হার্ভার্ডে সেমিনারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল: ‘নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি’
কাউসার মুমিন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বস্টন: ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বদলের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্দলীয় সরকারের দাবিটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সমর্থিত একটি জাতীয় দাবি। সরকার নিজেই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে, তাই এর পুনর্বহালের কাজটিও সরকারকেই করতে হবে। আর বর্তমান সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ এ সরকারের পক্ষে এ কাজটি করা মোটেই কঠিন কিছু নয়, শুধুমাত্র সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট।’ গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হার্ভার্ড স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অ্যাপ্লাইড সাইন্স’-এর ম্যাক্সওয়েল ডরকিন অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাচিভিং এজ ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে উপরোক্ত মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিএনপি মহাসচিব গতকাল সিভিল সোসাইটি থিংক ট্যাংক ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ আয়োজিত দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিকালের অধিবেশনে ‘সাসটেইনেবিলিটি অব গুড গভর্ন্যান্স’ পর্বে ‘রেসপোন্সিভ এন্ড সাসটেইনেবল গভর্ন্যান্স’ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বাংলাদেশে সুশাসনের ঘাটতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্বব্যাংকের ২০১০ সালের এক সমীক্ষায় সুশাসনের সবগুলো সূচকের বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নেতিবাচক ছিল, যার ফলে সুশাসনে বিশ্বের গড় হিসবে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল একেবারে তলানির দিকে। এ বছর বিশ্বের ব্যর্থতম রাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের ২৯তম অবস্থান এবং ২০১১ সালের ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির বিশ্ব তালিকা’য় বাংলাদেশের অবস্থান ‘মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ’ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দুইয়ের সম্মিলনের ফলে এখন বড় রকমের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর অর্থনৈতিকভাবে আবার ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের জন্য খুব দুরূহ হয়ে পড়েছে। মহাসচিব তার লিখিত বক্তৃতায় বাংলাদেশে বর্তমান সরকার ও সরকারি দলের ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন’, দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, গুম হত্যর মাধ্যমে মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন, বিরোধী দলের সঙ্গে সংঘাত সংকুল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, বিতর্কিত সংবিধান সংশোধন, উচ্চতর আদালতের রাজনৈতিক অপব্যবহার, আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার, একদল ও এক ব্যক্তির শাসন, দুর্বল স্থানীয় সরকার, সংবাদ মাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ, সুশীল সমাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বিনা শাস্তিতে অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিস্থিতির উদাহরণসহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন। বক্তৃতায় সুশাসনের জন্য নীতি নির্ধারণে নিজস্ব মতামত দিতে গিয়ে তিনি সরকারি আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ বন্ধে এবং প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, আধুনিক, পেশাদার, কার্যকর ও কর্মক্ষম আমলাতন্ত্রের বিনির্মাণে একটি ‘গভর্ন্যান্স রিফর্ম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেন। এছাড়া প্রশাসনে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে ‘রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ’, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবি’র ইন্টেগ্রিটি এক্সপার্টদের টেকনিক্যাল সহযোগিতায় বিদ্যমান দুর্নীতি দমন কমিশনকে জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের আলোকে ঢেলে সাজানোর জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যালোচনা কমিটি গঠন; বিচার বিভাগে রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধে করণীয় নির্ধারণে ‘জুডিশিয়াল কমিটি’ গঠন এবং প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বাজেট বরাদ্দের সুষ্ঠু তদারকির জন্য একটি করে আলাদা ‘ইন্টেগ্রিটি এডভাইজার’ নিয়োগ করা যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন।
বিকেলের সেশনে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির পরিচালকের পক্ষে ইউএনডিপির ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স গ্রুপের প্র্যাক্টিস ম্যানেজার জামশেদ কাজি। জামশেদ ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএনডিপির পার্টনারশিপের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংস্থাটির এ পর্যন্ত নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে জানান, ২০১০ সালে ইউএনডিপি বিশ্বজুড়ে ৫০৩ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যার ৩৩% কেবল সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যয় হয়। এর আগে সম্মেলনের সকালের সেশনে ‘ইম্প্যাক্ট অফ টিপাইমুখ ড্যাম অন বাংলাদেশ’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ারস’-এর সভাপতি প্রকৌশলী এনামুল হক, এবং ‘ওমেন ফর উয়াটার শেয়ারিং’ শিরোনামে বক্তব্য উপস্থাপন করেন হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ভিজিটিং ফেলো হাসনা মওদুদ। হাসনা মওদুদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারকে জাতীয় স্বার্থে ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ নন-নেভিগেশনাল ওয়াটার কনভেনশনে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান। তিনি সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশী আমেরিকানদের ভারত সরকার প্রস্তাবিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্লের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশী পেশাজীবীদের সিভিল সোসাইটি থিংক ট্যাংক ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ আয়োজিত হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নিউইয়র্ক, নিউইংল্যান্ড ও ওয়াশিংটনের কয়েকশত নেতাকর্মী ও সমর্থক ছাড়া নতুন প্রজন্মের কোন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী, হার্ভার্ডের নিয়মিত কোন শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি দিনব্যাপী এ সম্মেলনে গ্রামীণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভিডার জরজেনসোন ছাড়া মূলধারার কোন মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়া সম্মেলনের বিকালের সেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নিসা বাপ্পীর বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি নির্ধারিত থাকলেও তাদের কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
বিকেলের সেশনে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির পরিচালকের পক্ষে ইউএনডিপির ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স গ্রুপের প্র্যাক্টিস ম্যানেজার জামশেদ কাজি। জামশেদ ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএনডিপির পার্টনারশিপের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংস্থাটির এ পর্যন্ত নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে জানান, ২০১০ সালে ইউএনডিপি বিশ্বজুড়ে ৫০৩ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যার ৩৩% কেবল সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যয় হয়। এর আগে সম্মেলনের সকালের সেশনে ‘ইম্প্যাক্ট অফ টিপাইমুখ ড্যাম অন বাংলাদেশ’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ারস’-এর সভাপতি প্রকৌশলী এনামুল হক, এবং ‘ওমেন ফর উয়াটার শেয়ারিং’ শিরোনামে বক্তব্য উপস্থাপন করেন হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ভিজিটিং ফেলো হাসনা মওদুদ। হাসনা মওদুদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারকে জাতীয় স্বার্থে ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ নন-নেভিগেশনাল ওয়াটার কনভেনশনে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান। তিনি সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশী আমেরিকানদের ভারত সরকার প্রস্তাবিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্লের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশী পেশাজীবীদের সিভিল সোসাইটি থিংক ট্যাংক ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ আয়োজিত হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নিউইয়র্ক, নিউইংল্যান্ড ও ওয়াশিংটনের কয়েকশত নেতাকর্মী ও সমর্থক ছাড়া নতুন প্রজন্মের কোন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী, হার্ভার্ডের নিয়মিত কোন শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি দিনব্যাপী এ সম্মেলনে গ্রামীণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভিডার জরজেনসোন ছাড়া মূলধারার কোন মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়া সম্মেলনের বিকালের সেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নিসা বাপ্পীর বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি নির্ধারিত থাকলেও তাদের কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
সর্বশেষ সংবাদ
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity