যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ বাধাগ্রস্থ করার জন্য রক্ষনশীলদের প্রয়াস অব্যাহত
ইব্রাহীম চৌধুরী, নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ বাাঁধাগ্রস্থ করার জন্য রক্ষনশীলদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ গত বুধবার এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাব গ্রহন করেছে। প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষিত অভিবাসন পদক্ষেপ বানচাল করার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জন্য ব্যায় বরাদ্ধে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন বাাঁধাগ্রস্থ করার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
অবশিষ্ট অর্থবছরের জন্য ৪০ বিলিয়ন ডলারের অর্থ বরাদ্ধ প্রস্তাবনায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিবাসন সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ পাল্টে দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিনিধি পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সিনেটে প্রেরন করা হয়েছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে প্রস্তাবটি গৃহীত হবে বলে অবশ্য রক্ষনশীলরাও নিশ্চিত নয়।পাশাপাশি হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিনিধি পরিষদে গৃহীত প্রস্থাবে ভেটো প্রদান করা হবে বলে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রায় ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে সাময়ীক বৈধতা দেয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।অভিবাসী গ্রুপগুলো প্রেসিডেন্টের ঘোষনায় আশান্বিত হলেও রক্ষনশীলরা উদ্যোগটিকে বাঁধাগ্রস্থ করতে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।অর্থবরাদ্ধ সহ নানামুখী চাপ ও প্রচারনার মধ্য দিয়ে তাদের এ প্রচেষ্টা চলমান।প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব গ্রহনের পর রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মিক মালভেনি বলেছেন,আইন কখনো হোয়াইট হাউসে তৈরী হয়নি।তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও যদি কোন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেন তখনো আমি এর বিপক্ষে দাঁড়াবো।প্রতিনিধি পরিষদের স্পীকার জন বয়েনার বলেছেন,আইনের শাসন এবং সংবিধানের আইন সংরক্ষনের জন্য প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বহির্ভুত নির্বাহী আদেশের বিপক্ষে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প নেই।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমক্রেট দলের হুইপ স্টেনি হোয়েরার বলেছেন,রিপাবলিকান প্রস্তাবনাটি আমেরিকার ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক।অভিবাসন নিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন বাঁধাগ্রস্থ হলে পরিবার বিছ্ছিন্নতা বাড়বে।অল্প বয়সে যারা নিজের অজান্তেই এ দেশে অবৈধ অভিবাসনের শিকার হয়েছে তাদের উপর বিতাড়নের খড়গ নেমে আসবে।
ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর নির্বাহী আদেশ ঘোষনার প্রায় দুমাস হতে চলেছে।বৈধতার জন্য আবেদনপত্র গ্রহনের সময়সীমা বা নিয়মাবলী ঘোষনা না করায় অভিবাসী মহলে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।প্রায় ৫০ লাখ অভিবাসী,যাদের সাময়ীক হলেও নিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তারা কোন সঠিক দিক নির্দেশনা পাচ্ছে না ।অভিবাসন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা এখনো জারী করা হয়নি।রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অংগরাজ্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশ ঠেকানোর জন্য ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছ্ ে।এসব মামলায় নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন বাঁধাগ্রস্থ হবে না বলেই মনে করছেন অভিবাসী আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্টরা।কেবলমাত্র সুপ্রিমকোর্টের রায় কিংবা পরবর্তী প্রেসিডেন্টের পৃথক নির্বাহী আদেশ প্রেসিডেন্ট ওবামা ঘোষিত কর্মসুচী বাতিল হতে পারে।বর্তমান নির্বাহী ঘোষনায় পাঁচ বছর টানা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্স্থানকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া সন্তানের পিতা মাতাদের শর্ত সাপেক্ষে তিন বছরের জন্য বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।নির্বাহী আদেশের বিস্তারিত , অবেদনের প্রাক যোগ্যতা, আবেদন ফি সহ অন্যান্য নিয়মাবলী জানার জন্য উগ্রীব সংশ্লিষ্টরা।অভিবাসন বিষয়ে দেখভালের দায়ীত্বে সরকারের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের উয়েভ সাইটে এখনো এ সংক্রান্ত কোন নিয়মাবলী ঘোষনা করেনি।কবে থেকে আবেদনপত্র গ্রহন করা হবে –তাও কেউ জানাতে পারছে না।নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি তাদের এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ ব্যাপক সংখ্যক আবেদন সামাল দেয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করছ্।েএর মধ্যে জরুরীভাবে এক হাজার লোক নিয়োগ করা হচ্ছে।লোকজনের জন্য প্রশিক্ষনের আয়োজন সহ ওয়াশিংটনের বাইরে বিশাল স্থাপনা ভাড়া করা হয়েছে॥বছরে ৮০লাখ ডলারে ভার্জিনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অভিবাসন বিভাগ বিশাল স্থাপনা ভাড়া নিয়েছে।ফক্স নিউজ গত মঙ্গলবার তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী মে মাস থেকে আবেদনপত্র গ্রহনের ঘোষনা আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এটর্নী মঈন চৌধুরী এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন,প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষনা নিয়ে সংশয় থাকলেও শঙ্কার কোন কারন নেই।প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের কার্যকারীতা বাজেট বরাদ্ধ দিয়ে রিপাবলিকানরা ঠেকিয়ে দিতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন,প্রেসিডেন্ট ওবামার নির্বাহী আদেশ নিয়ে নানা সব ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।২০১০ সালের আগে টানা পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং এখানে জন্ম নেয়া সন্তানের পিতামাতা আবেদনকারীকে উভয় শর্তে যোগ্য হতে হবে।তিনি বলেন নির্বাহী ঘোষনায় পরিষ্কার বলা হয়েছে কেবল পাঁচ বছরের শর্ত পালনকারী হলেই আবেদনের যোগ্যতা পাওয়া যাবে না।ইতিমধ্যে নানা কর্মসুচীতে আবেদনকারী,বিতাড়ন আদেশপ্রাপ্ত বা বিভিন্ন মামলায় ঝুলে থাকা লোকজন এ আবেদনের সুযোগ পাবেন না বলে তিনি মনে করেন।নিউইর্কের অভিবাসন আইনজীবী সেলিম রিজবী টাইম টেলিভিষনের এক অনুষ্টানে বলেন প্রেসিটেন্ট ওবামার নির্বাহী আদেশ নিয়ে এখনো ফেডারেল গেজেট নোটিশ প্রকাশিত হয়নি। মধ্য মার্চের দিকে এ সংক্রান্ত আবেদনের একটি নির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!