শিশুর দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা!
শ্রেণিকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ কম। ঘন ঘন মাথা নেড়ে বা হাই চেপে রেখে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টা। বিদ্যালয়গামী শিশুদের এ রকম আচরণ মাঝেমধ্যে দেখা যায়। চোখের নিচে কালো দাগ দেখে বোঝা যায়, রাতে তাদের ঘুমে অনিয়ম হচ্ছে।
আধুনিক জীবনযাত্রায় পাল্টাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার ধরন ও নানা অভ্যাস। শিশুরাও এসবের প্রভাবমুক্ত নয়। সন্ধ্যারাত পেরোলেই তারা ঘুমাতে যায় না। বরং কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা টেলিভিশনের যান্ত্রিক পর্দায় চোখ রাখছে লম্বা সময়। এতে তাদের স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে। ফিনল্যান্ডের শিশুদের অনিয়মিত ঘুমের জন্য সে দেশের একদল গবেষক এনার্জি ড্রিংক ও স্মার্টফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকে দায়ী করেছেন। দেশটিতে গত ২০ বছরে অনিদ্রা রোগের হার আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার জানায়, ফিনল্যান্ডে ২০ শতাংশ কিশোরী ও ১০ শতাংশ কিশোর দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিতে ভুগছে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা তাদের সহপাঠী ছেলেদের তুলনায় বেশি হরমনজনিত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় তারা তুলনামূলক বেশি অনিদ্রায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
শিশুদের দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার প্রভাবে পরবর্তী জীবনে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে রয়েছে বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদ্রোগ ইত্যাদি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা চিন্তিত, তাঁদের ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়ছে। নিয়মিত এ ধরনের প্রবণতায় তাদের সার্বিক পড়াশোনায় বড় রকমের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অনিদ্রায় আক্রান্ত শিশুদের ফলাফল আর সুস্থ শিশুদের ফলাফলের তুলনা করলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে যায়। শিক্ষাব্যবস্থা যতই ভালো আর আধুনিক হোক না কেন, ব্যক্তিজীবনে ছাত্রছাত্রীরা নিয়ন্ত্রিত ও সুস্থ জীবন যাপন না করলে সবকিছুই বিফলে যায়।
চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এনার্জি ড্রিংক বা তাৎক্ষণিক শক্তিবর্ধক বিভিন্ন কোমল পানীয়ের প্রতি শিশুদের নানাভাবে আকৃষ্ট করা হয়। উচ্চ ক্যালরির এসব পানীয় নানা রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তি মাধ্যমগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার তাদের ক্ষতি করছে সবচেয়ে বেশি। আইপড, ট্যাবলেট, কম্পিউটার, মুঠোফোন ও স্মার্টফোনের রঙিন পর্দার দিকে নিয়মিত বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে মেলাটোনিন নামের হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে নিয়মিত ঘুমে বিঘ্ন ঘটে। শহরের ছাত্রছাত্রীদের অনেকের কাছেই আজকাল স্মার্টফোন থাকে। সন্তানের আবদার মেটাতে মা-বাবা অনেক সময় প্রয়োজন ছাড়াই কিনে দিচ্ছেন এসব আধুনিক যন্ত্র। কিন্তু শিশুদের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে এ ধরনের প্রযুক্তি পণ্য যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা প্রমাণিত সত্য। গবেষকেরা তাই এখন শিশুদের মা-বাবাকেই পরামর্শ দিচ্ছেন শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত ঘুমের অভ্যাস করানোর ব্যাপারটা নিশ্চিত করার জন্য। তারা যেন ঘুমাতে যাওয়ার আগে লম্বা সময় ধরে যান্ত্রিক পর্দায় চোখ রাখা থেকে বিরত থাকে। এমনকি ১৩-১৪ বছর বয়সের শিশুদেরও স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর ঘুমের ব্যাপারটা শিখিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। যদিও ওই বয়সে বা আরও কিছুদিন পরে ব্যাপারটা মা-বাবার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, শিশুদের মঙ্গলের জন্যই অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি। কৈশোরে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়েরা স্বাধীনচেতা হতে শুরু করে। সূত্র: গার্ডিয়ান।প্রথম আলো
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone