Sunday, 18 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান রিয়েলটর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক ইসলামে দান-সদকার ফজিলত অপরিসীম নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর, মরদেহ ব্রুকলিনের ফিউনারেল হোমে, দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে
সব ক্যাটাগরি

সবকিছুই আজ দ্বিখণ্ডিত এই মূল্যবোধ দিয়ে গণতন্ত্র হবে না : নিউইয়র্ক এ বাংলা উৎসব ও বইমেলার শেষদিনে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 108 বার

প্রকাশিত: May 26, 2015 | 9:00 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র : নিউইয়র্ক গর্ভণর কর্তৃক রেজ্যুলেশ এনে নিউইয়র্ক স্টেটে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহকে ‘আন্তর্জাতিক বাংলা সপ্তাহ ঘোষণা’, বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু লেয়ার লেভিনকে সম্মাননা প্রদান, রেকর্ডসংখ্যক ১৫টি পু¯Íক প্রকাশক ও বিক্রেতার মেলায় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ইউরোপ, কানাডা এবং আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে আগত পাঁচ সহ¯্রাধিক দর্শক- পাঠক-শ্রোতার উপস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত শিল্পীবৃন্দ এবং সৈয়দ আব্দুল হাদী এবং সামিনা চৌধুরীর মত শিল্পীর অংশগ্রহণের মত বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল ২৪মে শেষ হলো নিউইয়র্ক বইমেলা।
এই ক’দিন আগেও প্রকৃতি ছিল বিরূপ। যেন রাতারাতি তা উৎরে গিয়ে সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেছে। নিউইয়র্ক নগরীর যে দিকে তাকানো যায় মনে হয় সবুজের উৎসব জুড়েছে। শুধ প্রকৃতিই নয়, তার সাথে নানা উৎসবেও মেতে উঠেছে নিউইয়র্ক নগরী। পথমেলাসহ নানা মেলার আয়োজনেও উৎসবমুখর এখন নিউইয়র্ক। তবে আর আর বছরের মতো ভিন্ন ধর্মী বইমেলার আয়োজনো হয়ে গেল গত ২ মে রোববার। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ বইমেলা শুরু হয়েছিল গত ২২ মে,শুক্রবার জ্যাকশন হাইটস্থ পিএস ৬৯-এর মিলনায়তনে। এটি বইমেলার দুই যুগ পূর্তি অর্থাৎ ২৪ তম বইমেলা।বইমেলার এবারের আলাদা বৈশিষ্ট হলো এই প্রথমবারের মতো এর সাথে সংলিøষ্ট হলো বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো। তাই এবারের বইমেলার থিম ছিলো ‘প্রান বাংলাদেশ মেলা’। উৎসবের শুরু হয় জ্যাকসন হাইটসে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে।

Bangla_Utshob_2015_NY_USA_Pic
বইমেলাটি উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুলøাহ আবু সায়ীদ । স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবারের বইমেলার আহŸায়ক রোকেয়া হায়দার ।উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন সঙ্গীত পরিষদের শিল্পীবৃন্দ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম ত্রিপুরা,লেখক ও বিশ্বভারতীর পরিচালক রামকুমার মুখোপাধ্যায় ,মাওলা ব্রাদার্সের মাহমুদুল হক ও মন্্িরটয়ল বইমেলার উদ্যোক্তা জিয়াউল হক জিয়া । উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত শিল্পীবৃন্দ।
তারপরপরই সম্মাননা প্রদান করা হয় ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা লেয়ার লেভিনকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাসান ফেরদৌস এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশস্থ কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান। এর পরই দীপাঞ্জলী ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। এতে অংশ নেন দ্বিতীয়া ফেরদৌস ,দীপাঞ্জলী ভৌমিক , বাসমা শ্রæতিকণা দাস ও সৌরভ সরকার।
এদিনের সবশেষ সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের শিল্পী মেহরুন ও মারিয়া।
এবারে মুল মঞ্চ ছিল ‘ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন মিলনায়তন’। এ ছাড়াও ছিল আরো দুটি মঞ্চ-অভিজিৎ রায় কক্ষ ও মিজান রহমান কক্ষ।
২৩ মে শনিবার মূল মঞ্চে সকাল ১১.০০টায় শুরু হয় আনন্দমেলা। শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা। এতে অংশ গ্রহণের বিষয় ছিল দু’টি।সংগীত ও নৃত্য ।
রানু ফেরদৌসের সঞ্চালনায় নতুন প্রজন্মের জন্য অনুষ্ঠান এক ঝাঁক পায়রায় অংশগ্রহণ করে নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোররা। বিকেল ৪.০০টায় আদনান সৈয়দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় এবছর প্রকাশিত বই ‘নতুন বই’। এতে অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আবদুলøাহ আবু সায়ীদ । আর এতে অংশ নেন ফকির ইলিয়াস, শামস আল মমীন, কাজী জহিরুল ইসলাম, তাহমিনা শহীদ, খান শওকত, আহমেদ ছহুল, ছন্দা বিনতে সুলতান, আফ্রোজা মিলি, আলম সিদ্দিকী, সিনহা মনসুর, এস এম জাহাঙ্গীর, হাসানুর রহমান, দরপন কবীর, ফিরোজ মাহমুদ, জসীম মলিøক, আব্দুল আজিজ, পপি চৌধুরী প্রমুখ। বিকেল ৫.০০ টায় অভিজিৎ রায় স্মরণে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রোকেয়া হায়দার। এতে অংশ নেন আহমাদ মাযহার, সৌম্য দাশগুপ্ত, তানভীর রব্বানী। ৫.৩০-এ অনুষ্ঠিত হয় জি এইচ আরজুর সঞ্চালনায় আবৃত্তির অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন ডাঃ ফারুক আজম, ইভান চৌধুরী, মিজানুর রহমান বিপ্লব, শাহীন ইসলাম, আবীর আলমগীরও গোপন সাহা। প্রত্যেক বাচিক শিল্পীই চমৎকার আবৃত্তি করে দর্শক শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রাখেন ।
সন্ধ্যা ৬.০০ টায় তমিজ উদদীন লোদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন সাজেদ কামাল, তাহমিনা জামান চৌধুরী, নাজমুন নেসা পিয়ারী, শিহাব শাহরিয়ার, হুমায়ূন কবির, বদিউজ্জামান নাসিম, কাজী জহিরুল ইসলাম, মনজুর কাদের, আলেয়া চৌধুরী, খিজির হায়াত, জুলি রহমান, এ বি এম সালেহুদ্দীন, ছহুল আহমেদ, মামুন জামিল, নাসিরুলøাহ মোহাম্মদ, খান শওকত, মমতাজ বেগম আলো, নুরুল ইসলাম পাশা, লুবনা কাইজার, নীলুফার রেজা পারভেজ, আলম সিদ্দিকী, সবিতা দাশ, আবুল বাশার ও শামীম আরা আফিয়া। সন্ধ্যা ৭.০০টায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বৈধভাবে অর্থপ্রেরণ বিষয়ক সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ড: নজরুল ইসলাম। এতে অংশ নেন বীরুপাক্ষ পাল, মিজানুর রহমান জোদ্দার, শহীদ হোসেন, জাকির হোসেন, ডাঃ জিয়াউদ্দীন আহমেদ, আতাউর রহমান, ডঃ নুরন নবী প্রমুখ।
সন্ধ্যা ৮.০০ টায় অনুষ্ঠিত হয় মুক্ত আলোচনাঃ আগামী দিনের বাংলাদেশ। অংশ নেন আবদুলøাহ আবু সায়ীদ, শারমিন আহমেদ, মোলøাাহ আমজাদ হোসেন, গোলাম মোর্তজা ও রুদ্রাক্ষ রহমান। সঞ্চালনা করেন নিনি ওয়াহেদ। রাত ৯.০০টায় পরিবেশিত হয় দুই বাউল : বাউলাঙ্গের গান। পরিবেশন করেন দুলাল ভৌমিক ও তাজুল ইমাম। ঢোলে ছিলেন শফিক মিঞা। ৯.৩০-এ ছিল বিষয় রবীন্দ্রনাথ। অংশ নেন রামকুমার মুখোপাধ্যায়।
১০.১৫-তে হারানো দিনের গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী ।
এদিন অভিজিৎ রায় কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। সঞ্চালনা করেন  জসিম মলি¬ক। বইগুলি ছিল-আশরাফ আহমেদ-এর ‘অন্যচোখে বাংলাদেশ’, ড. নুরন নবী’র ‘আমেরিকায় জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি ‘,হুমায়ুন কবীর-এর ‘আমার রোগী বন্ধুরা’, গীতালী হাসানের ‘সাগরে পাহাড়ে’, খসরুজ্জামান চৌধুরীর পাঁচ মিনিটের গল্প।
জি এইচ আরজুর ব্যবস্থাপনায় এই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘গণহত্যা দেশে দেশে’। এতে অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার, প্রদীপ রঞ্জন কর, আহমদ মাজহার প্রমুখ।
মিনহাজ আহমেদ শাম্মুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বাঊলঃ ইতিহাস ঐতিহ্যে ঃ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা। অংশগ্রহণ করেন সৌম্য দাশগুপ্ত, তাজুল ইমাম ও দুলাল ভৌমিক।
এদিন সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ তেকে আগত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।
শেষদিন ২৪ মে রোববার মূলমঞ্চে উলেøখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ফাহিম রেজা নুরের সঞ্চালনায় ত্রিমুখি আলাপচারিতা। এতে অংশ নেন আহমেদ মাহমুদুল হক, ফরিদ আহমেদ, মেহেদী হাসান, পপি চৌধুরী, লুৎফুর রহমান চৌধুরী, সিকদার আবুল বাশার, রেদোয়ানুর জুয়েল, জহিরুল আবেদীন জুয়েল, শিহাব শাহরিয়ার ও সিনহা মনসুর ।
মুমু আনসারীর সঞ্চালনায় পরিবেশিত হয় ছড়া পাঠের আসর। এতে মিজানুর রহমান জোদ্দার, হুমায়ূন কবীর ঢালী, দর্পণ কবীর অংশগ্রহণ করেন।
মঞ্জুর কাদেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে অংশ নেন কবি তমিজ উদদীন লোদী, কাজী আতিক, সুলতানা শিরিন সাজি, নুরজাহান কাদের, ফারহানা পলি, মিশুক সেলিম, খোন্দকার জাহাঙ্গীর, সোনিয়া কাদের, লিয়াকত আলী, চারু হক, আনোয়ার সেলিম, নাসরিন চৌধুরী, মাকসুদা আহমেদ, লুতফা শাহানা, জি এইচ আরজু, সইয়দ আহমেদ জুয়েদ ও পপি চৌধুরী।
আমন্ত্রিত শিল্পীদের সঙ্গীত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জলি কর। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কাবেরী দাশ, রথীন্দ্রনাথ রায়, শান্তা নাগ, সঞ্চারী ভট্টাচার্য, সপ্না কাওসার ও সাইফুলøাহ পারভেজ।
হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মুখোমুখি অনুষ্ঠানে অংশ নেন আবদুলøাহ আবু সায়ীদ ও রামকুমার মুখোপাধ্যায়।
মুজিব বিন হকের সঞ্চালনায় ‘নাটক যখন প্রতিবাদের ভাষা : আলোচনা ও অভিনয়ঃ ‘অনুষ্ঠানে অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার, রেখা আহমেদ ও গীতালী হাসান প্রমুখ।
অধ্যাপক আবদুলøাহ আবু সায়ীদকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনজুর আহমেদ। তাঁকে উত্তরীয় প্রদান করেন ড. মাহফুজুর রহমান ।
এদিন অভিজিৎ রায় কক্ষে জসীম মলিøক-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। উন্মোচিত হয় ফেরদৌস সাজেদীন-এর ‘রকিং চেয়ার’, মিলি সুলতানার ‘স্বপ্নের মলিøকা’, ফজলুর রহমানের আলো আমার আলো’ ও শারমিন আহমেদের ৩ নভেম্বরঃ জেল হত্যার পূর্বাপর ।
ফকির ইলিয়াসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’। জমজমাট এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন রামকুমার মুখোপাধ্যায়, রামেন্দু মজুমদার, সউদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীর। আলোচনায় আরো সম্পৃক্ত হন ড. সাজেদ কামাল, মুজিব বিন হক, ফজলুর রহমান, তমিজ উদদীন লোদী ও শামস আল মমীন।
নতুন বইয়ের মোড়ক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেরদৌস সাজেদীন। উন্মোচিত বইগুলো হচ্ছে-‘যেমন দেখেছি ওয়ান ইলেভেন’ -আমেদ মুসা, গৃহীত গ্রাফগদ্য -ফকির ইলিয়াস, মনোলগ-শামস আল মমীন, রমনা মেইল -আবু রায়হান।
উৎসব উপলÿে আদননান সৈয়দের সম্পদনায় স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
বলা যায় তিনদিনের এই বইমেলা সাহিত্য সংস্কৃতির এক মিনি বাংলাদেশে পরিণত হয়। সাহিত্য সংস্কৃতি মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে মেলা অঙ্গন। সামিনা চৌধুরীর গানের পর উৎসব শেষ হলেও মিলনায়তনের সামনে প্রবাসী বাঙালীদের জটলা কাটেনি। মনে হয় তখনো তিনদিনের আনেন্দের রেশ কাটেনি। লেখক-সাংবাদিক-পাঠক শুভানুধ্যায়ীরা আবারো মিলিত হবেন আগামী বই মেলায়, আসছে বছরে। সে উৎসবটি হবে ২৫ বছর।

সবকিছুই আজ দ্বিখণ্ডিত এই মূল্যবোধ দিয়ে গণতন্ত্র হবে না : অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

মনির হায়দার : দেশে বইপড়া আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান রাজনৈতিক দলগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত করে দিয়েছে। আজকে সবকিছু দ্বিখণ্ডিত। এই মূল্যবোধ দিয়ে গণতন্ত্র হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক এ বাংলা উৎসব ও বইমেলার শেষদিনে গত রোববার দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিক হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় শেষদিনের আয়োজনে আরও বক্তৃতা করেন পশ্চিম বঙ্গের বিশ্ব ভারতীর পরিচালক রামকুমার মুখোপাধ্যায়। আগের দিন শনিবারের মতো এদিনও আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বক্তব্য চলার সময় বার বার চিরকুট দিয়ে তাকে দ্রুত বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়। এমনকি একপর্যায়ে কয়েক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে হইচই করে বক্তব্য থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এরপর তিনি দ্রুত কথা শেষ করেন।
বরাবরই সব রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থাকা এই বিশিষ্টজন তাঁর বক্তৃতায় বলেন, স্বধীনতার পর গত সাড়ে চার দশকে যেভাবে দেশ এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করেছিলাম, বস্তুুত সেভাবে দেশ আগায়নি। তিনি বলেন, যে ব্যর্থতার জন্য দেশ এগুতে পারছে না, সেটা হলো রাজনৈতিক ব্যর্থতা। আর পরের সমস্যাটা হলো সংবিধান। যে সংবিধানের শিকার হয়ে রাজনীতি বিপাকে পড়েছে। এর থেকে রাজনীতি বের হতে পারছে না।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা কখনই খারাপ ছিলেন না। কিন্তু তারা খারাপ হয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংবিধানের একটি ধারা পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত করে দিয়েছে। এটা করতে গিয়ে পুরোপুরিই সংঘাতের দিকে চলে গেছে দেশের রাজনীতি। এর থেকে মুক্তির পথ আমি আজ বলতে পারছি না। গত শনিবার মেলার দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় তা বোঝাতে চেয়েছি।
এ পর্যায়ে আয়োজকদের কেউ কেউ যখন তাঁর বক্তব্য থামিয়ে দেয়ার জন্য বার বার চিরকুট দিচ্ছিলেন, তখন আক্ষেপের সুরে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আপনারাই বলুন কারা দেশ চালাবে? সেই ধরনের মানুষ কি গড়ে উঠছে? সবগুলো সরকারি ইউনিভার্সিটির যা অবস্থা! সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যাড ইনভেস্ট হচ্ছে এই  ইউনিভার্সিটিগুলো। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু ইউনিভার্সিটিগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্য মেধা বের করে আনতে পারছে না। সরকার নিজের কারণেই এটা করতে পারছে না। কারণ, রাজনীতি এখন সবকিছুর মধ্যেই ঢুকে পড়েছে।  আজকে সবকিছু দ্বিখণ্ডিত। এ অবস্থাই গণতন্ত্রের বড় শত্রু।
আলোকিত মানুষ গড়ার এই কারিগর আরও বলেন, মূল্যবোধের যে মান আমাদের; এই মূল্যবোধ দিয়ে কখনও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। সুশিক্ষা দিয়ে সামাজিক মূল্যবোধকে গড়ে তুলতে হবে। রোধ করতে হবে সামাজিক অবক্ষয়। তাহলেই আবার গণতন্ত্র জেগে উঠবে।
বাংলাদেশের জনগণকে অসহায় অভিহিত করে তিনি বলেন, জনগণ বর্তমানের দুই স্বৈরাচারকে হাতবদল করে নির্বাচিত করছে। একবার এ দলকে তো পরের বার অন্য দলকে। হতাশা থেকেই মানুষ এমনটি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক স্বৈরাচারের আচরণে হতাশ হয়ে মানুষ আবার আগের স্বৈরাচারকেই ভোট দিচ্ছে। আর এভাবেই হাতবদল করে স্বৈরতন্ত্র আমাদের গণতন্ত্রের মধ্যে ঢুকে পড়েছে, যা এখন স্থায়ী হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে একটু সংশোধন করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
উগ্রবাদ শুধু ধর্মীয় হয় না উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, বাঙালিত্বও এক ধরণের উগ্রবাদ। রবীন্দ্রনাথও এক ধরণের উগ্রবাদ। মোল্লা শুধু ধর্মীয় মোল্লা হয় না। বাঙালি মোল্লা হয়। এমনকি রবীন্দ্রনাথ মোল্লাও হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২২শে মে শুক্রবার সন্ধ্যায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নিউ ইয়র্ক-এর বার্ষিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা এবং গত  রোববার তা শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ