শুধু ইসলামেই নয়, অন্যান্য ধর্মেও উগ্রবাদ আছে :মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, উগ্রবাদ শুধু ইসলামেই নয়, এটি অন্যান্য ধর্মেও রয়েছে। নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে ‘ছিনতাই’ করার মতো অনেক লোক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বার্ষিক ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে ওবামা এসব কথা বলেন। খবর :এএফপি, ডন ও ওয়াশিংটন পোস্ট।যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানে তিব্বতীয়দের ধর্মীয় নেতা দালাইলামাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওবামা বৈশ্বিক ধর্মীয় সম্প্রীতি, ধর্মের নামে উগ্রপন্থা ও সহিংসতা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ক’দিন আগে সফর করে যাওয়া ভারতেরও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার তীব্র সমালোচনা করেন ওবামা। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্মরণ করে দেখুন, ত্রুক্রসেড (ধর্মযুদ্ধ) ও ইনকুইজিশনের (ভিন্ন মতের বিরুদ্ধে লড়তে রোমান ক্যাথলিক গির্জার বিচার ব্যবস্থাধীন কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি গ্রুপ) সময় যিশুখ্রিস্টের নামে কিছু লোক কী ভয়ঙ্কর কর্ম করেছে।’ ওবামা বলেন, ‘আমাদের দেশেও প্রায়ই দাসত্ব ও জিম ক্রো (১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এ নামে প্রচলিত অতি কঠোর বর্ণবাদী প্রথা ও আইন) ব্যবস্থাকেও যিশুর নামে বৈধতা দেওয়া হতো।’
ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের প্রসঙ্গ টেনে ওবামা বলেন, ধর্মের নামে সহিংসতা করে এ গোষ্ঠীটি ইসলামিকবিশ্বাসকেই বিকৃত করছে। উগ্রপন্থার সঙ্গে ইসলাম ধর্মকে গুলিয়ে না ফেলতেও তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ধর্মীয় বিশ্বাস আমাদের সঠিক কাজ করার প্রেরণা দেয়। কিন্তু এটাও দেখেছি, এই বিশ্বাস বিকৃত ও পরিবর্তিত করা হয়। অনেক সময় এটিকে (ধর্ম) অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।’ ধর্মকে বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ওবামা বলেন, ‘কোনো ধর্মেই ঈশ্বর সন্ত্রাসকে ক্ষমা করেন না।’ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতায় গান্ধীও মর্মাহত হতেন :ভারতে সাম্প্রতিককালে যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দেখা যাচ্ছে, তাতে মহাত্মা গান্ধীও মর্মাহত হতেন বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত মাসে ভারত সফরে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ভারত ততদিনই শক্তিশালী থাকবে, যতদিন না ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন হয়। ওই সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘ভারত একটি আশ্চর্য সুন্দর দেশ। এটি চিত্তাকর্ষক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কয়েকবারই দেখা গেছে, ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের নামে এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। এই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দেখলে গান্ধীজিও মর্মাহত হতেন।’ওবামার এমন বক্তব্যের জবাবে গতকাল শুক্রবার ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, ‘ভারতের ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হলেন দালাইলামা, যিনি ওবামার পাশেই বসেছিলেন।’ ওয়াশিংটনের ওই অনুষ্ঠানে ওবামার পাশের টেবিলে বসেছিলেন চীনের তিব্বতীয় বৌদ্ধদের নির্বাসিত নেতা দালাইলামা। ওবামার বক্তব্যের জবাব দেওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রী মোদির_ এমন দাবি তুলেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
ওবামা তার বক্তৃতায় পাকিস্তানের স্কুলে নারকীয় তাণ্ডব থেকে প্যারিসে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘এই হামলা যারা চালিয়েছে, তারা নিজেদের বিশেষ একটি ধর্মের রক্ষক বলে দাবি করে। তাদের দাবি, ইসলামের পক্ষে তাদের সংগ্রাম। কিন্তু বাস্তবে হিংসার মাধ্যমে নিরীহদের রক্ত ঝরিয়ে তারা ইসলামের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মকে হাতিয়ার করেই তারা তাদের অপকর্মের সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করে।’রিপাবলিকানদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াত্রুক্রসেড ও ইনকুইজিশনের নামে সহিংসতার প্রসঙ্গ টানায় প্রেসিডেন্ট ওবামার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন রিপাবলিকান রাজনীতিকরা। ওবামা তার বক্তব্যে খ্রিস্টানদের অপমান করেছেন বলে ভার্জিনিয়ার সাবেক গভর্নর জিম গিলমোর দাবি করেন। ওবামা আমেরিকা ও এর জনগণের মূল্যবোধ ধারণ করেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মার্কিন ধর্মীয় নেতারাও ওবামার সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।সমকাল
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!