যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর শোকজ নিয়ে সিদ্দিক-সাজ্জাদ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর কারণ দর্শানো নোটিশ নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, এটি গঠনতন্ত্র বিরোধী। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেছেন, দলের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই সভাপতির।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীকে সংগঠনের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র বিরোধী (৪৬ অনুচ্ছেদের ‘ঙ’ ধারা অনুযায়ী) কার্য্যকলাপের জন্যে গত ২২ অক্টোবর কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করেছেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক দপ্তর সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে নতুন করে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দপ্তর সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশের ব্যাপারে দলের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান অবহিত ছিলেন না জানিয়ে বলেছেন সিদ্ধান্তটি গঠনতন্ত্র বিরোধী। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেছেন, দলের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই সভাপতির। তাই তিনি এধরণের কথা বলছেন। সভাপতিই পূর্বে গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেছিলেন। আর আমি যা করেছি গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই করেছি। এব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ স্বাক্ষরিত কারণ দর্শাও নোটিশে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
২০ আক্টোবর ২০১৫ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের ‘বহিঃকার আদেশে প্রত্যাহার সংক্রান্ত চিঠি’ সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি এবং স্বাক্ষর ব্যতিত অবৈধভাবে এবং অসাংগঠনিকভাবে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করা। দলের সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ব্যতিত বিভিন্ন সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে সংগঠনের কার্যকরী কমিটিতে অন্তর্ভূক্তি এবং প্রদায়ন করে পত্র-পত্রিকায় নিজের নামে স্বাক্ষরিত বিবৃতি প্রদান করে দলের মধ্যে কোন্দল ও বিভক্তি সৃষ্টি করা। বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে কটুক্তি, মিথ্যাচার ও হুমকী প্রদর্শন করে বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার প্রদান করে দলকে জনগনের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা।
উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য কেন আপনাকে সংগঠন থেকে বহিঃস্কার করা হবে না, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উক্ত কারণ দর্শানো নোটিশের যথাযথ জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক দপ্তর সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রসঙ্গে দলের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাকে অবহিত না করে এধরনের চিঠি ইস্যু করতে পারেন না। সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদককে এভাবে কারণ দর্শানোর চিঠি দিতে পারেন না। ড. সিদ্দিক বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক সংগঠন পরিচালিত হয় সভাপতির পরামর্শ, মতামত আর নির্দেশে।
এব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই দপ্তর সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। প্রয়োজনে কার্যকরী পরিষদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এনিয়ে ভুল-বুঝাবুঝির কিছু নেই।
এব্যাপারে দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাকে কারণ দর্শাণোর নোটিশ প্রদানের কোন পত্র পাইনি, তবে সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি’। তিনি বলেন, দলের কোন নেতাকে শোকজ করতে হলে কার্যকরী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত লাগে বা সভাপতির অনুমোদন লাগে। সাধারণ সম্পাদক যা করেছেন তা অসাংগঠনিক। এব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই। আমি যা করেছি সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক হিসাবে তা সভাপতির অনুমতিক্রমেই করেছি। তিনি আরো বলেন, সাধারণ সম্পাদক নিজেই অসাংগঠনিক কর্মকান্ডে লিপ্ত, তিনিই বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে কোন্দল-উপকোন্দলের মাধ্যমে দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছেন।
ইউএনএ জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, বিষয়টি দু:খজনক। হঠাৎ করে সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক দপ্তর সম্পাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের ঘটনা দলের বিভেদ-বিভক্তিকে আরো বৃদ্ধি করবে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রমতে জানা গেছে, চলতি বছরের ওয়াশিংটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ১৫ আগষ্টের অনুষ্ঠানে দলীয় কোন্দল ও হাতাহাতির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন ডিসি ও ম্যারিল্যান্ড আওয়ামী লীগের তিনজন নেতাকে বহিষ্কার এবং পরবর্তীতে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না করার বিষয়ে দলের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওয়াশিংটনের নেতাদের বহিষ্কারাদেশে সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ঐ নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পত্রে সভাপতির নির্দেশ দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষর করেন। সূত্র জনায়, ওয়াশিংটনের নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিতে বললে অজ্ঞাত কারণে সাধারণ সম্পাদক ঐ চিঠি প্রদানে গড়িমসি করেন এবং শেষ পর্যন্ত সভাপতির নির্দেশে সভাপতি স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ পত্র দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী মিডিয়ায় প্রদান করেন। এনিয়েই দলের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং ফলশ্রুতিতে সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন বলে সূত্র জানায়। দলীয় নেতারা বলেন, দপ্তর সম্পাদকের স্বাক্ষরে ওয়াশিংটনের নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার যেমন ঠিক হয়নি, তেমনী সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক দপ্তর সম্পাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানও ঠিক হয়নি।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!