২৭ বছরের প্রবাসী আনোয়ার হোসেইনকে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার বিদায় সংবর্ধনা
নিউইয়র্ক : সিলেটের বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ আনোয়ার হোসেইন দীর্ঘ ২৭ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গেছেন। ২৯ নভেম্বর মঙ্গলবার ইওেহাদ বিমানে করে বিকাল ৪.৩৫ মিনিটে তিনি সিলেটের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। এই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রবাসে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত থেকে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। প্রবাসীদের সঙ্গে তার গড়ে উঠেছিল নিবিড় সম্পর্ক। আর এই সম্পর্ককে ছিন্ন করে নাড়ির টানে তিনি দেশে ফিরে গেলেও প্রবাসীদের মাঝে রয়ে যাবে তার কর্মগাঁথা হাজারো স্মৃতি। সেই স্মৃতিকে অটুট রাখতে আনোয়ার হোসেইন-এর স্বদেশ প্রত্যাগমণ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় তাকে এক বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল কর্মকর্তা ছারাও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিয়ানীবাজারবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, হৃদয় ব্যথায় বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বড় করুন ‘বিদায়’ এ মর্মবাণী। বিদায়ের এই বেদনাবিধূর করুন মঞ্চে দাঁড়িয়ে কবির ভাষায় বলতে হয়, যেতে নাহি দেব হায়, তবু যেতে দিতে হয়। যাওয়া আসার এ রঙ্গীন পৃথিবীতে নিয়তির এটি এক অমোঘ বিধান। ভারাক্রান্ত হৃদয়ের অত্যন্ত সুগভীরে প্রতিধ্বণিত হচ্ছে আপনার অস্তিত্বের প্রতিধ্বনি। আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন আমাদের স্মৃতির পাতায় পাতায়। আপনি এঁকে যাচ্ছেন যে কর্মপ্রেরণা আর ভালবাসার আলপনা, তা আমাদের মাঝে স্মরণী বরণীয় হয়ে থাকবে। শাশ্বত, সত্য ও সুন্দরের সাধনায় উৎসর্গীকৃত প্রাণ ও আপনার পথচারণায় আমাদের শিখিয়েছেন মাতৃভূমিকে সুগভীরভাবে ভালবাসার, শিখিয়েছেন, দেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেদেরন সর্বদা উজ্জীবিত থাকার। আপনার এই সত্য ও সুন্দরের পরম প্রকাশকে আমরা জানাই হৃদয় নিঃসৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আন্তরিক অভিনন্দন। বাংলা অক্ষর
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল বাসিত খান বুলবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি আনোযার হোসেইন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, মুক্তিযোদ্দা মুকিত চৌধুরী, ছদরূন নূর, আব্দুর রহীম বাদশা, বাংলাদেশ সোসাইটির নব-নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি আজিমুর রহমান বোরহান, বদরুন খান মিতা, মাসুদুল হক ছানু, একলিমুজ্জামান নুনু ও আজিজুর রহমান পাখি, শামসুল আবেদিন, আজম চৌধুরী, জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, আতাউর রহমান সেলিম কুনু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা শাহীন আজমল, আব্দুল হাছিব মামুন, মেজবা আহমেদ, জাকারিয়া চৌধুরী, আব্দুল মালেক, খসরুজ্জামান খসরুর, মাহী চৌধুরী, বাবু,আমিনুল ইসলাম কলিন্স, মাসুদ হোসেন সিরাজী, রুহেল চৌধুরী,সাক্ষাৎ বিশ্বাস, দরুদ মিয়া রনেল, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিলের এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সাধারন সম্পাদক মিসবাহ আবদীন, ওয়াহীদ কাজী এলিন, সাইকুল ইসলাম, তৈয়বুর রহমান টনি, জাকির হোসেন, ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার, জহির আহম্মেদ জুয়েল, সৈয়দ এনায়েত আলী, আবু তাহের আসাদ, মোঃ সাদি মিন্ট, মফিজুল ইসলাম রুমি, আব্দুল কাদের লিপু, তোফায়েল আহমেদ, ইয়াকুত রহমান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন আকতার হোসেন, শাহাদাত হোসেন,দুদু, বাবু, ওয়ালী হোসেন, সারোয়র বাবু, জাকির, শ্যামল, ফকর উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জুয়েল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আনোয়ার হোসেইনের প্রবাস জীবনের নানান স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, আনোয়ার হোসেইন ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ সমাজকর্মী। বিদেশ বিভূঁইয়ে থেকেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত না করে প্রবাসীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তার প্রত্যাগমণে আমরা ব্যথিত হলেও প্রবাসের মত দেশেও তিনি গণমানুষের জন্য কঅজ করে যাবেন। বক্তারা তার উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করেন।
আনোয়ার হোসেইন বলেন প্রবাসে পাড়ি জমাব, কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। জীবিকার তাগিদে গৃহ পরিজন ছেড়ে অগত্যা পরবাসের খাতায় নাম লিখাতে হলো। প্রথমদিকে ব্যাপারটা বনবাসের মতোই লাগত। একজন প্রবাসী প্রতিদিনই নিত্যনতুন ঘটনার সম্মুখীন হয়, অভিজ্ঞতার ভান্ডারও বৃদ্ধি পেতে থাকে সেই সঙ্গে। এভাবেই কেটে গেছে বেশ অনেকটি বছর।
প্রবাস জীবন শিখিয়েছে কীভাবে আশপাশে ঘটে যাওয়া অনেক কিছুকেই এড়িয়ে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে হয়। প্রবাসী হবার কারণেই সূর্যিমামার আগেই জেগে উঠতে হয়। প্রিয়জনের মৃত্যু সংবাদ শুনেও কিছু করার থাকে না প্রবাসীদের। প্রবাসীরা যখন কেউ অসুস্থ হয় তখন পাশে কেউ থাকে না সেবা করার। অসুস্থকে রেখে সবাই চলে যায় সবার কাজে। কারও একটু সময় নাই তার পাশে থাকার। প্রবাসে কতো আপন মানুষ হয়ে যায় পর। রাত যায়, দিন যায়, রোজা যায়, ঈদ যায়, দেশের মানুষ কতো আনন্দ করে, অনেক প্রবাসীরা তা করতে পারেনা নানা কারনে, একদিন বসে থাকলেই লোকসান আর নিজেকে বুঝ মানায় ছুটিতে গেলে আনন্দ করা যাবে এখন কাজ করে কামাই করে নেই, এত কিছুর পরেও প্রাবাসীদের মূল চাওয়া পরিবারের সুখ আর ভালবাসা। তার বক্তব্যে সকল প্রবাসী ও কমিউনিটির সকল কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার আরেকটি প্রমান আজকের এই অনুষ্ঠান। প্রবাসের মাটিতে এসেও আমি আমার এলাকার মানুষের কাছে আছি। আজকের এই মিলন মেলা দেখে মনে হচ্ছে আমি বিদেশে না দেশের কোনো অনুষ্ঠানে বসে আছি। আনোয়ার হোসেইন আরও বলেন তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজ আমি এখানে সংবর্ধনা নিতে আসিনি, এসেছি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদায় নিতে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা পক্ষ থেকে পৃথক দুটি ক্রেস্ট ও মোবাইল ফোন প্রদান করা হয়। নৈশ ভোজের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ