সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ঠেকাতে এক হন : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আখ্যায়িত করে তার মোকাবিলায় সব রাষ্ট্রকে এক হয়ে লড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশ্বের নানা প্রান্তে জঙ্গিদের হামলা, বাংলাদেশে এক ইতালীয় নাগরিক খুন এবং হত্যার দায় স্বীকার করে জঙ্গি দল আইএসের কথিত বার্তার প্রেক্ষাপটে বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার বাংলাদেশ সময় রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলায় দেওয়া বাংলাদেশের সরকার প্রধানের ভাষণ জাতিসংঘের ওয়েব টিভিতে সরাসরি দেখা যায়।
বুধবার সকালের (নিউইয়র্ক সময়) অধিবেশনে একাদশ বক্তা হিসেবে ভাষণ দিতে দাঁড়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দুভাতগ্লুর পর তার পালা আসে।
শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্বে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আজ আমরা সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি, যার প্রথমটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে এটি প্রধান অন্তরায়।
“সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
নিজের সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের শিকার হওয়ার উদাহরণ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ট্রাজেডি এবং ২০০১ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ মৌলবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে বলেও বিশ্বনেতাদের জানান শেখ হাসিনা।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে এক্ষেত্রে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথাও বলেন তিনি।
বিশ্বে উন্নয়ন ও শান্তির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথা বলেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।
“জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব না হলে আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।”
“আমাদের সামনে সামান্যই সুযোগ অবশিষ্ট আছে। এ বিশ্বকে নিরাপদ, আরও সবুজ এবং আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আমাদের অবশ্যই সফলকাম হতে হবে”, বলেন তিনি।
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যত গড়তে নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
“আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের সামষ্টিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এমন একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলি যেখানে দারিদ্র্য এবং অসমতা, সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘাত এবং বিদ্বেষ ও বৈষম্য থাকবে না।
“আসুন, আমরা আমাদের নৈতিক সাহস এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সন্তান এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত রেখে যাওয়ার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করি।” বিডিনিউজ
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া