Friday, 26 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

‘হোমলেস’ শব্দটার মর্মার্থ আমেরিকায় আসার আগে সেভাবে উপলব্ধি করিনি কোনদিন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 63 বার

প্রকাশিত: September 10, 2017 | 1:55 PM

মনিজা রহমান : এই দেখুন দেখুন.. এটা হলো ডেভিড বেকহ্যামের বাড়ি, তারপর এটা হলো ম্যাডোনার, আর তার পরেরটা জেনিফার লোপেজের! ধারা ভাষ্যকারের প্রত্যেকটি বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে হর্ষধ্বনি উঠছিল বোটের আরোহীদের মধ্য থেকে। কেউ কেউ সেলফি তুলছিল সেই সব বাড়ির সঙ্গে। নদী তীরে সেই বাড়িগুলোতে অবশ্য সেলিব্রেটিরা সব সময় থাকেন না। তবু সবাই যেন সেলফি তুলে সেলিব্রেটিদের স্পর্শ লাভের পরম আনন্দ লাভ করছিল। বিশাল সব অট্টালিকা। নয়নাভিরাম। ধারাভাষ্যকারের নাম ‘আতুরো’। সে জানালো, সেলিব্রেটিদের বছরে এক-দুই বার এসে অবকাশ কাটান প্রাসাদতুল্য এই বাড়িতে। নয়তো সারা বছর ফাঁকা থাকে। তবে কেউ চাইলে থাকতে পারে। এক রাতের ভাড়া……দশ হাজার ডলার! দশ হা-জা-র ডলার! আমাদের মাথা ঘুরানোর মতো অবস্থা। কথা বলছিলাম কিছুদিন আগে বেড়িয়ে আসা মিয়ামির এক ‘বে রাইড’ নিয়ে। প্রায় এক ঘণ্টার নৌবিহারের পরে বোট যখন ঘাটে ভিড়ল তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ডাউনটাউন মিয়ামিতে এক হোটেলে ছিলাম আমরা। সেখান থেকে সীবিচ কাছেই। কিন্তু আমরা এন্ট্রি মুখ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরির পরে এক সহৃদয় মানুষের দেখা পেলাম। ভদ্রলোককে দেখে মনে হল স্প্যানিশ। তিনি বিস্তারিতভাবে পথের সন্ধান দেবার শেষে বললেন, ‘সাবধানে থাকবেন’। কেন? কেন এত বিশেষ সতর্কতা? উনি জানালেন, ‘সমুদ্র পাড়ে অনেক হোমলেসরা থাকে। ওরা সুযোগ পেলেই ছিনতাই করে। তাই সাবধান!’ গুটি গুটি পায়ে এগোলাম সমুদ্রের দিকে। চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া সমুদ্রের ঢেউ মনে যত আবেগের উচ্ছ্বাস জাগাক, তবু আড়চোখে দেখে নিতে ভুললাম না বালুতটে শুয়ে থাকা সারি সারি আদম সন্তানকে। মানবেতর বললে কমিয়ে বলা হয়। বেশিক্ষণ সমুদ্রের ঢেউ গোনার সাহস হলো না। দ্রুত ফিরলাম লোকালয়ের কাছে। যদি ছিনতাইকারীর পাল্লায় পড়ে যাই। গাড়িতে হোটেলে ফেরার সময় ভাবছিলাম, বিকাল আর সন্ধ্যায় অভিজ্ঞতার পার্থক্য। দীর্ঘশ্বাস ফেলে গেয়ে উঠলাম, ভুপেন হাজারিকার বিখ্যাত সেই গান..
আমি দেখেছি অনেক গগনচুম্বি অট্টালিকার সারি,
তার ছায়াতেই দেখেছি অনেক গৃহহীন নরনারী…
আমি এক যাযাবর!
তৃতীয় বিশ্বেও মানুষ হয়েও ‘হোমলেস’ শব্দটার মর্মার্থ আমেরিকায় আসার আগে সেভাবে উপলব্ধি করিনি কোনদিন। যেমন বুঝতাম না ‘রেসিজম’ বা বর্ণবাদ কতটা তীব্রভাবে থাকতে পারে একটা সমাজে। মিয়ামির অট্টালিকাগুলো বিলাসবহুল হলেও, গগনচুম্বি সেভাবে নয়! আকাশ ছোঁয়া ভবন বরং বেশি দেখা যায় নিউ ইয়র্কে, বিশেষভাবে বলা যায়  ম্যানহাটানে। আর এই শহরেই হোমলেস বা গৃহহীনের সংখ্যা বেশি। কারণ জনবহুল শহর হওয়ায় বাসা ভাড়া অন্যান্য স্টেটের চেয়ে অনেক বেশি নিউ ইয়র্কের। বেশিরভাগ কর্মজীবী নিউ ইয়র্কারকে আয়ের প্রায় সিংহভাগ দিতে হয় বাসা ভাড়ার পিছনে। তাছাড়া এখানে বাসা ভাড়া নেয়ার ঝামেলাও অনেক বেশি। ব্যাংকে মোটা অংকের ব্যালান্স দেখাতে হয়। যারা সেটা পারেন না তাদের উপায়- হোমলেস শেল্টারে অসম্মানজনক, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকে মেনে নেয়া। প্রথম যখন এই শহরের এক সাদামাটা ফ্ল্যাটে নতুন জীবন শুরু করেছিলাম, তখন ছয়তলার জানালা দিয়ে বিস্মিত হয়ে দেখতাম দূরের অট্টালিকা। পুরনো রঙচটা সেই বাড়ির জানালা দিয়ে ম্যানহাটানের সেই গগনচুম্বি অট্টালিকাকে কেমন অবাস্তব মনে হতো। মনে হতো কোন স্বপ্নপুরী! কিংবা আকাশের পটে আঁকা কোনো ছবি। ঘোর কেটে গেলে জানতে পারলাম, নিউ ইয়র্ক শুধু গগনচুম্বি অট্টালিকার শহর নয়, হোমলেসদের শহরও। নিউ ইয়র্ক নামক স্বপ্নপুরীতে- ট্রেনে, সাবওয়ে স্টেশনে, ফুটপাথে, শেল্টার হাউজগুলোতে থাকে হাজার হাজার ছিন্নমূল মানুষ, যাদেরকে এই শহরে সবাই ডাকে ‘হোমলেস’। কেউ তাদের দেখতে পারে না, কেউ না। রিচার্ড গেরে অভিনীত ‘টাইম আউট অব মাইন্ড’ কিংবা হোমলেসদের নিয়ে বানানো বিখ্যাত সব মুভি দেখে যতই আমরা আবেগে কেঁদে বুক ভাসাই, কিন্তু বাস্তবে আমরা ওদের ঘৃণা করি। হোমলেসরা ট্রেনের কোনো বগিতে থাকলে, সেই বগিতে কেউ উঠি না। একান্ত উঠলে, পাশে বসি না। ফুটপাথে দেখলে নাক সিটকে চলে যাই। কারণ তারা নোংরা। দিনের পর দিন গোসল করে না। ময়লা, ছেঁড়া পোশাক পরে থাকে। অনেক সময় ওই পোশাকের ওপরই বমি করে দেয়। কিংবা টয়লেট করে। আবার সেটা পরেই নিঃসংকোচে ঘুরে বেড়ায়। আমার এক প্রতিবেশী বাদশা ভাইয়ের ভাষায়, হোমলেসরা হলো এক নম্বর চোর। ওনার রুজভেল্ট এভিনিউয়ের ওপরে একটা গ্রোসারি শপ আছে। হোমলেসরা ওখানে ঢুকে এক ডলার দিয়ে একটা বিয়ার কেনে, আবার যাবার সময় আরেকটা বিয়ার হাতে করে নিয়ে যায়। ছোটখাটো চুরির জন্য দোকানদাররা আর পুলিশের কাছে রিপোর্টও করেন না। পুলিশ, সিটির পরিচ্ছন্নকর্মীরা, সোশাল ওয়ার্কাররা প্রাণপণ চেষ্টা করে নিউ ইয়র্ক শহরজুড়ে হোমলেসদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য। জোর করে ওদের ধরে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে। কিন্তু আবার সেই হোমলেসরা ফিরে যায় ওদের আগের চেহারায়। নিউ ইয়র্ক শহরে দিন দিন বাড়ছে হোমলেসদের সংখ্যা। কিছুদিন আগে এক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে জানতে পারলাম, ১৯৩০ সালের গ্রেট ডিপ্রেশনের পরে নিউ ইয়র্ক শহরে এত হোমলেস কখনও দেখা যায়নি। ২০১৭ সালে মানে এ বছর মে মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী ঝকঝকে চকচকে শহরে ৬১,১১৩ জন হোমলেস আছে বর্তমানে। ১৫,২৩৪ হোমলেস পরিবারের সঙ্গে থাকে ২২, ৯০৮ জন ছেলেমেয়ে। নিউ ইয়র্ক সিটি মিউনিসিপ্যাল শেল্টার হাউসে গত দশ বছরে হোমলেস মানুষের সংখ্যা শতকরা ৭৫ ভাগ বেড়েছে। পরিবারের ক্ষেত্রে হোমলেস হওয়ার প্রধান কারণ বাসা ভাড়া করে থাকার অসামর্থ্য। হোমলেস পরিবারের মধ্যে একটি জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, বাসা ভাড়া দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়া, পারিবারিক কলহ ইত্যাদি কারণে অনেক শেল্টার হাউজে এসে থাকছে। তবে হোমলেস পরিবারের চেয়ে হোমলেস পরিবারহীন একা মানুষের ড্রাগ আসক্তি, মানসিক অসুস্থতা ও মারাত্মক শারীরিক সমস্যা অনেক বেশি আকারে হয়। নিউ ইয়র্ক শহরে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায়। আমাদের বাংলাদেশেও কাটায়। কিন্তু বাংলাদেশের চেয়ে এখানকার তাপমাত্রার পার্থক্য বিস্তর। মাইনাস টেন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় থাকার অভিজ্ঞতা নিজ দেশে থাকতে বাঙালির কখনও হয় না। তুষারে ঢাকা পুরো শহরে কনকনে ঠাণ্ডায় হোমলেসরা ঘুমিয়ে থাকে নিউ ইয়র্ক সিটি স্ট্রিট, সাবওয়ে স্টেশন, ট্রেন, ফুটপাথে, পার্কে ও অন্যান্য পাবলিক প্লেসে। অথচ আমরা থাকি বাড়িতে, তাও আবার হিটার চালিয়ে।
ঠিক কত সংখ্যক হোমলেস এভাবে পথে ঘাটে দিন কাটায় তার কোনো হিসাব নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নেই। হোমলেস নিউ ইয়র্কারদের ব্যাপার সিটি সার্ভের অবহেলার বিষয়টি সত্যি দুঃখজনক বলে মনে করেন কেউ কেউ। কারণ এসব হোমলেসের অনেকেই মানসিক রোগী। বেশিরভাগ মাদকাসক্ত। কারো কারো অন্যান্য মারাত্মক কোনো রোগ আছে। যে কারণে তারা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণও বটে। পথে ঘাটে ঘুরে বেড়ানো হোমলেসদের ব্যাপারে অনেকের ভাষ্য, ওরা অভাবের কারণে এভাবে থাকে না, স্বভাবের কারণে থাকে। কারণ সিটি কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য তো শেল্টার হাউজ করেই দিয়েছে। তবু তারা সেখানে না থেকে পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। হোমলেসদের একটি বড় অংশ কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রিকান আমেরিকান। এই শহরে মোট হোমলেস জনসংখ্যার শতকরা ৫৮ ভাগ তারা। মানে অর্ধেকের বেশি। আমার এক হাইতিয়ান বন্ধু বিয়াত্রিত লুবিন সাম্পেন একবার কথায় কথায় বলেছিল, ‘কালো মানুষেরা বহু বছর ক্রীতদাস থাকার পরে স্বাধীনতা পায়। তারপর তারা মনেপ্রাণে এতই স্বাধীন হয়ে যায় যে প্রত্যেকে নিজেদের ‘বস’ ভাবতে শুরু করে।’  বিয়াত্রিত নিজেও একজন কালো মানুষ। তবু স্বজাতি সম্পর্কে এটাই ওর মূল্যায়ন। অতিরিক্ত স্বাধীনচেতা মনোভাব বিশৃঙ্খল জীবন যাপনের পথ পরিষ্কার করে দেয়। যে কারণে অনেক আফ্রিকান আমেরিকান বাস্কেটবল তারকা খেলোয়াড়ি জীবনে মিলিয়ন ডলার আয় করে শেষ জীবনে নিঃস্ব-মানবেতর জীবন যাপন করে। আফ্রিকান আমেরিকানদের পরে হোমলেসদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ল্যাটিনোরা। তারাও উদ্দাম জীবন যাপনে অভ্যস্ত। মেক্সিকো, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার মূলত স্প্যানিশভাষী মানুষেরা এই দলে। ড্রাগ, মদ, গাঁজা তাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। থাইল্যান্ডে যেমন পতিতাবৃত্তি সেখানকার নারীদের পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে, তেমনি নেশা করা ল্যাটিনোদের পারিবারিক চর্চার মধ্যে পড়ে। যে কারণে জীবনে সচ্ছলতা এদের সেভাবে আসে না। অমানুষিক পরিশ্রম করে সপ্তাহে পাঁচদিন, বাকি দুই দিন সব উড়িয়ে দেয়। জমা করে না। বয়স হযে গেলে যখন কাজ করার ক্ষমতা থাকে না, তখন হোমলেস হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না ওদের।
হোমলেসদের মধ্যে সাতভাগ শ্বেতাঙ্গ ও তিনভাগ অন্যান্য রেসের। আনন্দের ব্যাপার হলো হোমলেস এশিয়ানের সংখ্যা শতকরা এক ভাগেরও নিচে। এই পরিসংখ্যান বলে দেয় পারিবারিক বন্ধন আজো এশিয়ার মানুষের মধ্যে অনেক বেশি, সে চাইনিজ হোক আর ভারতীয় হোক, আরব হোক কিংবা আমাদের মতো বাঙালি হোক। এমন না যে এশিয়ানরা-আফ্রিকান আমেরিকান কিংবা ল্যাটিনোদের তুলনায় সম্পদশালী, কিন্তু তারা আয় বুঝে ব্যয় করে। ভবিষ্যদের জন্য বিনিয়োগ করে। শিক্ষাদীক্ষায়, ভালো চাকরি, ভালো স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রেও সাদাদের পরে এশিয়ানদের অবস্থান এখন নিউ ইয়র্কে। এশিয়ানরা পিতা-মাতারা আজো নিজেদের জীবনের অনেক বিলাসিতা, আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। তারা পারিবারিক জীবনকে খুব গুরুত্ব দেয়। যেটা অন্যান্য রেসের মধ্যে এতটা দেখা যায় না। হোমলেস পরিবারের সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা সিটি কর্তৃপক্ষের। নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় মেয়র ডি ব্ল্যাজিও বারবার এই ব্যাপারে তার উদ্যোগের কথা বলেছেন। তিনি কিছুদিন আগে নতুন করে ১১০টি হোমলেস শেল্টার স্থাপনের ঘোষণা দেন। পারিবারিক সহিংসতা, পিতামাতার ড্রাগ আসক্তি, বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের জন্য বাবা বা মায়ের জেলে যাবার কারণে সন্তানদের হোমলেস হতে হয়। বিস্ময়কর হলেও সত্যি পৃথিবীর উন্নত দেশের মধ্যে রুমানিয়ার পরে আমেরিকান শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। হোমলেস জীবন শিশুটিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠতে বাধ্য করে। তার সুকুমার বৃত্তিকে কেড়ে নেয়। এক সহকারী স্কুল শিক্ষিকার কথা পড়েছিলাম পত্রিকায়। সিঙ্গল প্যারেন্ট সে। একার আয়ে তার পক্ষে বাসা ভাড়া দিয়ে থাকা সম্ভব না। দুই কন্যাকে নিয়ে সে হোমলেস শেল্টারে থাকে। ওই স্কুল শিক্ষিকা বলেছিল, এখানে আমাদের আইডি নম্বর ধরে ডাকা হয়। মনে হয় কোনো বাড়িতে নয়, জেলখানায় আছি। আমাদের কোনো নাম নেই। আমরা একটা নম্বর মাত্র। স্বপ্ন দেখি বড় মেয়েকে ল ইয়ার, ছোট মেয়েকে ডাক্তার বানাবো। কিন্তু এই পরিবেশে থেকে সেই স্বপ্নটাকে বড় হাস্যকর মনে হয়। মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষের এক সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী মদের নেশায় সব হারিয়ে পঁয়ষট্টি বছর বয়সে এসে এখন ট্রেনে, পার্কে, পথে ঘুমিয়ে কাটান। হোমলেস শেল্টারে থাকেন না। তার ভাষায়, সেখানে সবাই চোর। জুতাটাও পরে ঘুমাতে হয় ওখানে। নয়তো সকালে উঠে দেখা যায়, জুতা আর পায়ে নেই। মদের নেশার কারণে এই বৃদ্ধ সব হারিয়েছেন, সব। চাকরি, বাড়ি, স্ত্রী। এই বৃদ্ধের স্ত্রী বাস চালায়। তিন সন্তান আছে তাদের। তারা কেউ বাবার পরিচয় দেয় না। স্ত্রীও স্বামীর পরিচয় দেন না। কেনইবা দেবেন? নিজের কৃতকর্মের পরিণতি হিসেবে যারা হোমলেস হয়, তাদের তো সেটা আশা করাও ঠিক না!

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV