মিশিগানে ভিন্ন আয়োজনে দুর্গা পূজা উদযাপন
সাইফুল আজম সিদ্দিকী ও সুরভী বনিক, মিশিগান থেকেঃ শরতের শ্বেতশুভ্র কাশবন আর ঢাক, ঢোল, শঙ্খ ও উলুধ্বনির মাধ্যমে বাংলায় পালিত হয় বাঙ্গালী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয়া দুর্গা পূজা। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশীদের একটি বড় অংশের বসবাস। বাংলা টাউন নামে পরিচিত হামট্রামিক ও ওয়ারেন শহরের বাংলাদেশীদের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরের মত এবারো পালন করে অঙ্গরাজ্যের সর্ববৃহৎ দুর্গপূজা। মিশিগানে কালীবাড়ি, দুর্গা মন্দির ছাড়াও স্বজন, বিচিত্রা সহ বিভিন্ন সংগঠন এ বছর দুর্গা পূজা উদযাপন করে।
মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়াদশমী চারদিন ব্যাপী এ আয়োজনে মিশিগান ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্য, কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষিদের সম্মিলন হয় এ পুজা উৎসবে।পুজার এ মহাসমারোহ অন্যান্য বর্ণ, গোত্র ও ধর্মাবলম্বী আগমন ছিল চোখে পড়ার মত। ঢাক, ঢোল, শঙ্খ ও উলুধ্বনির শব্দে আকৃষ্ট হয়ে পুজা প্রাঙ্গনে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কথা হল ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা মনি সুদিপ্তা সাথে- মিশিগানে বাংলাদেশীদের আন্তরিকতা তাকে বার বার কাছে ডাকে। এখানে এলে বাংলাদেশের স্বাদ পাওয়া যায়। মনে হয় না আমি দেশ থেকে এতো দূরে আছি।
ছ’মাসের অরিত্র ও তার বাবা –মার এ উৎযাপন ছিল কিছুটা ভিন্ন। বাবা অমিতাভ সিনহা জানালেন দূর পরবাসে সন্তানকে নিজের ধর্ম – কালচার শেখাতে, বাঙ্গালী স্বকীয়তা বজায় রাখতে দুর্গাপূজা অন্যন্য ভুমিকা পালন করছে। দু’মাসের ছোট শিশু থেকে আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ সবাই নতুন পোশাকে পূজা মণ্ডপে হাজির হয়েছেন। নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে মহালয়ার মাধ্যমে মাকে আহবান করে মর্তে বরণ করেছেন। বাংলাদেশীদের এ আয়োজনে শহর প্রশাসনও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। বিত্তশালী বাংলাদেশিরা এগিয়ে এসেছেন পূজাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে।
এবার মিশিগান কালীবাড়ির আয়োজনটা ছিল যেন একেবারেই আগের চেয়ে ভিন্ন। গান, নাচ, কবিতা, নাটক ইত্যাদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গন। কলকাতা থেকে আগত সা রে গা মা পার অন্যতম গুণী শিল্পী প্রবাল ভট্টাচার্য ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। কচিকাঁচারাও কোন অংশে পিছিয়ে ছিল না। শিশু শিল্পিদের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিল স্নেহা, গীতিকা, প্রিয়াঙ্কা, এমি, মাম্পি এবং পুতুলির সম্মিলিত নৃত্তপরিবেশনা। জনা দাসের কণ্ঠে মন কাড়া কবিতা আবৃত্তি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার শিল্পীদের সুমধুর কণ্ঠে চারদিকের পরিবেশ ছিল মুখরিত।
এ বছরের পুজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ অধ্যায় হল মন্দিরের রাহুল দাসের পরিচালনায় সদস্যদের অভিনীত নাটক “মহিসাসুর মর্দিনী”। অসম্ভব সুন্দর অভিনয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন অরধেন্দু রায়, ঠাকুর মণ্ডল, সুশীল দাস, উতপলা, সজীব, তৃষা, অনুরাধা প্রমুখ, দেবাঞ্জন দীপ আরও অনেকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল মানুসের সমাগম। আরতি, সিঁদুর খেলার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গা পুজার বিজয়াদশমী। সবাই বিজয়ার আশীর্বাদ নিয়ে বিদায় জানায় মা দুর্গাকে। আসছে বছর আবার এই সময়ে শঙ্খ সিদুর নিয়ে মাকে বরণ করার আশা নিয়ে সবাই ফিরে যায় কর্মব্যস্ত জীবনে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো