‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ ২০১৭ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে বিদেশী কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭ উপলক্ষে ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন স্থায়ী মিশনে দায়িত্বরত কূটনীতিকদের সম্মানে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মেহমানদের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে স্বাগত জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, তাঁর সহধর্মীনি ফাহমিদা জাবিন ও মিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। অতিথিদেরকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বাঙালি জাতির মহান স্বাধীনতার রূপকার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ, দু’লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুদের সহযোগিতার কথাও তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
সমবেত বিদেশী কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সামনে বাঙালির ইতিহাস, আবহমান ঐতিহ্য ও সূদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আমাদের আত্মপরিচয় অর্জনের দিন”। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের জনগণের উপর ঘটে যাওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত, নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্টতম গণহত্যার স্মরণে বাংলাদেশ ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে মর্মে তিনি উপস্থিত অতিথিদের জানান।
রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, “১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতা প্রদত্ত প্রথম ভাষণে উল্লিখিত, “সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়” – আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূলনীতি যা ধারণ করে আমরা শান্তি-কেন্দ্রিক পররাষ্ট্র নীতির বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অভিগমণ ও মানব সম্প্রদায়ের বাধাহীন চলাচলের বৈশ্বিক প্লাটফর্মেও বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে”।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার জঙ্গী ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা- বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে মর্মে উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “বিগত আট বছরে বাংলাদেশ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ক্রীড়া, তথ্য-প্রযুক্তি, বৈদেশিক সম্পর্ক, নগর উন্নয়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী উন্নয়নসহ প্রতিটি সেক্টরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। আমাদের ক্রয় ক্ষমতা, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুততম সময়ে অর্জিত দারিদ্র্য বিমোচন হারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম। এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছি”।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা”।
জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে জাতিসংঘের এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মিরোসলাভ জেনকা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজের বাণী পড়ে শোনান। অনুষ্ঠানটিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কিউবা, চীন, কুয়েত, মিশর, আলজেরিয়া, শ্রীলংকা, ইতালী, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের স্থায়ী মিশনের দুইশতাধিক কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
পালতোলা নৌকা, নক্সীকাঁথা, জামদানি, অলঙ্কারসামগ্রী, মৃৎশিল্প সামগ্রী, গরুর গাড়ী, রিক্সা, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী দেশী পোশাক পরিহিত বিভিন্ন ধরনের পুতুল, জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাঙালির আত্মপরিচয় সমৃদ্ধ বইসহ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও আনুষ্ঠানিকতায় মুগ্ধ হন বিদেশী কূটনীতিক ও তাঁদের স্পাউজগণ। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করা হয়। পুরো সময় জুড়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে বাজানো হয় মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কালজয়ী গানগুলি। নিউইয়র্কের মাটিতে বসে, অভ্যাগত বিদেশী অতিথিদের সামনে একটুকরো বাংলাদেশকে তুলে ধরতে স্থায়ী মিশনের এ প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেন জাতিসংঘকে ঘিরে গড়ে ওঠা গোটা কূটনীতিক পাড়ার ভিন্নদেশী ভিন্নভাষী এই মেহমানেরা। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তা ও তাঁদের স্পাউজ ছাড়াও নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসের কর্মকর্তা ও তাঁদের স্পাউজ এবং জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশের কর্মকর্তা ও তাঁদের স্পাউজগণ অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ