Saturday, 20 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

সত্য সব সময়ই সত্য, মিথ্যা প্রচার দিয়ে তাকে আড়াল করা যাবে না -ড. নূরন নবী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 166 বার

প্রকাশিত: February 9, 2014 | 12:45 PM

নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক আজকালকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড: নূরন নবী বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনো দেশই বাকি রাখেনি, বাংলাদেশও রাখবে না। ড: নূরন নবী একই সঙ্গে লেখক, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ এবং সমাজ-হিতৈষী। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলীয় ভাবে জড়িত থাকলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী প্রায় সবার কাছে প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য। যুক্তিবাদী, সদালাপী ও অনাড়ম্বর এই মানুষটি আজীবন অবিচল থেকেছেন অভিন্ন আদর্শে। মহান মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনের সেরা ঘটনা বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে মনে করেন, আমাদো স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল একটি গণ-যুদ্ধ, জাতীয় যুদ্ধÑ যে যুদ্ধে রাজাকার-আলবদর-ঘাতক-দালালসহ কিছু বিশ্বাসঘাতক ছাড়া গোটা জাতি অংশ নিয়েছিল ।

ড. নবী মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন ও কূটনৈতিক প্রয়াসে যেমন নৈপূণ্য প্রদর্শন করেছেন, তেমনি নৈপূণ্য দেখিয়েছেন স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমি-ইতিহাস রচনায়ওÑ ‘বুলেটস অব সেভেনটি ওয়ান’ লিখে। মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক আরো কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশ হবে নিকট-ভবিষ্যতে।

‘বুলেটস অব সেভেনটি ওয়ান’ সম্পর্কে বাংলাদেশের ডেইলি স্টার লিখেছে, ‘ডঃ নূরন নবী’স বুক ইজ এ রেয়ার ডকুমেন্ট অব আওয়ার পলিটিক্যাল হিস্টোরি।’

একাত্তরে টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ করেছে। ড. নবী তিন দফায় ভারতে গিয়ে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন।

ড. নবী বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতক, জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর, কিয়োসো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। পোস্ট ডক্টোরাল রিসার্চ করেছে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে। সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে ঢাকা বিদ্যালয়ের লেকচারার ও সিনেট সদস্য ছিলেন। কোলগেট পালমলিভে ২২ বছর কাজ করেছেন, এবং কোলগেট টোটাল টুথপেস্ট টেকনোলজির কো-ইনভেন্টর তিনি। বর্তমানে আমেরিকার সুপার স্পেশিয়াল হসপিটালের বোর্ড মেম্বার।

ডঃ নবী ছাত্র জীবনে ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সে অবস্থায় অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধে। ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ তাকে টাঙ্গাইল যুদ্ধের ‘দ্য ব্রেইন’ বলে উল্লেখ করেছিল। আশির দশকে এরশাদ স্বৈরশাসনের বিরোধিতা করে গঠন করেন, ‘কমিটি ফর এ ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ’। নব্বইয়ের দশকে গঠন করেন, ‘কমিটি ফর দ্যা রিয়েলাইজেশন অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার, আইডিয়ালস এন্ড ট্রায়াল ফর বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনালস’। আমেরিকায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি নিউজার্সির সাবেক সভাপতি, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান, অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক প্রবাসীর সভাপতি ও সম্পাদক প্রভৃতিসহ অনেক সংগঠনের সঙ্গে রয়েছে তার সম্পৃক্ততা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা বই ‘ স্বাধীনতার ২০ বছর’ এর প্রকাশক। তিনি একজন কাউন্সিলম্যান । ১৯৮০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। স্ত্রী জিনাত নবীও বিজ্ঞানী। দুই ছেলে, মুশ নবী ও আদনান নবী। মুশ নবী গ্রন্থ’টি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে সাপ্তাহিক আজকালকে তিনি অনেক কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আজকাল সম্পাদক আহমেদ মূসা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি বেদনাদায়ক যে, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও স্বাধীনতার শত্রুরা দম্ভ করে বেড়াচ্ছে, নাশকতা করছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। গড়ে ওঠার কথা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে। কিšত্ম স্বাধীনতা যুদ্ধের শত্রু ও প্রতিক্রিয়াশীলরা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বার বার বিচলিত করেছে, এখনো করে যাচ্ছে। গত ৫ মের নির্বাচনের আগে-পরের সময়গুলিতে তারা নগ্ন ভাবে হামলা-নির্যাতন করেছে সংখ্যালঘুদের ওপর। হামলাকারীদের দ্রুত বিচার আদালতে বা বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করে কঠোর সাজা দিতে হবে।

প্রশ্ন: অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কি? কোনো মধ্যবর্তীকালীন নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে কী?

উত্তর: বিএনপি ও তার জোট নির্বাচনে না আসায় এটি প্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়নি। এটি মূলত সংবিধান রক্ষার জন্য হয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দল বা জোটকেই আলোচনায় বসতে হবে, ছাড় দিতে হবে। আলোচনার ভিত্তিতেই সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশিরা কি বেশি জড়িয়ে পড়ছে না?

উত্তর: বিদেশিদের জড়িয়ে পড়ার সুযোগ আমরাই দিয়েছি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিরা স্বত:স্ফূর্ত হয়ে কল্যাণের চিন্তা করলে তাতে ক্ষতি কী? বর্তমানে পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজ। সবার সঙ্গে সবার স্বার্থ জড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা তাই বিদেশিদের বিনিয়োগ-নিশ্চয়তার জন্যও প্রয়োজন।

প্রশ্ন: সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায্যতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেকে সমালোচনা করছেন। আপনি কি বলবেন?

উত্তর: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশ বিচার বাকি রাখেনি। বাংলাদেশও বাকি রাখবে না। এ বিচার না হলে বাংলাদেশে আইনের শাসন ও মানবতা বিপন্ন হবে। বাংলাদেশ এ কাজে খুবই স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করছে, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ দিচ্ছে যা অনেক দেশে দেখা যায়নি। তবে যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর হাতে অঢেল অর্থ থাকায় সেসব ব্যবহার করে তারা দেশে-বিদেশে বিচার কাজ সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। এমন কী খুনী-ধর্ষকদেরও ইসলামী স্কলার বলে প্রচারের চেষ্টা চলছে। খুন-ধর্ষণসহ অসংখ্য অভিযোগে ফাঁসিপ্রাপ্ত কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলে প্রচারের অপচেষ্টাও চলছে। এ বিষয়ে সরকার সময় মতো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তবে এখন দেশি-বিদেশি মহল এই ভ্রান্তি সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে।

প্রশ্ন: আপনারা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। এখানকার মূলধারার নেতৃবৃন্দের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে পেরেছেন?

উত্তর: আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে জামায়াতের মতো অঢেল অর্থ না থাকায় লবিং এবং প্রচার কাজে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের উদ্যোগ বাড়ছে, বাড়তে থাকবে। সত্য সব সময়ই সত্য। মিথ্যা প্রচার দিয়ে তাকে আড়াল করা যাবে না।

তবে শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্যেই প্রয়াস সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, নাশকতা বন্ধ করতে হলে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। নইলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বার বার বিপন্ন হবে। ওরা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, সমৃদ্ধি-অগ্রগতিতে বিশ্বাস করে না। এই দেশ-বিরোধী শক্তিকে নিষিদ্ধ ও নিষ্ক্রিয় করার বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV