২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র, বেকারত্ব এবং দুর্নীতিকে যাদুঘরে পাঠানোর প্রত্যয় ব্যক্ত ড. ইউনূসের
সাখাওয়াত হোসেন সেলিম : আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র, বেকারত্ব এবং দুর্নীতিকে যাদুঘরে পাঠানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিটি ইউনির্ভাসিটির লাগোর্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ থিয়েটার অডিটরিয়ামে ইউএস প্রবাসী বাংলাদেশ নাগরিক সমাজ আয়োজিত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল প্রাপ্তি উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সঙ্গীতের সুরে, ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনায় উপস্থিত প্রায় ৭ শ বাংলাদেশী আমেরিকানের বিপুল করতালি আর হর্ষধনির মধ্যে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বরণ করে নিলো ইউএস প্রবাসী বাংলাদেশ নাগরিক সমাজ।
নাগরিক সংবর্ধনায় ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে উলে¬খ করেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দূর্নীতি, বেকারত্ব,এবং দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ উপরে উঠার ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে কিন্তু পিছিয়ে আছে শুধু রাজনৈতিক কারণে।
তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যখাত এবং সামাজিক সূচকে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে গ্রামীন ব্যাংক এবং গ্রামীন ফোন। এর পেছনে গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভুমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সাফল্যের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ক জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আড়াই বছর আগেই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে গ্রামীন ব্যাংকের উপর হামলা হয়েছে। এখন তাই সময় এসেছে, আমাদেরকে এমন একটি সরকার ব্যবস্থা বেছে নিতে হবে, যারা গ্রামীন ব্যাংকের মতো সৃষ্টিশীল ও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করবে।
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণ এবং এর সমাধানের উপায় কি তা সকলেই জানেন। কিন্তু এরপরও এই সঙ্কট সমাধানের দায়িত্ব যাদের, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রগতি স্বত্ত্বেও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব আমাদের সার্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে বর্তমানে প্রচলিত রাজনৈতিক চর্চা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মকে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেবার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি ড. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংবর্ধনা কমিটির সেক্রেটারী সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক আবু তাহের। বক্তব্য রাখেন কমিটির উপদেষ্টা ডা. আনোয়ার মিয়া সহ বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন প্রবীণ সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ।
সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে ‘গ্রামীণ’ শীর্ষক একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হয়।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!