শিশু মনে পুরস্কারের প্রভাব
এখানে একটা ধারণা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পুরস্কার বা রিওয়ার্ড প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী শুধুমাত্র পারিতোষিক এবং মেরিট সার্টিফিকেট প্রদানই বোঝায়, শিক্ষাক্ষেত্রে এর পরিধি বহু বিস্তৃত। বস্তুত বিদ্যার্থীর প্রত্যেকটি সফল ও উত্কৃষ্ট কাজের অথবা সৃজনশীল প্রচেষ্টার অমিত প্রশংসা ও অভিনন্দন পুরস্কার পর্যায়ভুক্ত। এ প্রশংসা পুরস্কারধর্মীয় বটে, শিশুদের আত্মবিকাশ, প্রগতি ও নৈতিক জীবন গঠনেরও সহায়ক। প্রশংসা যথাসময়ে যথা পাত্রে সুচিন্তিতভাবে প্রয়োগ করলে শিশুরা যে শুধু অনুপ্রাণিত হয় তাই নয়, তাদের মধ্যে তাদের অজান্তেই নৈতিক শিক্ষারও প্রসার ঘটে। যেহেতু এ নৈতিক শিক্ষা শিশুরা পরোক্ষভাবে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে থাকে, তাই পরবর্তীকালে তা তাদের মধ্যে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে যায়। নৈতিক মূল্যবোধ জাগাতে ও পড়াশোনায় এগিয়ে নিতে প্রশংসার কতটুকু কার্যকরী ভূমিকা শিশুদের জীবনে, বর্তমান আলোচনায় তা পরস্ফুিট করার চেষ্টা থাকবে ।
দৈনন্দিন ক্লাসওয়ার্ক অথবা হোমটাস্কের উপর শিক্ষক হয়তো ‘একসেলেন্ট’ মন্তব্যটি লিখে দিলেন। দেখা গেছে শিশুটি বাড়িতে এসে মা-বাবাকে ডেকে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলছে—স্কুলে আজ আমি ‘একসেলেন্ট’ পেয়েছি। প্রশংসা উদ্ভূত এই জাতীয় অনুপ্রেরণা যে কোন প্রদত্ত পুরস্কার থেকে কোন অংশেই শিশুমনে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেখা গেছে মা-বাবার প্রশংসা বা উপহার থেকে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশংসা ও পুরস্কার শিশুর মনকে অধিকতর উত্ফুল্ল ও উদ্ধুদ্ধ করে থাকে। অনুরূপভাবে শিশুর যে কোন সৃজনশীল কাজ বা প্রচেষ্টা এভাবে প্রশংসিত হলে প্রশংসাপ্রাপক শিশুটি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয় এবং তার মনন ও সৃজনশীলতা বিকশিত হতে থাকে। এরূপ প্রশংসা বা পুরস্কার শুধু যে শিশুদের বিদ্যার্জনে উত্সাহিত করে তাকে তা নয়, প্রকৃতপক্ষে নৈতিক মূল্যবোধও তাদের মনে মুদ্রিত হয়ে যায়। নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, বিনয়ী আচরণ, বাধ্যতা ও সততার জন্য যদি শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত বাহবা দিতে থাকেন এবং স্কুলপ্রধানও মাঝে-মধ্যে ক্লাসে এসে শিশুদের এই গুণপনার জন্য উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে অনুপ্রাণিত করেন, এ নৈতিক গুণগুলো তাদের আত্মস্থ হয়ে পড়ে, যা তাদের ভবিষ্যত্ জীবনকে সুনিয়ন্ত্রিত করে থাকে। এ তো গেল প্রশংসার অন্তর্নিহিত প্রেরণাশক্তি।
বিদ্যালয়ে প্রশংসাপত্রসহ কিছু কিছু পুরস্কার শিশুদের জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়। প্রতিটি ক্লাসে যদি সেরা পোশাক (Best dressed) পরিহিত ছেলে ও মেয়েকে পুরস্কৃত করা হয়, তখন শিশুদের মধ্যে পরিধেয় পোশাক- পরিচ্ছন্নতা যে স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য অপরিহার্য সে জ্ঞান বিদ্যালয়ই শিশুদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে সমর্থ। প্রতিটি ক্লাসে পর্যায়ক্রমে একাধিক মনিটার নিযুক্তি দিয়ে সেরা মনিটার মনোনীত করে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা থাকলে কিছুসংখ্যক শিশু ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা লাভে সমর্থ হয়। বিদ্যালয়ে বিতর্কপটু ও উত্কৃষ্ট তাত্ক্ষণিক বক্তৃতাকারীদের পুরস্কার দিয়ে উত্সাহিত করলে ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই উত্কৃষ্ট বক্তা হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। কবি আবুল ফজল প্রতিদিন তাকে টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে বাড়ির সবার সামনে সুন্দরভাবে কথা বলার অভ্যাস করাতেন। এভাবে প্রাথমিকভাবে বক্তৃতা অনুশীলনে অভ্যস্থ হয়ে পরবর্তীকালে স্কুল থেকে কলেজে ও কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উপলক্ষে বক্তৃতার জন্য প্রশংসা ও পুরস্কার লাভ করে যে জীবনে অসাধারণ বাগ্মিতার পরিচয় দিয়েছিলেন, যারা আবুল ফজলের জীবনী পরিক্রমা করেছেন তাদের জানা। এদিকে শিশুদের শারীরিক ও নৈতিক জীবন গঠনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
এভাবেই বিদ্যার্থীদের শিক্ষার প্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধও পরোক্ষভাবে জেগে উঠবে। তা না হলে বর্তমান বিদ্যালয় প্রেক্ষাপটে বিদ্যার্থীদের মধ্যে সময় সময় যে দুর্বিনীত আচরণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সেটাকে দমানো কষ্টকর হবে এবং শিক্ষকতাও কঠিনতর হয়ে দাঁড়াবে।ইত্তেফাক
লেখক:সাংবাদিক
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’