২১ বছর পর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতন-ভাতা বেড়েছে
নিউইয়র্ক, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতনভাতা ১৯৯২ সালের পর ২১ বছর পর আবার বেড়েছে। শতকরা ৬.৭৫ ভাগ হারে এই বেতন ভাতা বেড়েছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই ভাতা অতিরিক্ত আরো ১০ ভাগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড.এ.কে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির এই প্রস্তাব পাশ হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ শান্তিরক্ষা কর্মী প্রেরনকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশের বিশেষ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে শান্তিরক্ষীদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছে। মুদ্রাস্ফীতির কারনে জাতিসংঘের কর্মীদের বেতন-ভাতা শতকরা ৫৭ ভাগ বেড়েছে। কিন্তু শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন বাড়ছিল না। ২০১০ সালে বাংলাদেশ মিশন শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয় শীর্ষ পর্যায়ের শান্তিরক্ষা কর্মী প্রেরণকারী দেশ পাকিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া এবং উরুগুয়ে । ২০১১ সালে পাঁচটি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা জি-৭৭ এ প্রস্তাবটি তোলে এবং সমর্থন পায়। একই বছরের ৩০ জুন শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রহণ না করায় বাজেট পাশ বন্ধ করে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে এডহক ভিত্তিতে শান্তিরক্ষা কর্মীদের জন্য ৮৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্ধ বাড়িয়ে দেয়া হয়। ২০১২ সালে এডহক ভিত্তিতে ৬০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্ধ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় স্থায়ীভাবে বেতন বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হলে তিনি উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেন। ২০ সদস্যের এই কমিটিতে শীর্ষ শান্তিরক্ষী কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া ও উরুগুয়ে প্রতিনিধিরা সদস্য হিসাবে ছিল।

এছাড়া জাতিসংঘে সর্বোচ্চ অর্থ সহায়তাকারী দেশ হিসাবে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা এই পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিরা সদস্য হিসাবে ছিল। এছাড়া পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘ মহাসচিব নিযুক্ত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি এই কমিটিতে ছিলেন। কমিটি গত এক বছর বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা, শান্তিরক্ষা কর্মীদের জীবন-ধারন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
শান্তিরক্ষী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির নেপথ্য কারিগরদের অন্যতম বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, শান্তির জন্য নিবেদিত প্রান কর্মী তারা যে দেশেরই হোক বেতন বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে তাদের জন্য আনন্দের খবর। তাদের জন্য জাতিসংঘ এই সিদ্ধান্ত গ্রহনে আমরাও আনন্দিত। বিশেষ করে বাংলাদেশ এখন শীর্ষ শান্তিরক্ষী কর্মী প্রেরণকারী দেশ। মোট লক্ষাধিক শান্তিরক্ষীদের মধ্যে বাংলাদেশী সৈনিকের সংখ্যা ১০ হাজারের উপরে এবং এই মুহুর্ত পর্যন্ত আমরা শীর্ষ শান্তিরক্ষা কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসাবে বেতন ভাতা বৃদ্ধিতে আমাদের সৈনিকরা আরো একটু ভাল জীবন ধারন করতে পারবে। একই সঙ্গে আমাদের দেশের আয় বেড়ে যাবে। তাই জাতিসংঘের জনমুখী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই।
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’