Tuesday, 20 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 111 বার

প্রকাশিত: August 1, 2013 | 5:00 AM

 

রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের দেয়া নিবন্ধন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত বলে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ রায় দেন। 

গত ১২ জুন এ রিট আবেদনের রুলের ওপর শুনানি গ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে গতকাল হাইকোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-এর সভাপতি হুমায়ূন কবির, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হাসানসহ ২৫ ব্যক্তি।
আবেদনে বলা হয়, চার কারণে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধন পেতে পারে না। জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সকল ক্ষমতার উত্স বলে মনে করে না। সেই সঙ্গে আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকেও স্বীকার করে না। জামায়াত একটি সামপ্রদায়িক দল; কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সামপ্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। আবেদনে আরো বলা হয়, নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না; কিন্তু জামায়াতের শীর্ষ পদে কখনো কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবেন না। আবেদনে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের বিদেশে কোনো শাখা থাকতে পারবে না। অথচ জামায়াত বিদেশের একটি সংগঠনের শাখা। তারা স্বীকারই করে, তাদের জন্ম ভারতে। বিশ্বজুড়ে তাদের শাখা রয়েছে।
২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি এ রিট আবেদনের ওপর বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতার প্রশ্নে রুল জারি করেন। রুলে রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর ইসিতে দাখিলকৃত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি(১)(বি)(২) ও ৯০(সি) ধারার লঙ্ঘন ঘোষণা করা হবে না মর্মে জানতে চাওয়া হয়। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। জারিকৃত এই রুল বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য নেয়া হয়; কিন্তু পরবর্তীতে ওই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তিত হওয়ায় এই রুলের ওপর তখন আর শুনানি হয়নি।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানির লক্ষ্যে একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন রিট আবেদনকারিগণের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে রুলের ওপর শুনানির জন্য এখতিয়ার প্রদান করেন প্রধান বিচারপতি। 
গত ১০ মার্চ আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে এই আবেদনের সঙ্গে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্ন জড়িত থাকায় বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠায় হাইকোর্টের ওই ডিভিশন বেঞ্চ। এরপর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। ওই বেঞ্চেই গত এপ্রিল মাসে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়।
উল্লেখ্য, জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে রুল জারির পর ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে একবার, ২০১০ সালের জুলাই ও নভেম্বরে দুই বার এবং ২০১২ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে দুই বার দলটি তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এসব সংশোধনীতে দলের নাম ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ করা হয়।ইত্তেফাক

‘শেখ হাসিনার জন্য সুখবর’

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। সিএনএন, বিবিসি, আল জাজিরাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত রিপোর্টে জামায়াতকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী দল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সিএনএন অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চ আদালত বৃহত্তম ইসলামী দলকে অবৈধ ঘোষণা করল। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত বাংলাদেশের দু’টি প্রধান বিরোধী দলের একটি। এ রায়ের ফলে জামায়াত আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না- যা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সুখবর। তবে এ রায়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিবিসি অনলাইনের সর্বশেষ সংবাদে এ খবরটি দেয়া হয়েছে। বিবিসির শিরোনামে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী দলের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ। আল জাজিরা অনালাইনে এ সংক্রান্ত সংবাদের শিরোনাম ‘জামায়াতকে অবৈধ ঘোষণা করলো বাংলাদেশের আদালত।’ এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চ আদালত দেশের প্রধান ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছে। আর এর মাধ্যমে জানুয়ারিতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণকে নিষিদ্ধ করা হলো।মানবজমিন

‘নির্বাচনে অংশ নিতে কোন সমস্যা হবে না’ -জামায়াতের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, জামায়াতের নিবন্ধনের ব্যপারে হাইকের্টের রায় ‘ভুল’। এই রায়ের কারণে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণে কোন সমস্যা হবে না। কারণ, আমরা রায়ের পরই উচ্চ আদালতে এর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছি। যেহেতু আমাদের আবেদনটি অমিমাংশিত রয়েছে, সেহেতু মিমাংসার আগে জামায়াতের নির্বাচনী কর্যক্রমে কোন অসুবিধা হতে পাওে না। রায়ের পর আদালতে গণমাধ্যমের কাছে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কয়েকটি কারণে আমি রায়কে ‘ভুল’ বলছি। প্রথমত, জামায়াতের নিবন্ধনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন বিষয়। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সাংবিধানিক কোন প্রতিষ্ঠানের বিবেচনাধীন বিষয়ে হাইকোর্টে রিট চলতে পারে না। দ্বিতীয়ত, যিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে রিট করেছেন তিনি তরিকত ফেডারেশন নামে একটি দলের নেতা। আমরা আদালতকে দেখিয়েছি, তরিকত ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রেও জিহাদসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এ রিটটি টিকবে না।

‘শর্তপূরণ করে ফের আবেদন করতে পারবে জামায়াত’ -নির্বাচন কমিশনের প্রধান অইনজীবী ড. শাহদীন মালিক

জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে দায়ের করা রিটের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রধান অইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়নি। এই রায়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে জামায়াত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আপাতত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তারা শর্ত পূরণ করে পুনঃরায় নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবে। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গনে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, জামায়াতের উপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সে তুলনায় এটা তেমন কিছু না। এই রায়ের কারণে তাদের মিছিল, মিটিং, রাজনৈতিক কর্মসূচি বা মতামত প্রচারে অসুবিধা হবে না। এ আইনজীবী বলেন, এ রায়ের ফলে কিছু কিছু এলাকায় জামায়াত হয়তো অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। তবে তাদের খুব বেশি জনসমর্থন নেই বলে আমার ধারণা। তাই তারা সারাদেশে তেমন কোন অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না।মানবজমিন

রায়ের কপি হাতে পেলে সিদ্ধান্ত: সিইসি

কাজী রকিব উদ্দীন আহমদকাজী রকিব উদ্দীন আহমদপ্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি। আপিল করা হবে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলেই সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছেন আজ। একই সঙ্গে আদালত এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিধান দিয়েছেন। জামায়াত এই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করেছে।প্রথম আলো 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ