রমজানে ইতিকাফ

আল্লামা শামছুল আলম : মানবাত্মার পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপযুক্ত সময় হলো পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য নির্ধারিত ইবাদতের মাঝে কিছু ইবাদত এমন রয়েছে, যার দ্বারা আল্লাহ এবং তাঁর বান্দার মাঝে গভীর প্রেমের প্রভাব বিস্তার হয়। এসব ইবাদতের মাঝে ইতেকাফ হলো অন্যতম একটি। এর দ্বারা বান্দা অতি সহজেই আল্লাহর নৈকট্য লাভে সচেষ্ট হয়।
ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ হলো কোনো এক স্থানে অবস্থান করা। কোরআন-সুন্নাহর পরিভাষায় কতগুলো বিশেষ শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। বান্দা পার্থিব সব সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মসজিদে অবস্থান করা এবং পরিপূর্ণ একাগ্রতা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কায়েম করা ও নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করতে তাঁর দিকে রুজু হওয়ার যে বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তা অন্যান্য ইবাদত থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন—‘আর যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করো, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সঙ্গে মিশো না’ (সূরা বাকারা ১৮৭ নং আয়াতের অংশবিশেষ)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করতেন। হজরত নাফেয় বলেন, হজরত ইবনে ওমর (রা.) আমাকে মসজিদে নববীর ওই স্থানটি দেখালেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফ করতেন (সহিহ মুসলিম)।
ইতিকাফের অন্যতম ফজিলত হলো যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা ইতিকাফ অবস্থায় থাকে তার প্রতিটা মুহূর্তই ইবাদতের মাঝে গণ্য হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইতিকাফকারী গোনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যায়। এবং তার সব নেকি এমনভাবে লেখা হয় যেন সে নিজেই তা করে। (ইবনে মাজা, মিশকাতুল মাসাবিহ) নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফের প্রতি পরিপূর্ণ গুরুত্বারোপ করতেন এবং কখনও তা তরক করতেন না। ‘একদা তিনি বিশেষ কারণবশত রমজানে ইতিকাফ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে শাওয়াল মাসে তিনি ১০ দিন রোজা রেখে ইতিকাফ করে নিলেন’ (সহিহ বুখারি : বাবুল ইতিকাফ)। রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করা হলো সুন্নত। ২০ তারিখ সূর্য ডোবার আগে মসজিদে অবস্থান করবে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখা পর্যন্ত সেখানে থাকবে। পবিত্র শবেকদরের মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে ইতিকাফের ভূমিকা অপরিসীম। আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক মুসলমানকে ইতিকাফের প্রতি যথাযথ গুরত্বদান এবং পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।আল্লামা শামছুল আলম, শায়খুল হাদিস হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম/
অনুলিখন : শহীদুল আনওয়ার/আমার দেশ
ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ হলো কোনো এক স্থানে অবস্থান করা। কোরআন-সুন্নাহর পরিভাষায় কতগুলো বিশেষ শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। বান্দা পার্থিব সব সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মসজিদে অবস্থান করা এবং পরিপূর্ণ একাগ্রতা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কায়েম করা ও নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করতে তাঁর দিকে রুজু হওয়ার যে বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তা অন্যান্য ইবাদত থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন—‘আর যতক্ষণ তোমরা ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করো, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সঙ্গে মিশো না’ (সূরা বাকারা ১৮৭ নং আয়াতের অংশবিশেষ)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করতেন। হজরত নাফেয় বলেন, হজরত ইবনে ওমর (রা.) আমাকে মসজিদে নববীর ওই স্থানটি দেখালেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফ করতেন (সহিহ মুসলিম)।
ইতিকাফের অন্যতম ফজিলত হলো যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা ইতিকাফ অবস্থায় থাকে তার প্রতিটা মুহূর্তই ইবাদতের মাঝে গণ্য হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইতিকাফকারী গোনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যায়। এবং তার সব নেকি এমনভাবে লেখা হয় যেন সে নিজেই তা করে। (ইবনে মাজা, মিশকাতুল মাসাবিহ) নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফের প্রতি পরিপূর্ণ গুরুত্বারোপ করতেন এবং কখনও তা তরক করতেন না। ‘একদা তিনি বিশেষ কারণবশত রমজানে ইতিকাফ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে শাওয়াল মাসে তিনি ১০ দিন রোজা রেখে ইতিকাফ করে নিলেন’ (সহিহ বুখারি : বাবুল ইতিকাফ)। রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করা হলো সুন্নত। ২০ তারিখ সূর্য ডোবার আগে মসজিদে অবস্থান করবে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখা পর্যন্ত সেখানে থাকবে। পবিত্র শবেকদরের মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে ইতিকাফের ভূমিকা অপরিসীম। আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক মুসলমানকে ইতিকাফের প্রতি যথাযথ গুরত্বদান এবং পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।আল্লামা শামছুল আলম, শায়খুল হাদিস হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম/
অনুলিখন : শহীদুল আনওয়ার/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’