Saturday, 27 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি যুক্তরাষ্ট্র’র সংবাদ সম্মেলন, শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে মানববন্ধন : রোহিঙ্গা নয়, সন্দ্বীপের চরে উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের দাবী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 56 বার

প্রকাশিত: March 10, 2017 | 3:55 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম :: সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি যুক্তরাষ্ট্র চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার সাথে নোয়াখালী ও ফেনী জেলার অমিমাংসিত সীমানা নির্ধারনের দাবী এবং সন্দ্বীপ সীমানায় জেগে ওঠা নতুন চরগুলো অন্য জেলার অন্তর্ভূক্তিকরণে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১১ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটির সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সন্দ্বীপ সোসাইটি, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনসহ সন্দ্বীপ উপজেলা প্রবাসীদের বিভিন্ন পর্যায়ের ২০টি সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতি আলহাজ্ব মাহফুজুল মাওলা নান্নু বলেন, ভিটে-মাটি হারানো লোকজন বহু বছর যাবত নদীর তীরে অপেক্ষা করে আসছেন জমি জেগে ওঠলে বসতি গড়ার জন্যে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে জেগে ওঠেছে চর। তিনি বলেন, উদ্বাস্তুদের মধ্যে ওই জমির বন্দোবস্ত করার জন্যে স্থানীয় প্রশাসন যখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা ভাবছে, ঠিক তখনি জেগে ওঠা চরে উদ্বাস্তুদের বাদ দিয়ে  রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কথা বলা হচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক।
সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি আবুল হাসান মহিউদ্দিন বলেন, নদীর করাল গ্রাসে আবাদি জমিসহ ভিটে-মাটি হারানো এক লাখ ৮৫ হাজার মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদের পুনর্বাসনে আজ পর্যন্ত সত্যিকারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও ছিলেন  আবু জাফর মাহমুদ, আবুল কাশেম, আলহাজ্ব আবু তাহের, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, মো: হেলাল উদ্দিন, এস এম ফেরদৌস, এমলাক হোসেন ফয়সাল, আবুল হাশেম, মিলাদ বারি, আবদুল হান্নান পান্না, ফিরোজ আহমেদ, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ হামিদ, ইকবাল হায়দার, হুমায়ুন কবির, আজিম উদ্দিন অভি, বখতিয়ার উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, আবুল হাশেম শাহাদাত, সাইফুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, মনির উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, নুর ইসলাম, মো: আলমগীর, আবদুল মন্নান, কাউসার সর্দার, কামাল উদ্দিন প্রমুখ।


সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সন্দ্বীপের ন্যামস্তির চর তথা ঠ্যাংগার চরে সন্দ্বীপের ভিটে মাটি হারা উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পর অতিরিক্ত যদি কিছু থাকে, তাহলে সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা যেতে পারে। এর আগে অন্য কিছু মানবে না সন্দ্বীপের প্রায় দুই লাখ উদ্বাস্তুদের । কারণ, নদীর করাল গ্রাসে তারা ভিটে-মাটিসহ আবাদি জমি হারিয়েছেন।
সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেœর উত্তর দেন সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতারা। এসময় তারা সন্দ্বীপের সিমানা নির্ধারণ বাস্তবায়ন ও সেই সীমানায় জেগে ওঠা চরগুলিতে সন্দ্বীপের বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত হওয়া অব্ধি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারই ধারাবাহিকিতায় আগামী ১১ মার্চ শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় ব্রুকলিনের ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে মানববন্ধন করবে সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি যুক্তরাষ্ট্র। মানববন্ধনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি সন্দ্বীপবাসিদের উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরুধ জানান হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পঠিত লিখিত বক্তব্য:
সাংবাদিক সম্মেলন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
তারিখ: ০৯ মার্চ ২০১৭
স্থান: জ্যাকসন হাইট্স, নিউইয়র্ক।
বিষয়: চট্টগ্রাম জেলার, সন্দ্বীপ উপজেলার সাথে নোয়াখালী ও ফেনী জেলার অমিমাংসিত সীমানা নির্ধারনের দাবী এবং সন্দ্বীপের সীমানায় জেগে উঠা নতুন চরগুলি অন্য জেলার অন্তর্ভূক্তিকরণে ষড়যন্ত্রের  বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সকল প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ:
আস্সালামু আলাইকুম, আমাদের আহবানে সাড়া দেওয়ায় আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
আজ আমরা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সন্দ্বীপ বাসী অত্যান্ত  উদ্বিগ্নতার সাথে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের পরিবার, আত্মীয় স্বজন অধিকাংশ মানুষ প্রিয় জন্মস্থান সন্দ্বীপে বসবাস করে। আপনারা জানেন হাজারো বছরের পুরনো ইতিহাস এবং ঐতির্য্যে ভরা একটি দ্বীপ সন্দ্বীপ। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা। ইতিহাস বলে গত কয়েকশ বছরে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এবং পর্তুগীজরা ব্যবসা বানিজ্যের জন্য সাগর পথে এসে এই সন্দ্বীপকে বেছে নিয়েছেন। ১৯৫৬ সালেও  সন্দ্বীপ ছিল ৬০ মৌজা সস্বলিত, বিশেষ করে সন্দ্বীপের পশ্চিম, উত্তরপশ্চিম এবং দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ গত ৭০-৮০ বছর ধরে নদীর ভাঙ্গা- গড়ার সাথে সংগ্রাম করে বেচেঁ আছে। ইতিমধ্যে ২৫ টির মত মৌজা নদীগর্বে বিলীন হয়ে যায়। নদীর ভাঙ্গা গড়ার স্বাভাবিক নিয়মে নদীর পলি জমে এবং  হিমালয় থেকে নদী বাহিত পলির প্রভাবে ১৫- ২০ বছর পর পর উপকুলে কোথাও না কোথাও নতুন ভাবে চর জেগে উঠে। তেমনি ভাবে ৮০ দশকে সন্দ্বীপের উত্তর পশ্চিম সীমানায় উরিরচর নামে চর জেগে উঠে। বর্তমানে যা সন্দ্বীপের একটি ইউনিয়ন। সন্দ্বীপের ভিটেমাটি হারা কিছু মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে কোন প্রকার সরকারী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীতা ছাড়া বসতি গড়ে তোলে  । বাধ্য হয়ে অনিরাপদ ভাবে বসবাস করার কারণে ১৯৮৫ সালের ২৪ শে মে প্রলয়ংকারী জলোচ্ছাসে চরের অধিকাংশ মানুষ মৃত্যু বরন করে। গত ৭০-৮০ বছর ধরে নদী ভাঙ্গনের কারণে বাস্তুহারা মানুষ গুলো সন্দ্বীপের বিভিন্ন বেড়ীবাঁধ ও বসতি এলাকায় উদ্বাস্তুর মত মানবেতর জীবন যাপন করছে।  এর পরিনতিতে বসতি এলাকায় কৃষি জমির পরিমান শুন্যের কোটায়। উল্লেখ্য ১৯৯১ সালের ২৯ শে এপ্রিল স্বরনকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে যে প্রাণ হানি ঘঠেছিল তার অধিকাংশই ছিল বেড়ীবাঁধে বসবাসকারী বাস্তুহারা মানুষ গুলো।
 গেল ১০-১৫ বছর ধরে সন্দ্বীপের পশ্চিম এবং দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে সন্দ্বীপের সীমানায় অনেকগুলো নতুন চর জেগে উঠেছে। তাদের মধ্যে স্বর্ণদ্বীপ ( সাবেক নিউ সন্দ্বীপ/ জাহাজ্জারচর), ঠ্যাংগারচর (সন্দ্বীপের সাবেক ন্যামস্তি ইউনিয়ন) এবং জালিয়ার চর অন্যতম। যখনি এই অঞ্চলের অসহায় মানুষগুলো এক বুক আসা নিয়ে পূর্বপুরুষের হারানো ভিটে মাটি ও কৃষি জমিতে নতুন করে বসতি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে ঠিক তখনি কিছু মহল সরকারী প্রশাসনকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা প্রচার করে সন্দ্বীপের বাস্তুহারা মানুষকে বঞ্চিত করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে।
প্রিয় সংবাদিক ভাইয়েরা,
১৮২২ সালে নোয়াখালী জেলা গঠিত হলে  সন্দ্বীপকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে নোয়াখালী জেলার অর্šÍভুক্ত করা হয়। যোগাযোগের চরম অসুবিধার কারণে ১৯৫৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে পুনরায় সন্দ্বীপকে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর পর থেকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া, সুধারাম, কোম্পানীগঞ্জ ও বর্তমান ফেনী জেলার সোনাগাজীর সাথে সীমানা অমিমাংসিত থেকে যায়। সন্দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষ তাদের প্রিয় মাতৃভুমি সন্দ্বীপের সীমানায় জেগে উঠা চরের মালিকানা নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী কর্মকান্ডে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে সন্দ্বীপবাসী সন্দ্বীপের সীমানা নির্ধারণ ও জেগে উঠা নতুন চরে বসবাসের সুযোগ পেতে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে এবং প্রবাসে বিভিন্ন শহরে সাংবাদিক সম্মেলন, সমাবেশ, স্বারকলিপি প্রদান ও মানব বন্দন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
৩০ শে জানুয়ারী ১৯৭০ ইং তারিখে বিভাগীয় কমিশনার এর আদালত, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসককে আন্তজেলার সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ প্রদান করেন। বিগত ১৫ ই জানুয়ারী ১৯৯৮ ইং তারিখে মহাপরিচালক, জরীপ অধিদপ্তর এর সভাপতিত্বে ১৯১৩- ১৯১৬ সালে সি. এস. ম্যাপ এর উপর ভিত্তি করে সীমানা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যাতে করে নতুন করে জেগে উঠা চর নিয়ে ভবিষ্যতে কোন মামলা, হামলা, দখল, বেদখলের তথা কোন বিতর্ক সৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকে।
বিগত ২০০৮ সালে মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম মহাপরিচালক, জরীপ অধিদপ্তর কে আন্ত:জেলা সীমানা নির্ধারণের জন্য পত্র দেন। ১ ডিসেম্বর  ২০০৯ ইং তারিখে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম আন্ত:জেলা সীমানা নিধারণ করার জন্য মাননীয় সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগকেও পত্র দেন। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় উল্লেখিত কোন নির্দেশনা/সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
অত:পর বিগত ৩ মার্চ ২০১৬ ইং তারিখে মাননীয় মন্ত্রী, ভুমি মন্ত্রানালয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভূমি প্রতি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাবেদ) এর উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম নোয়াখালী আন্ত:জেলা সীমানা ১৯১৩-১৯১৬ সালে প্রস্তুতকৃত সি. এস. জরিপ এর ম্যাপ এর উপর ভিত্তি করে দু’মাসের মধ্যে ভূমি রেকর্ড ও জরীপ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম কার্যালয়, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসন কে যৌথভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেন নাই/গ্রহণ করেন নাই। উল্লেখ্য ১৯৫৬ সালে সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর আর কোন জরিপ হয়নি এবং কোন সংশোধিত ম্যাপও ছাপানো হয়নি।
 উপেেরাক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন না করে জেলা প্রশাসন, নোয়াখালী একতরফা ভাবে সন্দ্বীপ উপজেলার সীমানার মধ্যে জেগে উঠা স্বর্ণদ্বীপ (জাহাজ্জার চর), ঠ্যাংগার চর, জালিয়ার চর  সহ সংলগ্ন সকল চর সমূহে একতরফা ভাবে জরীপ কার্যক্রম ও সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলেছে  এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুল তথ্য প্রেরণ করছে। যাহা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া যাচাই বাচাই ছাড়া প্রচার করছে। যা সম্পূর্ন একতরফা ও বেআইনি।
বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সন্দ্বীপবাসী জানতে পারে সন্দ্বীপের সাবেক ন্যামস্তি ইউনিয়নে জেগে উঠা ঠ্যাংগার চরে শরনার্থীদেরকে সরকার অস্থায়ীভাবে পূর্নবাসনের  চিন্তা ভাবনা করছে। আমরা এবং অভিজ্ঞমহল মনে করে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে সম্পূর্নরুপে ভিন্ন দেশী উদ্বাস্তুদের পুনঃবাসন করা হলে তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকির কারণ হতে পারে। সাময়িকভাবে ২০-৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসিত করা হলেও সময়ের ব্যবধানে এই সুযোগের অপব্যবহার করে অগণিত রোহিঙ্গা সরনার্থী আসতে শুরু করবে যাহা কোনমতে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। ফলশ্রুতিতে এই দ্বীপের সম্প্রসারিত নতুনভাবে জেগে উঠা  ভূমিতেও তাদের বসতি গড়ে উঠবে। আমরা আরও শঙ্খাবোধ করি সময়ের ব্যবধানে এই দ্বীপে কোন অস্থিতীশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিরি সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্বীপের নিরাপত্তা গ্রহন করতে চাইবে। এরই ধারাবাহিকতায় সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি  সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অভিপ্রায়ে বিচ্ছিন্নবাদের উস্কানি দিতে পারে।
মানবিক বিবেচনায় আমরা সন্দ্বীপবাসী নির্যাতিত রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে বিরোধী নই।  তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট দ্বীপে পুনর্বাসন না করে সন্দ্বীপের সীমানায় জেগে উঠা স্বর্ণদ্বীপে (জাহাজ্জার চর), সন্দ্বীপসহ উপকুলীয় অঞ্চলের বাস্তু হারা মানুষের সাথে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের চিন্তা করা যেতে পারে।
ইতিমধ্যে জাহাজ্জার চরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষন কেন্দ্র স্থাপন করায় আমরা স্বাগত জানাই। এই দ্বীপের নাম সন্দ্বীপের প্রাচীন নাম গুলির একটি স্বর্নদ্বীপ নামকরণ করায়  বাংলাদেশ  সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর অবস্থানের কারণে এতদঞ্চলে জলদস্যুদের অপতৎপরতা অনেক অংশে হ্রাস পেয়েছে।
এমতাবস্তায়, ৩০ জানুয়ারী ১৯৭০ ইং তারিখে বিভাগীয় কমিশনার আদালতে ১৯১৩-১৯১৬ সালের সি.এস. ম্যাপের উপর ভিত্তি করে বিভাগীয় কমিশনার আদালত চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার প্রশাসককে আন্তঃ জেলার সীমানা নির্ধারণের  যে নির্দেশ প্রদান করেন তা বাস্তবায়ন এবং ঠ্যাংগার চরে সন্দ্বীপের বাস্তুহারাদেরকে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানাই।
ধন্যবাদান্তে,
সন্দ্বীপ সীমানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV