মিশরে ফের উত্তেজনা: মার্কিনিদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
ডেস্ক: মিশরে মুরসি বিরোধী বিক্ষোভকারীরা দলে দলে সমবেত হয়েছে তাহরির স্কয়ারে। সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিকসহ তিনজন মারা গেছে। ওয়াশিংটন থেকে আমেরিকানদেরকে মিশরে ভ্রমণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একইভাবে সহিংস এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসির পদত্যাগের দাবিতে কায়রোতে বিক্ষোভ করছে জনগণ। হাজার হাজার মানুষ তাহরির স্কয়ারে সারা রাত অবস্থান নেয়। এই তাহরির স্কয়ার বিপ্লবেই সাবেক শাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটিয়েছিল মিশরের জনসাধারণ। প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুরসির এক বছর পূর্তির প্রাক্কালে পুরো মিশরব্যাপী এমনকি কায়রোস্থ প্রেসিডেন্ট ভবনেও প্রতিবাদ কর্মসূচি সোচ্চার হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিশরের অর্থতৈনিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাগুলো উত্তরণে মুরসি ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এদিকে মুরসি সমর্থকরা পাল্টা সমাবেশ করছে। মিশরের একটি বড় অংশ অবশ্য চায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুরসি নির্ধারিত পুরো সময় দায়িত্বপালন করুক। অর্থাৎ মিশরের জনগণের মধ্যে দ্বৈতমতের এক বিরাট বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মুরসির পদক্ষেপ ও তার দল মুসলিম ব্রাদারহুডের মিত্রদের নিয়ে অখুশি। মুরসি বিরোধী কর্মীরা বলছে, ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে একটি আবেদনপত্রে দস্তখত করেছে। তারা স্বাক্ষরকারী প্রত্যেককে তাহরির স্কয়ারে সমবেত হওয়ায় জন্য আবেদন জানিয়েছে। পিটিশনটির পেছনে তৃণমূল সংগঠন তামারোদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তারা ইতিমধ্যে মুরসি বিরোধী সকল লিবারেল, ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো, ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট। এছাড়াও মুরসির বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছে। তাহরির স্কয়ার থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রেসিডেন্ট ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে মুরসিবিরোধী দলগুলোর প্রতি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তারা সেটা প্রত্যাখ্যান করে। ২০১২ সালের ৩০শে জুন ন্যূনতম ব্যবধানে নির্বাচনে জয়লাভ করার মাধ্যমে মুসলিম ব্রদারহুডের মুহম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুরসির একবছর রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ভগ্ন অর্থনিতিতে বিপর্যস্ত। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সামরিক আদেশ রদ করার জন্য সংসদে আদেশ দেন। ২০১২ সালের জুলাইতে সংসদীয় নির্বাচনগুলোকে বাতিল ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দাখিল করেন। পরের মাসেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন তানতাভি এবং চিফ অব স্টাফ সামি আনানকে বরখাস্ত করেন। একই মাসে আইন প্রণয়ন এবং সংবিধানের খসড়া নির্ধারণে সেনাবাহিনীর কোন প্রকার অংশগ্রহণের সুযোগকে বাতিল করেন। পরে নভেম্বর মাসে বিক্ষোভের মুখে তার সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না এরকম আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হন। পরের মাসে জনগণের ভোটের মাধ্যমে খসড়া সংবিধান অনুমোদন পায়। কট্টর ইসলামপন্থী এ সংবিধানে সংসদ ও জনসাধারণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় গণ্ডি বেঁধে দেয়া হয়। এ বছর জুনে মিশরের ২৭ গভর্নরের মধ্যে ১৩ জন ইসলাপন্থিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করেন মুরসি। এর মধ্যে লুক্সরের গভর্নরকে নিয়ে বিতর্ক আছে যে তিনি সাবেক জঙ্গি দল গামা ইসলামিয়ার সদস্য। সবমিলিয়ে মুরসির বর্তমান অবস্থান খুব বেশি শক্ত নয় বলেই মনে হচ্ছে।মানবজমিনসর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি