শিশুর মানসিক বিকাশে নবী সা. এর আদর্শ
সাইদুর রহমান: আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত। সুস্থ পরিবেশ, আদর, স্নেহ, মমতার পাশাপাশি কৌশলে ভবিষ্যত প্রজন্মের মানসিক বিকাশ ঘটাতে হবে। পক্ষান্তরে তাকে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া, ভয় দেখানো, ধমক দেওয়া বা তাকে অবহেলা করা হলে তার আবেগিক, সামাজিক ও মেধাগত দক্ষতার বিকাশ ব্যাহত হয়।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য তাদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেছেন, তা হাদিসে বর্ণিত আছে। শিশুর উত্তম ও যুগোপযোগী শিক্ষাদানের লক্ষ্যে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞানদান করো। কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য সৃষ্ট।’ (মুসলিম)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) একবার হাসান ইবনে আলীকে চুম্বন করেন। ওই সময় তার কাছে আকরা ইবন হাবিস তামিমি (রা.) বসা ছিলেন। আকরা ইবনে হাবিস (রা.) বললেন, আমার ১০টি পুত্র আছে, আমি তাদের কাউকেই কোনোদিন চুম্বন করিনি। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দিকে তাকালেন, তারপর বললেন, যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না। -বোখারি ও মুসলিম শরিফ
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। তাদের নিজের সন্তানের মতো আদর করতেন। নামাজে থাকা অবস্থায় কোনো শিশু কাঁদলে তিনি নামাজ সেরে শিশুর কাছে ছুটে যেতেন। তিনি চাইতেন, শিশুরা যেন না কাঁদে। তারা যেন কষ্ট না পায়। শিশুদের মনের চাহিদা মেটাতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত যতœশীল। শিশুদের শারীরিক নির্যাতন না করে তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাদানের কথা বলতে গিয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা সন্তানদের স্নেহ করো, ভালো ব্যবহার করো তাদের সঙ্গে এবং ভালো ব্যবহার ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও। -তিরমিজি শরিফ
মেয়েকে অবহেলা করে ছেলেকে অধিক গুরুত্বদান ইসলামে নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারটি শিশু সন্তানকে আদর করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সব সন্তানের প্রতি সমান ব্যবহারের একটি ঘটনা হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে। হজরত আনাস ইবন মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক সাহাবি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বসে ছিলেন। তার শিশুপুত্র তার কাছে এলে ওই সাহাবি তাকে চুমু দিয়ে কোলে বসালেন। পরক্ষণেই তার একটি মেয়ে এলে তিনি মেয়েটিকে সামনে বসিয়ে দিলেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) খুশি হলেন না এবং তাকে বললেন, ‘উভয়ের মাঝে সমান আচরণ করা কি তোমার উচিত ছিল না!’
কোনো শিশু দুষ্টুমি করলেও হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে কড়া শাসন না করে হাসিমুখে শোধরানোর কৌশল বের করতেন। এই ছিল নবীজি (সা.) শিশুপ্রীতি, শিশুর প্রতি তার দৃষ্টি। অথচ হাল জমানায় শিশুশ্রমসহ শিশুদের দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করাতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করছি না। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়, প্রিয় নবীর (সা.) আদর্শ নয়।
শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের যদি সুন্দর করে গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে আরও সুন্দর। তাই সব শিশুই যেন সুখে থাকে, সেভাবেই আমাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। এটাই হোক আজকের শিশু দিবসের অঙ্গিকার।
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের