স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ব্যুরোর নয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে রবার্ট ব্লেকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন নিশা দেশাই বিশাল
কাউসার মুমিন : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ব্যুরোর নয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনয়ন পেয়েছেন মার্কিন প্রশাসনে অভিজ্ঞ প্রশাসক হিসেবে সুপরিচিত ভারতীয় আমেরিকান নিশা দেশাই বিশাল। প্রশাসনের উঁচু পর্যায়ের ৭টি পদে নতুন নিয়োগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ওবামা গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে তার নাম ঘোষণা করেন। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট শুনানিতে প্রেসিডেন্টের এই মনোনয়ন নিশ্চিত হলে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হবে এবং তিনি এই পদে বর্তমানে কর্মরত রবার্ট ব্লেকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। উল্লেখ্য, নিযুক্ত হলে নিশা বিশাল হবেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালনকারী সর্বপ্রথম দক্ষিণ এশীয় ও ভারতীয় আমেরিকান। তিনি বর্তমানে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি)-এর এসিস্ট্যান্ট এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএসএআইডি’র প্রধান হিসেবেও রয়েছেন আরেকজন ভারতীয় আমেরিকান রাজীব শাহ। এদিকে ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া এ বিষয়ক এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ব্যুরোর নয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিশা বিশালের এ মনোনয়নকে ‘আনপ্রিসিডেন্টেড’ বলে মন্তব্য করেছে। দৈনিকটি বলছে, এ ব্যুরোর মধ্যম সারির কর্মকর্তা পদে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কেউ কেউ নিয়োগ পেলেও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব এর আগে অল আমেরিকান মার্কিন নাগরিক ছাড়া অন্য কারও পাওয়ার নজির নেই। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে এই ব্যুরো গঠনের পর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন যথাক্রমে রবিন রাফেল, কার্ল ইন্ডারফার্থ, ক্রিস্টিনা রোকা, রিচার্ড বাউচার ও বর্তমান সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক। স্টেট ডিপার্টমেন্টে নিযুক্ত কোন ভারতীয় আমেরিকান কূটনীতিকের বিরুদ্ধে পাক-ভারত ইস্যুতে কোন রকম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না থাকলেও ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হোসেন হাক্কানী ওবামা প্রশাসনে ভারতীয় আমেরিকান নাগরিকদের সংখ্যাবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এখন অবশ্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দেখভালের জন্য আফ-পাক বিষয়ক একজন পৃথক মার্কিন বিশেষ দূত রয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্ক দেখাশোনার দায়িত্বে একজন ভারতীয় আমেরিকানের নিয়োগ পাকিস্তানকে বিচলিত করবে। উল্লেখ্য, স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ব্যুরো বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান এবং মধ্য এশিয়ার কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দেখাশোনা করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিশা বিশালের মনোনয়ন ঘোষণায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, পররাষ্ট্র দপ্তরের সাউথ এশিয়ান এফেয়ার্সের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকে এ মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোর একটি সূত্র বলছে, নিশা দেশাই বিশালের মনোনয়ন সংক্রান্ত সিনেট শুনানির দিন এখনও ধার্য করা হয়নি। তবে সিনেট শুনানিতে নিশা বিশালের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি একেবারে নিশ্চিত।সর্বশেষ সংবাদ
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity