Sunday, 21 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

রূপসজ্জা বিশেষজ্ঞ ম. ম. জসীম এখন নিউইয়র্কে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 178 বার

প্রকাশিত: April 15, 2014 | 10:33 PM

ইউএসএ নিউজ অনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রূপসজ্জা বিশেষজ্ঞ ম. ম. জসীম এখন নিউইয়র্কে। আধুনিক বিউটি সেলুন পারসোনা নিউইয়র্ক-এর মেকআপ কনসালটেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের মেকআপ আর্টিস্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ম. ম. জসীম এর সাথে অলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার কর্মময় জীবনের নানা দিক।
মেক হচ্ছে শক্তিশালী গণমাধ্যম। দর্শকরা হলে বসে ছবি দেখে আনন্দ পান, বিনোদন নেন। চলচ্চিত্রের রয়েছে বিভিন্ন শাখা প্রশাখা। পরিচালক ছাড়াও একটি ছবির নেপথ্যে কাজ করেন অনেক কলাকুশলী। যেমন- চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, ড্রেসম্যান, লাইটম্যান, শিল্প নির্দেশক, ফাইট নির্দেশক ও মেকআপম্যান। এদের প্রত্যেকের রয়েছে আবার দুই তিনজন করে সহকারী। এরাই একদিন কাজের নিষ্ঠা দিয়ে হয়ে যান এককভাবে পুর্ণাঙ্গ কারিগর। চলচ্চিত্রের এমন একজন নেপথ্যের কারিগর হচ্ছে ম. ম. জসীম। আমরা যাকে বলি মেকআপ আর্টিস্ট। জসীম মূলত চলচ্চিত্রের একজন মেকআপ আর্টিস্ট। আমরা সবসময় প্রচলিত ভাষায় যাকে বলি মেকআপম্যান।
ম. ম. জসীমের পুরো নাম মৃধা মোঃ জসীম। পিতার নাম মৃধা মোঃ ইছহাক, মাতা আঞ্জুমানারা। জন্মস্থান বরগুনার কেওরা বুনিয়া। জসীম ১৯৭৯ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে আসেন। তার প্রথম কাজের হাতে খড়ি প্রয়াত মেকাপম্যান শহিদুল ইসলাম শহীদের কাছে। তিনি ১৯৮১ সালে মমতাজ আলী পরিচালিত ‘নালিশ’ ছবিতে সহকারী মেকআপম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন। সহকারী হিসেবে প্রায় ৩০০ ছবিতে কাজ করার পর ১৯৮৪ সালে বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘আমানত’ ছবিতে পূর্ণাঙ্গ মেকআপম্যান হিসেবে আবির্ভূত হন। মেকআপম্যান হিসেবে আরো যেসব ছবিতে তিনি কাজ করেছেন এর অন্যতম হলোÑ মশাল টার্গেট, কালপুরুষ, গুন্ডা পুলিশ, রাজা নাম্বার ওয়ান, কমলার বনবাস, উত্তরের ক্ষেপ, আত্মদান, মধুমতি, একখন্ড জমি, ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের অন্তর্ধান, দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘হেড মাস্টার’ ডিএফপির প্রয়োজনা ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা’ সালাউদ্দিন লাভলুর ‘মোল্লা বাড়ীর বউ, ফারুক হোসেনের ‘কাকতারুয়া’ এবং চাষী নজরুলের ‘ভুল যদি হয়’, দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর টাইম মেশিন প্রভৃতি।
চলচ্চিত্রের বাইরে তিনি ইভেন্ট, টিভি শো, নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রের মেকআপম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এরমধ্যে ‘লাক্স আনন্দ ধারা ফটো জেনিক মিস বাংলাদেশ’ ইভেন্ট-এর ফটো সুন্দরীদের মেকআপ তিনিই করতেন। বৈশাখী টিভির প্রযোজনায় ‘তারামন বানু’ অনুষ্ঠান, বিজিএমইএ-এর গার্মেন্টস শ্রমিকদের রিয়েলিটি শো ‘গর্ব’ ছাড়াও বহু ব্রাইডল মেকআপ এবং অসংখ্য মঞ্চ নাটকের মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। জসীম বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশিন ‘চ্যানেল ওয়ান’-এ চিফ মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ট্রাস্ট নির্মিত ‘বিশ্বাস’ ধারাবাহিক নাটকের চিফ মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃটিশ মেকআপ আর্টিস্ট এরিকা অকভিস্ট-এর কাছে আধুনিক ম্যাকআপ সিস্টেম এয়ার ব্রাশের উপরে থিউরেটিক্যাল ও প্রাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিফ মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। চিত্রগ্রাহক এম এ সামাদের ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন কোর্স-এর শুরু থেকে টানা ছয় বছর প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ডিএফপি প্রযোজিত অসংখ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য ও তথ্যচিত্রের মেকআপম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৪শতাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রের মেকআপম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এসবের মধ্যে গ্রামীণ ফোন ও বাংলালিংক অন্যতম।
ম. ম. জসীম বলেন, সাবের ভাই, টুটুল ভাই ও আফজাল হোসেন যখন বিজ্ঞাপন নির্মাতা হয়ে ওঠেননি তখন জানেসার ওসমানই বিজ্ঞাপন নির্মাতা ছিলেন। ম. ম. জসীম জানেসার ওসমানের বহু বিজ্ঞাপন ও একটি পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্ছিত্রেও মেকআপের কাজ করেছেন।
পরবর্তিতে অভিনেতা ও নির্মাতা তারিক আনাম খান ও আফজাল হোসেনের অসংখ্য বিজ্ঞাপনের মেকাপ করেছের জসীম। সালাউদ্দিন লাভলুর মোল্লা বাড়ীর বউ, প্রথম নাটক ‘কৈতব’ থেকে শুরু করে অসংখ্য প্রোডাকশনেও তিনি কাজ করেছেন। আফজাল হোসেনের বিজ্ঞাপন, নাটক ও রিয়েলিটি শো ‘গর্ব’তে কাজ করেন তিনি। নিমা রহমানের ‘ভালোবাসা কারে কয়, দুটি পাতা একটি কুড়ি’ ধারাবাহিক নাটকসহ অসংখ্য প্রোডাকশনে ম্যাকআপের কাজ করেছেন।
ম. ম. জসীম বলেন, বাংলাদেশে যখন বিউটি পার্লারের প্রচলন ছিল না তখন একমাত্র ‘গীতিস বিউটি পার্লার’ ছিল। তার সূত্র ধরে সচেতন মহিলারা পার্লারমুখী হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে গড়ে ওঠে অসংখ্য বিউটি পার্লার। যেমন পারসোনা, ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, ফারজানা শাকিলস ইত্যাদি। তিনি বর্তমানে পারসোনা নিউইয়র্কে রাতদিন পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত আছেন।
কন্ঠশিল্পী মমতাজের বেশির ভাগ স্টেজ শো ও অ্যালবামের কাজে তাকে মেকআপ দিয়েছেন জসীম। তার এই ক্যারিয়ারের পেছনে কার অবদান বেশি এমন প্রশ্নের জবাবে জসীম বলেন, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জাহানারা ভুঁইয়ার কাছে আমি বেশি কৃতজ্ঞ। ম্যাকআপম্যান হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার পেছনে জাহানারা ভুঁইয়ার অবদান অনস্বীকার্য। সেই থেকে জসীম লাইম লাইটে চলে আসেন। আরো যাদের কাছে কৃতজ্ঞ মেকআপ ম্যান ছোট রহমান, চলচ্চিত্র সম্পাদক আতিকুর রহমান মল্লিক, অভিনেতা মরহুম রাজ, পরিচালক রুহুল আমিন। পরিচালক শাহজাহান চৌধুরীর কাছেও তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি তার ছবিতে সুযোগ না দিলে তিনি হয়তো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতি পেতেন না।
শাহজাহান চৌধুরীর প্রায় সবগুলো চলচ্চিত্রেই মেকআপম্যান ছিলেন জসীম। তার পরিচালিত ‘একখন্ড জমি’ ছবিতে কাজ করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। নবাগত শিল্পী, কলাকুশলীদের প্রতি এবং বর্তমান প্রজন্মের প্রতি তার কোনো পরামর্শ আছে কি-না জানতে চাইলে জসীম বলেন, মেকআপ শিল্পকে বিশ্বমানের করে তুলতে হলে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের এগিয়ে আসতে হবে। অনেকই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নাট্যতত্ব, চলচ্চিত্র ও মিডিয়া স্টাডিজে পড়াশুনা করছেন। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের ইচ্ছে থাকে পরিচালক হবেন, ক্যামেরাম্যান হবেন, এডিটর হবেন; কিন্তু মেকআপ বিষয়টাকে কেউ প্রফেশন হিসেবে চিন্তা করেন না। দেশে এখন মেকআপকে পেশাগত ভাবে নেয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। যেহেতু চলচ্চিত্রের বাইরে প্রায় ৪০টি প্রাইভেট চ্যানেল রয়েছে সেহেতু মেকআপম্যানদের চাহিদা রয়েছে। বিশ্বের নামকরা চলচ্চিত্রে যে সমস্ত ম্যাকআপ আটিস্ট কাজ করছেন তারা বিশেষ বিশেষ চরিত্রের ম্যাকআপের জন্য কি ধরনের ম্যাকআপ সামগ্রী ব্যবহার করেন, তা এখন ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। তরুণ প্রজন্মকে সে তথ্য জেনে বিশ্বমানের মেকআপ করার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। জসীম বলেন, তারা এগিয়ে আসলে আমি তাদের পাশে থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবো ইনশাল্লাহ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV