Sunday, 25 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
সব ক্যাটাগরি

সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী আর নেই

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 155 বার

প্রকাশিত: October 26, 2013 | 11:42 AM

প্রবীণ সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি .. রাজেউন)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত ৯ই অক্টোবর তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর আইসিইউতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া হয়। 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি গিয়াস কামাল চৌধুরী ১৯৬৪ সালে ‘ঢাকা টাইমস’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি ‘দি মর্নিং নিউজ’ এ যোগ দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) যোগ দেন। তিনি ‘ভয়েস অব আমেরিকা’ (ভিওএ)-এর ঢাকা প্রতিনিধি ছিলেন এবং ‘দৈনিক খবরপত্র’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। প্রখ্যাত এই সাংবাদিক ১৯৯২ সালে ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। ফেনী জেলার সদর উপজেলার শর্শদিতে ১৯৩৯ সালের ২১ জুলাই গিয়াস কামাল চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন।

খামগুলো সযতনে ফিরিয়ে দিতেন গিয়াস ভাই

কাজল ঘোষ: অতিপরিচিত ‘লিডার’ শব্দটি রাজনীতিকদের বেলায় খাটলেও ব্যতিক্রম শুধু গিয়াস ভাই। প্রেসক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘসময় যুক্ত ছিলেন এই মানুষটি। সাংবাদিকদের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার গিয়াস ভাইকে চিনি এক যুগেরও কিছু বেশি সময় থেকে। ছিলেন সাংবাদিকতার গুরু। একদিকে পেশা ও অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের নানা খুঁটিনাটি নিয়েই থাকতেন তিনি। প্রথম দেখা চ্যানেল আইতে। সংবাদপত্রনির্ভর অনুষ্টান ‘সংবাদপত্র বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের সেটে। সেই থেকেই মাঝে মধ্যে কথা হতো। ফোনে হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গেই ওপাশ থেকে ভরাট গলায় বলতেন, কি কাজল বাবু নাকি? কই আপনি তো মিঞা আইলেন না। বলেন, খবরবার্তা কি?
অপরাধবোধ হচ্ছে, নানা কাজের ব্যস্ততায় গিয়াস ভাইয়ের বাসায় অনেকদিন যাওয়া হয়ে ওঠেনি। আড্ডা আর কথার ফাঁকে বলতেন, এক পেয়ালা চা খাবেন নাকি? অনুষ্ঠান প্রযোজনার সুবাদে একাধিকবার দেখা হয়েছে চ্যানেল আইতে গিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে। অনুষ্টান শুরুর অন্তত ঘন্টা খানেক আগেই তিনি সেটে হাজির হয়ে যেতেন। সকাল সাড়ে আটটার অনুষ্ঠান গিয়াস ভাই পৌঁছে যেতেন সাড়ে সাতটায়। এটা ছিল অনুষ্ঠানে যুক্তদের বাড়তি চাপ। সেটের ছেলেরা হয়তো তখনও ঘুমিয়ে আছে। বেইলি রোডে চ্যানেল আইয়ের ছোট স্টুডিওতেই ছেলেরা তখনও বিছানায় তুলেনি। সেটে ঢুকে বিনয়ের সঙ্গে বলে ওঠতেন, আমি বোধহয় একটু বেশি আগেই চলে এলাম। এক কোনে চুপচাপ বসে পত্রিকার বান্ডিল নিয়ে নিবিষ্ট হয়ে যেতেন। পত্রিকার এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত উল্টাতেন। অনুষ্ঠান শেষে ধীরপায়ে হেটে হেটেই বাসায় ফিরতেন। যখন রমনা থানার পেছনে একটি বাসায় ছিলেন তখন এমনও হয়েছে আমি নিজেও গিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে হাটতে হাটতে বাসা পর্যন্ত গিয়েছি। নিয়মিত অতিথি হিসেবে গিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয় প্রায়ই। দু’টি ঘটনার কারণে এই মানুষটিকে মনে থাকবে অনেকদিন। চলার পথে অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। গিয়াস ভাইয়ের কাছ থেকে দু’টি শিক্ষা নিয়েছি। একদিন অনুষ্ঠান শেষে গিয়াস ভাইয়ের হাতে চ্যানেল আইয়ের লোগো অঙ্কিত খামে সম্মানী দিতে গিয়ে দেখি তিনি আমাকে উল্টো অনেকগুলো খাম ফিরিয়ে দিলেন। আমি বললাম, এটা কিসের খাম। আপনার খামগুলো সযতনে রেখে দিয়েছি। এগুলো আবারও ব্যবহার করতে পারেন। নষ্ট করে লাভ কি? এই গুনের হেতু জানতে চাইলে বলেছিলেন মাও সে তুং-এর কথা। তিনি নাকি যত রকমের চিঠি আসতো তা বের করে খামগুলো সযতনে আলাদা করে রেখে দিতেন। পরে আবার সেগুলো কাজে লাগাতেন। প্রতিবারই কারো হাতে সম্মানীর খাম দিতে গেলে গিয়াস ভাইয়ের কথা মনে হয়। সবাই যদি এমনটি করতেন। তাহলে হয়তো এ খাতের একটি বড় অপচয় থেকে আমরা বেঁচে যেতাম। আর অবাক হতাম চায়ের কাপে অনেক সময় ব্যয়  করতেন গিয়াস ভাই। শেষ বিন্দু চা থাকা পর্যন্ত গিয়াস ভাই তাতে চুমুক দিতেন। কাপ রাখলে বুঝতে পারতাম না যে কেউ চা খেয়েছে কিনা? এত বড় একজনও মানুষ যে কতোটা বিনয়ী ছিলেন তা বলে শেষ করা যাবে না। সবসময় ঘাড়ে হাত রেখে বলতেন, ভালো থাইকেন।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ