যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশীয় নীতি: কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত
কাউসার মুমিন, যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্ব তথা আমেরিকার দক্ষিণ এশীয় নীতি বিষয়ে গতকাল মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাউস রেইবার্ন ভবনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)-এর পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি হাউস ফরেন এফেয়ার্স কমিটির সাব-কমিটি ‘এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’-এ শুনানির আয়োজন করে। শুনানিতে সাব-কমিটির সভাপতি ওহাইও রিপাবলিকান স্টিভ চ্যাবোট সভাপতিত্ব করেন এবং র্যাকিং মেম্বার আমেরিকান সামোয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান এনি ফালিওমাভেগারও উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেক কংগ্রেসকে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতি মানেই যুক্তরাষ্ট্রের ভারত নীতি, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ঘিরেই মূলত দক্ষিণ এশীয় নীতি আবর্তিত, তাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশীয় নীতির কথা উঠলেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা দিয়েই শুরু করতে হবে।’
‘পররাষ্ট্র নীতিতে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে আমরা ভৌগোলিক ভাবে সুসংহত একটি একক ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে থাকি, যার জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে’- উল্লেখ করে সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী রবার্ট ও’ ব্লেক কংগ্রেসকে জানান, একুশ শতকের বিশ্বের ইতিহাস মানেই এশিয়ার ইতিহাস। একবিংশ শতকে পৃথিবীর ইতিহাসের সোনালি অধ্যায় রচনা করবে এই এশীয় প্যাসিফিক অঞ্চলে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এমন কি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু মার্কিন জনগণ ও মার্কিন অর্থনীতির সৌভাগ্য নির্ভর করছে ভারত-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততার ধরন ও সাফল্যের ওপর।
এ অঞ্চলে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে রবার্ট ও’ ব্লেক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সর্বাধুনিক শিক্ষা বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেমন হবে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক। এ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই বৃহত্তর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি বৃদ্ধি ও সমপ্রসারণ করা হবে।
শুধুমাত্র গত এক বছরে ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের বাণিজ্য ৩৭% বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অঞ্চলকে ইন্দো প্যাসিফিক ইকনমিক করিডোর হিসেবে চিহ্নিত করে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ ব্লেক বলেন, এর ফলে শুধু এ অঞ্চলই উপকৃত হয়নি, পাশাপাশি আমেরিকান পণ্যের উল্লেখযোগ্য বাজার তৈরি হয়েছে।
সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান চ্যাবোট-এর এক প্রশ্নের জবাবে রবার্ট ও’ ব্লেক জানান, পারমাণবিক নিরাপত্তা সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং দেশ দু’টির মধ্যে পৃথিবীর বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বিদ্যমান। এছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সামরিক অনুশীলন হয়ে থাকে তা পৃথিবীর বৃহত্তম।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। গত ২০ বছরে ভারতের জিডিপি ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির এশিয়া পিভট-এর অংশ হিসেবে একটি সমন্বিত এশিয়া নীতির স্বার্থে বর্তমান ১১৪তম কংগ্রেসের হাউস ফরেন এফেয়ার্স কমিটির অধীনে ইস্ট এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ও সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া অ্যাফেয়ার্স বিষয় দু’টোকে একত্রিত করে এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক নামে একটি নতুন সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসে সমপ্রতি নির্বাচিত একমাত্র হিন্দু কংগ্রেসউওম্যান তুলসি গাব্বার (হাওয়াই ডেমোক্রেট) এবং একমাত্র ভারতীয় আমেরিকান কংগ্রেসম্যান আমিবেরা (ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্রেট)-এ দু’জনই বর্তমান কংগ্রেসের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক সাব-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা মার্কিন কংগ্রেসে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity