যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নাজমুলকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা, নিউইয়র্কে ১৮ জুলাই শোক ও প্রতিবাদ সভা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নাজমুল ইসলামকে দুর্বৃত্তরা উপর্যপুরি মুখে আঘাত এবং শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পুলিশ রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী দুর্বৃত্তরা গত ৮ জুলাই ভোর রাত ৩ টায় নাজমুল ইসলামকে নিউইয়র্কের ওজনপার্কের নিজ বাসার দুই ব্লক দূরে আটলান্টিক এভিনিউ ও ৭৬ স্টিট্রের উপর নৃশংসভাবে হত্যা করে চলে যায়। স্থানীয় সময় ১১ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা ওজনপার্কের আল আমান মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে নাজমুল ইসলামের লাশ লংআইল্যান্ডে বিয়ানীবাজার সমিতির গোরস্থানে দাফন করা হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ রিপোর্টের বরাত দিয়ে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান জানান, দুর্বৃত্তরা নাজমুল ইসলামকে গত ৮ জুলাই ভোররাত ৩ টায় ওজনপার্কের নিজ বাসার দুই ব্লক দূরে আটলান্টিক এভিনিউ ও ৭৬ স্টিট্রের উপর হত্যা করে চলে যায়। হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির ভিডিও দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, হত্যাকান্ডের পূর্বে নাজমুল ইসলাম ওখানকার একটি দোকান থেকে বের হচ্ছিলেন। সে সময় দুই জন লোক তাকে অনুসরণ করছিলো। নাজমুল ইসলাম তার ফোন দিয়ে পুলিশ কল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশকে কল করার পূর্বেই দুর্বৃত্তরা নামজুল ইসলামকে আটলান্টিক এভিনিউর ৭৬ স্টিটের উপর আক্রমণ করে। দুর্বৃত্তরা তার মুখে উপর্যপুরি আঘাত করতে থাকলে এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নাজমুল ইসলামের মৃত দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে কে বা কারা পুলিশ কল করলে তাকে এম্বুলেন্সে করে জ্যামাইকা হাসপাতলে নেয়া হয়। সেখানে ডাক্তররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জ্যামাইকা হাসপাতালে থেকে ফোন করে তার মৃত্যুর খরবটি নাজমুল ইসলামের বাসায় জানানো হয় ৯ জুলাই ভোর ৫ টায় । ফোন পেয়ে নিকটাত্মীয়সহ অন্যান্যরা ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী তার মৃত্যু ঘটে রাত ৩টায়।
এদিকে, নিহত নাজমুল ইসলামের নামাজে জানাজা নিউইয়র্ক সময় ১১ জুলাই বাদ জুমা ওজনপার্কের আল আমান মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন নাজমুল ইসলামের ছেলে অনিক, বদরুল হোসেন খান, সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ প্রমূখ। জানাজায় নাজমুল ইসলামের ছেলে অনিক তার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। নামাজে জানাজায় কম্যুনিটির সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আক্তার হোসেন, সহ সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, আবুল কাশেম, শামছুদ্দিন আজাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, ঠিকানার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহিম বাদশা, মহি উদ্দিন দেওয়ান, এম এ সালাম, মোজাহিদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, এম এ করিম জাহাঙ্গীর, মোঃ আবুল মনসুর খান, হাজী এনাম, সোলেয়মান আলী, মাহাবুবুর রহমান টুকু, তৈয়বুর রহমান টনি, কাজী কয়েস, শামছুল আবেদিন, জহিরুল ইসলাম, মুজিবুল মওলা, স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, একে এম আলমগীর, লুতফুর রহমান সুইট, আজাদ আহমেদ (আজাদ ভিশন), রফিকুল ইসলাম, মাহী উদ্দিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরন্নবী কমান্ডার, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, আব্দুর সাকুর খান মাখন, কাজী কয়েস, যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, সহ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম,
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জেড চৌধুরী জুয়েল, বিয়ানীবাজার সমিতির সভাপতি আজিমুর রহমান বোরহান, সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান রুহেল, লীগ অব আমিরিকার সভাপতি বেদারুল ইসলাম বাবলা, আবুল কাশেম, শাহদাত হোসেন, মাসুদ হোসেন সিরাজী, তরিকুল হায়দার চৌধুরী, সাইফুল্লাহ ভূইয়া, মিরু ভূইয়া, জামাল উদ্দিন, নজরুল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক লোক শরীক হন।
বৃহত্তম এই জানাজাজায় হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে। জানাজা শেষে নাজমুল ইসলামকে একনজর দেখার জন্য মানুষ তার কফিনের কাছে ভীড় জমায়। প্রবাসী বাঙালিরা শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখার জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ান। নামাজে জানাজা শেষে নাজমুল ইসলামের লাশ লংআইল্যান্ডে বিয়ানীবাজার সমিতির গোরস্থানে দাফন করা হয়।
জানা যায়, নাজমুল ইসলামের দেশের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের চন্দ্রগামে। সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তফাজ্জল হোসেনের ছেলে নাজমুল ইসলাম ৮০’র দশকে যুক্তরাষ্ট্র আসেন। খুবই অমায়িক, বন্ধুবৎসল, নিরহংকারী ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি মা, এক মেয়ে রেবেকা, এক ছেলে অনিক ও আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। নাজমুল ইসলাম পুত্র/কন্যা এবং মাকে নিয়ে ওজানপার্কের বাসায় থাকতেন। নাজমুল ইসলামের তিন বোন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। এক বোন থাকেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।
তার দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ পুরো কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার এই অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সকলে। নিউইয়র্ক পুলিশের বরাত দিয়ে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান জানান, পুলিশ এখনো দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে পারেনি। তবে তাদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আগামী ১৮ জুলাই শুক্রবার কুইন্সের উডসাইডে গুলশান টেরেসে শোক ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!