জুড়ে আসল, সংসারের সবার চোখ জুড়িয়ে গেল। বাবা ফরহাদ আর মা নুসরাতের যেন আনন্দ ধরে না। অনিন্দ সুন্দর তাদের সন্তান। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের ছন্দ পতন শুরু হলো। অমিয় অন্য শিশুদের মতো বাবা-মার আদরে স্নেহে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে না, এমনকি বাবা-মা বা অন্যরা আদর করতে গেলে সে চোখ তুলে তাকায়ও না। একা একা খেলা করে। অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে মিশে না। মাঝে মাঝে নিজে অদ্ভুত কিছু আচরণ করে। এই সময়ে যখন ‘মা’- ‘বাবা’ ডেকে ডেকে বাবা মাকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে দেবে, তখন তার কোনো কিছুই সে করে না। 

২. শিশু অমিয় অসম্ভব অটিজম নামক সমস্যা/রোগে ভোগছে। অটিজম ব্রেইন ও মনের বিকাশজনিত জটিল সমস্যা। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মূলত শিশু আচরণ। (Behaviour), সামাজিক ও পারস্পরিক যোগাযোগ (Social Communication and interaction), কথা (Language/ Speech) ইত্যাদির ব্যতিক্রম ও ব্যত্যয়ের মধ্য দিয়ে। অটিজম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণার শেষ নেই। এমনকি শিক্ষিত এবং পোশাজীবীদের মধ্যেও অটিজম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এটা কি নিউরোলজিক্যাল? মনোরোগ? শিশুরোগ? এসব বিতর্কের চেয়ে কি করে অটিজম সমস্যায় শিশুর সাহায্য করা যায় তা নিয়ে ভাবা শ্রেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগ বিন্যাসের মধ্যে অটিজম শিশু-কিশোরদের জটিল ব্রেইনের বিকাশজনিত (Pervasive Development Disorder) শিশু মনোরোগের অন্তর্ভুক্ত। আগে অটিজমকে বিভিন্ন প্রকার ভেদে ভাগ করলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অটিজমের সব ধরনকে একই ছাতার নিচে অটিজম স্প্রেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) নাম দেওয়া হয়েছে।

৩. অটিজম যেমন জটিল সমস্যা, এর সংখ্যা ও নেহায়েত কম নয়। সচেতনতা, নির্ণয়ের সক্ষমতার কারণে গত ৪০ বছরে অটিজম নির্ণিত হয়েছে ১০ গুণ বেশি। মেয়ে সন্তানের চেয়ে ছেলে সন্তানদের অটিজম পাঁচ গুণ বেশি হয়। প্রতি ৫৪ জন বালকের মধ্যে এক জন এবং প্রতি ২৫২ জন বালিকার মধ্যে এক জন অটিজমে আক্রান্ত। মনে রাখতে হবে অটিজম নির্ণয় করতে হবে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে। অটিস্টিক শিশুদের এ সমস্যাটির সঙ্গে অন্যান্য সমস্যা যেমন কম বুদ্ধাংক / খিঁচুনি, শারীরিক সমস্যা যেমন Motor incordination, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি থাকে।

৪. অটিজমের সঠিক কোনো একটি কারণ এখন পর্যন্ত নির্ণয় করা যায়নি। ক্রোমোজোমে জীবনের পরিবর্তন/ ক্রটিকে এর প্রধানতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জিনে ত্রুটি/ পরিবর্তন এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণ যেমন- গর্ভাধারণের সময় পিতা-মাতার বেশি বয়স, গর্ভকালীন মাতৃত্বের জটিলতা, না জেনে গর্ভকালীন বিভিন্ন ওষুধ ইত্যাদি সেবন, প্রসবকালীন জটিলতা যা শিশুর মস্তিষ্কে জন্মকালীন অক্সজেন স্বল্পতা সৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধক অক্ষমতা ইত্যাদি মিলে এ সমস্যার সৃষ্টি করে। সব ত্রুটিসমূহ মস্তিষ্কে (ব্রেইন) তথ্যবিন্যাস পদ্ধতিতে ব্যাহত করে। এতে ব্রেইনে গঠনগত কোনো ত্রুটি থাকে না কিন্তু বিকাশগত /কার্য পদ্ধতিতে সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। তাই অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

লেখক : এফসিপিএস, এফআরসিপি, সিনিয়র সাইকিয়াট্রিস্ট, সিএমএইচ, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা।

 অটিজম : মানব সৃষ্টির ভিন্নতা

নুরুন্নাহার নূপুর : ২ এপ্রিল, বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অটিজম সোসাইটি আমেরিকা ১৯৭০ সাল থেকে দিনটি পালন করে আসছে। জাতিসংঘ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে অটিজম সচেতনতা দিবস ঘোষণা করে এবং ২০০৮ সালে তা প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত সব দেশে পালিত হয়।

বাংলাদেশেও কয়েক বছর ধরে দিনটি সীমিত পরিসরে পালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে অটিস্টিক শিশুর পরিবার, স্পেশাল স্কুল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ছাড়া দিনটি অন্যদের কাছে এখনো তেমন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। ২০০৭ সাল থেকে দিনটি পালন উপলক্ষে পৃথিবীর অনেক দেশে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন ও শিশু বিনোদনকেন্দ্রগুলো নীল আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়। বর্তমানে অটিজম সচেতনতা দিবস বিশ্বের সব মহলেরই আগ্রহের একটি বিষয়।

 

কেন এত আয়োজন এই দিনটি ঘিরে?

অটিজম সোসাইটি আমেরিকার মতে, বিশ্বে এখন প্রতি ৫০ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিস্টিক শিশু জন্ম নিচ্ছে। একবার চোখ বন্ধ করে পৃথিবীব্যাপী অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা ধারণা করা যায়? নিশ্চয়ই এখন অনুভব করা যায়, কেন বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস এত গুরুত্বপূর্ণ।

অটিজম আসলে কী? কেন হয়? আর হলে কী করণীয়? এ বিষয়ে আমাদের সবারই কিছু ধারণা থাকা উচিত। অটিজম শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি সমস্যা। মাতৃগর্ভে থাকাকালে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হলে শিশু অটিজম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং শিশুর ভাষার বিকাশ, সামাজিক আচরণ, ইন্দ্রিয়গত সমন্বয়ের সমস্যা, আচরণের দৃঢ়তা ও কল্পনাশক্তির সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। শিশু এই রোগটি নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। তবে জন্মপরবর্তী তিন বছরের মধ্যে রোগটির সব লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশু স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়ার পর এক থেকে দেড় বছর বয়স পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণই বোঝা যায় না। সামান্য ভাষার বিকাশও হয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুই বছরের পর থেকে ভাষার বিকাশ কমতে থাকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থবহ কোনো ভাষাই আর থাকে না। অস্থিরতা, আচরণগত সমস্যা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কখনোই ভাষার বিকাশ হয় না, একই ধরনের আচরণ বারবার করতে থাকে, নাম ধরে ডাকলে তাকায় না, ঘুম ও খাওয়ার সমস্যা ইত্যাদি দেখা যায়।

একটি অবাক করা বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীব্যাপী ছেলে শিশুরাই অটিজমে বেশি আক্রান্ত হয়। এই অনুপাত ৫:১, অর্থাৎ ছয়টি শিশুর মধ্যে পাঁচটি ছেলে শিশু ও একটি মেয়ে শিশু সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত হয়। এখনো এর কোনো কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

খুবই চিন্তার বিষয় যে এখন পর্যন্ত অটিজমের একক কোনো কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো বিশেষ ধরনের চিকিৎসায় অটিজম নিরাময়যোগ্য- এটি কেউই দাবি করতে পারছে না। তবে আশার বিষয় হচ্ছে, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও থেরাপির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুরা অনেকটা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। অটিজম কখনোই ভালো হয়ে যায় না। তবে এ ধরনের মানুষ বিশেষ প্রতিভার অধিকারী হয়ে থাকে। এ কারণে অন্য সমস্যাগুলোর ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে পৃথিবীকে দেওয়ার মতো অনেক দক্ষতাই তাদের আছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীকে আবিষ্কার, তথ্য, খেলা, শিল্প, সাহিত্য ও গবেষণায় যাঁরা পরিবর্তনের ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের প্রায় ৪০ শতাংশই অটিজম, Asperger’s syndrome অথবা ADHD-এ আক্রান্ত ছিলেন। আইনস্টাইন, নিউটন, বিল গেটস, মোৎসার্ট, বেটোফেন, উডি অ্যালেন, সুজান বয়েল প্রমুখ অটিজম, Asperger’s syndrome ও ADHD-এ আক্রান্ত।

তাই পরিবার যখন জানতে পারে তাদের শিশুটি অটিস্টিক, হতাশ না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে তার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা উচিত। দ্রুত অটিজম বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর কথা বলা নিয়ে অভিভাবকরা চিন্তিত থাকেন। কিন্তু ভাষার বিকাশের জন্য শিশুর পূর্বদক্ষতা প্রয়োজন। যেমন- মনোযোগ, চোখের দিকে তাকানো, খেলার দক্ষতা, Motor Planning দক্ষতা, ইন্দ্রিয়গত সমন্বয়, সর্বোপরি অনুকরণের দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়। অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে এই দক্ষতাগুলোর ঘাটতি থাকে বলেই সামাজিক আচরণ, যোগাযোগ ও কল্পনাশক্তিতে ঘাটতি দেখা যায়। আমাদের জানা থাকা দরকার, প্রায় ২২টির মতো নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজ-অর্ডার আছে, যেগুলোর লক্ষণ প্রায় অটিজমের মতো। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।

তাই বেশি বেশি কথা বললে বা সাধারণ বাচ্চাদের সঙ্গে মিশতে দিলেই এ সমস্যার উন্নতি হবে- এটি ভুল ধারণা। খুব ছোটবেলা থেকে উপযুক্ত সেন্সরি ইন্টিগ্রেশন থেরাপি, যোগাযোগ প্রশিক্ষণ, সামাজিক আচরণ প্রশিক্ষণ, প্রি-একাডেমিক প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি পরিবারের ধৈর্য ও গ্রহণযোগ্যতা শিশুর ভবিষ্যৎ পথ সুগম করে।

এই সেবাগুলো পাওয়ার জন্য অবশ্যই বিশেষায়িত স্কুলের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে আমাদের দেশের গতানুগতিক স্পেশাল স্কুল সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও বিশেষ শিশুর পরিবারের কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।

মনে করা হয়, স্পেশাল স্কুল ডে কেয়ার সেন্টারের ভূমিকা পালন করে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, স্পেশাল স্কুলে দিলে বাচ্চার অবস্থা আরো খারাপ হবে, অন্য বাচ্চাদের দেখে অস্বাভাবিক আচরণ শিখবে; অথবা এ ধরনের স্কুলে দিলে বাচ্চা আর কখনোই সাধারণ স্কুলে যেতে পারবে না ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে স্পেশাল স্কুলের দায়িত্বই হচ্ছে অটিস্টিক শিশুকে Assessment করে তার লেভেল নির্ধারণ করে ইনডিভিজুয়াল এডুকেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া, প্রতিটি ধাপে পরিবারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বাসায় ও স্কুলে একই ধারায় কাজ করা। অন্যথায় ভাষা শিক্ষা বা প্রাত্যহিক কাজের দক্ষতা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শিশু বিভ্রান্ত হতে পারে।

সব শিশুই যে সমানভাবে সব দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, তা নিশ্চিত নয়। অবশ্যই অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষণপদ্ধতি ও শিক্ষার উপকরণ ভিন্ন এবং এগুলো সহজলভ্য নয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এই শিক্ষা উপকরণ বিদেশ থেকে আনে অথবা নিজেরা তৈরি করে। ফলে অভিভাবকদের কাছে প্রশিক্ষণের উপকরণগুলো সোনার হরিণ হয়েই থেকে যায়। তবে একান্ত চেষ্টা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণে আমরা দেখেছি, বেশির ভাগ অটিস্টিক শিশুই সমাজের বোঝা হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।

আরো একটি বিষয় আমাদের সবার জানা থাকা দরকার, তা হলো অটিস্টিক শিশুরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নয়। কারো কারো বুদ্ধ্যঙ্ক বয়সের তুলনায় সাধারণের চেয়ে কম হতে পারে, তবে তাদের বেশির ভাগই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। শুধু মনোযোগের ক্ষেত্র ভিন্ন। আমরা সাধারণ মানুষ অনেক বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করি। আর অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে দক্ষতাগুলো জন্মগত থাকে। তাইতো না শিখেও তারা অসম্ভব সুন্দর সুরে গাইতে পারে, আঁকতে পারে, কম্পিউটার চালাতে পারে, মিউজিক তৈরি করতে পারে এবং শারীরিক কসরতে পারদর্শী হয়। আবারও বলছি, তাদের হয়তো সামাজিক আচরণ শিখতে বা কথা বলতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তাই উন্নত বিশ্ব অটিস্টিক শিশুদের প্রতিভা বিকাশে বিশেষ সচেষ্ট। আর ইতিহাসের পাতায় তাদের অবদান অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই।

তাই এ বছর পজিটিভ থিংকিং এপ্রিল মাসজুড়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে অটিজমকে বোঝার সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অটিস্টিক মানুষ পৃথিবীকে জানাতে চায়, অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি ন্যাচারাল ডাইভারসিটি, মানব সৃষ্টির ভিন্নতা। তাই তথাকথিত শিক্ষিত, সামাজিক সাধারণ মানুষকে জানার ও বোঝার দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অটিজমবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা যেন নিজের অধিকার ভোগ করতে গিয়ে অন্যের অধিকার হরণ না করি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নিজের অধিকার সম্পর্কে শেখার পাশাপাশি অন্যের অধিকার সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাঠও থাকতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ ভিন্ন সত্তার অধিকারী। আমরা কেউ কারো মতো নই। অটিস্টিক শিশুরাও একজনের চেয়ে অন্যজন একেবারেই ভিন্ন। সবার মতো তাদের পরিচয়ও মানুষ। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা যত বাড়বে, ততই এই ভিন্ন সত্তার মানুষগুলো সমাজে নিজেদের জায়গা খুঁজে পাবে।কালের কণ্ঠ

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পজিটিভ থিংকিং

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ