শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে চালু হবে না বিমানের নিউইয়র্ক ফ্লাইট
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রেস্টিজ রুট ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা রুট। এই রুটের ফ্লাইট চলাচল শুরু করার জন্য সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করলেও এখনও সাফল্য আসেনি। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে চালু হবে না বিমানের নিউইয়র্ক ফ্লাইট।
সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, সরকার শর্ত পূরণের জন্য কয়েক বছরে অনেক উদ্যোগ নিলেও তা এখনও মার্কিন সিভিল এভিয়েশন অথ্যরিটির ক্যাটাগরী অনুযায়ী অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আর এই কারণেই এই রুটের ফ্লাইট সহসা সম্ভব হবে না। এই রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট চালাতে হলে মার্কিন সিভিল এভিয়েশেনের সকল শর্ত পূরণ করতেই হবে। ওই সব শর্ত পূরণ করতে না পারলে এই রুটের ফ্লাইট পরিচালনা বিমানের স্বপ্নই থেকে যাবে। এক সময়ে বিমান লোকসানের অজুহাতে এই রুটের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। তা দিলেও এখন লোকসান দিয়ে চালানোর চেষ্টা করছে তার পরও পারছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ মনে করেছিল তারা বিমান বহরের জন্য উড়োজাহাজ কিনেই ফ্লাইট চালুর সুবিধা নিবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। বিমানের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে মার্কিন সিভিল এভিয়েশন আগ্রহী হলেও নিয়ম অনুয়ায়ী বিমানের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কিছু শর্ত বেঁেধ দেয়। ওই সব শর্ত পূরণ করার জন্য বিমান ও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনকে সময় দেয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এই কারণে কয়েকদফা সময়ও নিয়েছে। তাদের তরফ থেকে সময় দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে কাজ শেষ করার জন্য। কিন্তু বার বার সময় নিলেও তা করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার ও সিভিল এভিয়েশন অথ্যরিটি। এখন সেটা করতে না পারায় এই রুটের ফ্লাইট চালু হওয়ার বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবী করে আসছিল যে তারা মার্কিন সিভিল এভিয়েশনের শর্ত অনুযায়ী বিমানবন্দরের স্থাপনা তৈরি, সংস্কার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লোকবল নিয়োগ থেকে শুরু করে যে সব শর্ত ছিল তা পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তা করছেন। এই বছরই তারা এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার শর্তগুলো পূরণ করতে পারবেন। যেগুলো বাকি থাকবে সেগুলো পর্যায়ক্রমে করবেন এমন আশা করে আবারও সময় নেয়ার চেষ্টা করেন। সূত্র জানায়, সিভিল এভিয়েশন চেষ্টা করলেও শর্ত পূরণ না হলে তারা কোন প্রকার ছাড় দিতে পারবে না বলে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তরফ থেকে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই ভাবে কাজ হবে না বলে জানায় সংশ্লিস্ট সূত্র। তাদের মতে, নাইন ইলেভেনের পর মার্র্কিন সিভিল এভিয়েশন বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে অনেক নিয়ম কঠোর করেছে। এই ক্ষেত্রে তারা কোন দেশের জন্যই ছাড় দিচ্ছে না। সেখানে বাংলাদেশের বিমানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। বিমানের ফ্লাইট চালাতে হলে শর্ত পূরণ করেই চালাতে হবে।
এদিকে এই অবস্থায় অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পরেছে বিমানের এই রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি। জাসদ নেতা ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য মঈনুদ্দীন খান বাদল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেও এই রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর চেষ্টা করেন। তবে সাফল্য আসেনি। নিউইয়র্ক-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু করার বিষয়ে প্রবাসীদের কাছে তিনি বলেছেন, আমরা প্রবাসীদের প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলাম এই রুটে বিমান চলবে। এই জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তারিখও ঘোষণা করেছিলাম। আমরা এই তা রক্ষা করতে পারিনি। তিনি জানান, আমেরিকার সিভিল এভিয়েশন আমাদের শর্ত দিয়েছিল ডিসি-১০ উড়োজাহাজ তারা অ্যালাউ করবে না। এই জন্য আমরা আমেরিকার কাছ থেকে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার দিয়ে অত্যাধুনিক বিমান বোয়িং- ৭৭৭-৩০০ কিনি। তাতে লাভ হয়নি। এখন শর্ত দিচ্ছে আমাদের সিভিল এভিয়েশন ক্যাটাগরি টু। আমরা তাদের বলছি এই ক্যাটাগরিতে তো আরো বিমান জেএফকেতে আসছে। আমাদের কেন দেবে না? কোন উত্তর মিলেনি। তিনি অভিযোগ করেন, একটির পর একটি শর্ত দিয়ে যাচ্ছে। আরো দাবি করেছেন, তারা আমাদের যেসব শর্ত দিয়েছিলো এর মধ্যে ৮টি পূরণ করেছি। তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা চেকের কথা বলছে। যেভাবে এটা করার জন্য বলা হয়েছে সেটা আমাদের দেশে সম্ভব নয়। এই রুট চালুর ব্যাপারে তিনি দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মিলিতভাবে আমেরিকা প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন বলেছেন, বিমানের নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইট চালু হোক এটা আমরা চাই। কিন্তু এটাতে রাজনীতি আনলে হবে না। তারা যে নিয়ম করে দিয়েছে এই নিয়ম মেনেই করতে হবে। সেটা করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার সেটা করতে পারলে ভাল হবে। এই রুটে আগে বিমানের ভাল উড়োজাহাজ ছিল না, সিডিউল ঠিক থাকতো না বলে যাত্রীরা যেতে চাইতো না। এখনতো ভাল ও উন্নতমানের উড়োজাহাজ আছে। কিন্তু নিয়ম মানতে পারছে না। আমরা মনে করি নিয়মগুলো মেনেই যত দ্রুত সম্ভব বিমানের এই রুটের ফ্লাইট চালু করতে পারলে ভাল হবে। এতে করে বিমানে আমরা গেলে পয়সাটা বিদেশী এয়ারলাইন্সের কাছে যাবে না। আবার আমাদের প্রেস্টিজও বাড়বে। এই রুটে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলে। বাংলাদেশের বিমান চলে না এটা কিছুটা হলেও খারাপ লাগে। তাই আমরা মনে করি এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যে যে শর্ত আছে এর পুরোটাই মানতে হবে। আংশিক মেনে এরপর রাজনৈতিকভাবে চেষ্টা করলে লাভ হবে না। কারণ এখানে রাজনীতির চেয়ে বড় হচ্ছে আমেরিকার নিয়ম। সেই নিয়ম না মানার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। তাই এই ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিবে বলেও আমরা আশা করি। মার্কিন প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য এক নেতা বলেছেন। সেটা করে কি আদৌ চাপ বাড়ানো যাবে। মার্কিন সরকার চাপে কাজ করে না। নিয়ম মানলেই এই রুটে ফ্লাইট চলতে সমস্যা নেই। সেটাই করতে হবে। তবেই আবার চালু হবে বিমানের নিউইয়র্ক ফ্লাইট। সেটাই আমরা চাইছি।
এদিকে বিমানের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, বিমানের ফ্লাইট নিউইয়র্কে যেতে এখন আমাদের সমস্যা নেই। সমস্যা সিভিল এভিয়েশনের। তারা বিমানবন্দরের ক্যাটাগরী এখনও এ তে উন্নীত করতে পারেনি। তা করতে না পারলে বি ক্যাটাগরীতে থাকা অবস্থায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা করেও লাভ হবে না। এখন সিভিল এভিয়েশন কবে নাগাদ তাদের শর্ত পূরণ করতে পারবে আমরা তা জানি না। মূলত তাদের জন্য আমরা আটকে আছি।
সিভিল এভিয়েশনের একটি সূত্র জানায়, শর্তের মধ্যে লোকবল বাড়ানোর কথাও রয়েছে। আমাদের পক্ষে এখন ওই ভাবে লোকবল বাড়ানো সম্ভব না। কারণ বাজেট নেই। এই পর্যন্ত আমরা যতখানি কাজ করেছি তাতে করে তারা অনুমতি দিলে আমরা বাকিগুলো আস্তে আস্তে সম্পন্ন করতে পারতাম।আমাদের সময়.কম
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!