Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

৭ম ইকোসক ইয়ুথ ফোরাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত সকল উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সামনের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশের যুবসমাজ – যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 165 বার

প্রকাশিত: February 1, 2018 | 12:21 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত সকল উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সামনের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশের যুবসমাজ”- ৩০ জানুয়ারি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন আয়োজিত ৭ম ইকোসক ইয়ুথ ফোরামে প্রদত্ত বক্তৃতায় এ কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন সিকদার এম.পি। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, “বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল সংখ্যক যুব জনসংখ্যা। এজেন্ডা ২০৩০ কে সামনে রেখে এই বিপুল যুব জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ পরবর্তী দশকগুলোতে জনমিতিক লভ্যাংশ উঠিয়ে আনতে পারবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন”। তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের রূপকল্পে যুব সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি যা এজেন্ডা ২০৩০-কেই প্রতিফলিত করেছে”। তিনি তাঁর বক্তৃতায় যুবসমাজের জন্য বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বিশেষ করে ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে যুবদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে যুবদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকার ডিজিটিাল বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় যুবদের জ্ঞান, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষভাবে জোর দিয়েছে। আত্ম-কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর ও উদ্ভাবনীমূলক কর্মসংস্থান যেমন মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কর্মাস ও আউট সোর্সিং কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের যুবরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, প্রযুক্তিগত বৈষম্য কাটিয়ে উঠছে এবং বাংলাদেশ যুব জনগোষ্ঠী থেকে প্রকৃত লাভ তুলে আনতে পারছে। বাংলাদেশের সর্বশেষ পঞ্চম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনায় যুব সম্পর্কিত এসডিজির লক্ষ্যসমূহ সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং সকল পর্যায়ে যুব সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি করতে জাতীয় যুব উন্নয়ন নীতি ২০১৭-কে ঢেলে সাজানো হয়েছে মর্মেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, “যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এসডিজির ৮.৬ অর্জনে লীড মিনিষ্ট্রি হিসেবে করছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণবিহীন যুব জনসংখ্যার হার বর্তমানের ২৮.৮৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশে কমিয়ে আনা। এটি অর্জনে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সমাজের সকলকে সাথে নিয়ে আমাদের সরকার এসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে যাতে কেউ পিছনে পড়ে না থাকে”। এর জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশীদারিত্বের উপর জোর দেন।
যুব-সংগঠন ও সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব বিনির্মাণে তিনি এ ফোরামে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এগুলো হচ্ছে : ১) স্বল্পেন্নোত দেশসমূহকে উন্নত দেশগুলোর প্রয়োজনীয় কারিগরী ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো এসডিজি’র যুব সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে পারে। ২) যুব উন্নয়নকে ফোকাস করে উত্তর-দক্ষিণ, দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ট্রায়াঙ্গুলার পার্টনারশীপসমূহকে আরও বেশী উন্মোচন করতে হবে। ৩) দেশসমূহের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিনিময় করতে হবে যাতে যুবদের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ব্যবধানগুলো কমে আসে এবং যুবরা পরস্পরে কাছাকাছি আসার মাধ্যমে বৈশ্বিক যুব সম্প্রদায় গড়ে তুলতে পারে। ৪) জাতিসংঘের সংস্থাসমূহকে এর সদস্য দেশগুলোর সাথে আরও বেশী অংশীদারিত্ব বজায় রেখে বেশী বেশী যুব উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে যাতে এসডিজি’র আলোকে যুব ক্ষমতায়ন তরান্বিত হয়। ৫) বিভিন্ন দেশের যুব আন্দোলনকে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া এবং উৎসাহিত ও যুক্ত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের ’ইয়ুথ ফোরাম’ যুবদের জন্য জাতিসংঘের একমাত্র প্লাটফরম যেখানে যুবরা নীতি নির্ধারণী আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে যুবরা সমন্বিতভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, নতুন নতুন ধারণার প্রবর্তন এবং সৃষ্টিশীল কাজে অবদান রাখতে পারে।এবারের ইয়ুথ ফোরামের মুল প্রতিপাদ্য ছিল, “টেকসই ও সক্ষমতাপূর্ণ নগর ও গ্রাম সম্প্রদায় গড়ে তুলতে যুবদের ভূমিকা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিরোস্লাভ লাইচ্যাক এসভায় বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটিতে উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের সভাপতি মেরী চ্যাটারডোভ। অনুষ্ঠানটির মডারেটর ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের যুব বিষয়ক বিশেষদূত মিজ জয়ত্মা উইকরামানায়েক। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি দুই দিন ব্যাপী এই আন্তর্জাতিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩৪ জন মন্ত্রী, ৫২ জন সরকারি প্রতিনিধি এবং ৭০০ জন যুব সংগঠনের প্রতিনিধি এ ফোরামে অংশগ্রহণ করছেন।
দুপুরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন সিকদার এম.পি নেপালের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এসময় দু’দেশের যুব সমাজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বিশেষ করে ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে যুবদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা হয়। এছাড়াও দু’দেশের মধ্যে ইয়থ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সম্পর্কিত একটি MOU এর সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হয়।বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিবের যুব বিষয়ক বিশেষদূত মিজ জয়ত্মা উইকরামানায়েক এর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন সিকদার এম.পি। সাক্ষাতকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আসাদুল ইসলাম ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে জাতিসংঘের ভূমিকা আরও কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সাক্ষাতকালে এ বিষয়ে আলোচনা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। মিজ জয়ত্মা উইকরামানায়েক বাংলাদেশের যুব উন্নয়নের অভাবনীয় অগ্রগতির ভূয়সী প্রসংশা করেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বৈঠক শেষে মিজ জয়ত্মা উইকরামানায়েক-কে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানালে মিজ জয়ত্মা তা আগ্রহে গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, মিজ জয়ত্মা উইকরামানায়েক এর আমন্ত্রণে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন সিকদার এম.পি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন আয়োজিত এই ৭ম ইকোসক ইয়ুথ ফোরামে যোগদান উপলক্ষে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV