জুলাইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গেছে ১১২ কোটি ডলার : রেমিট্যান্স বাড়ছে, বাড়ছে না প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা
নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেই দেশে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম মাস, জুলাইয়ে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স গেছে ১১২ কোটি ডলার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে এটাই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। ২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ১০১ কোটি ডলার। পৃথিবীর দেশে দেশে অর্থনৈতিক মন্দা এবং নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে কার্পণ্য করছেন না। অথচ এই রেমিট্যান্স রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছলেও দেশের রাজনীতিতে বা অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে এমনকি দেশে বেড়াতে এসেও প্রবাসীদের যথাযথ মর্যদা দেয়া হচ্ছে না। দেশে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা যারা পাঠান তাদের সিআইপি মর্যাদা দেয়ার একটা উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সেটাও নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে না। বিদেশ-বিভূঁইয়ে যারা নানা হয়রানি ও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাদের সেসব সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ দূতাবাসও নির্বিকার। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা ও রফতানী কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি ক্রমেই রেমিট্যান্সনির্ভর হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠী ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার অনুদান ও ঋণ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্সের ওপর দেশের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এখন প্রতি বছর বিদেশি ঋণ বা অনুদান হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এখন ঋণ পরিশোধ করতে ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বছরের প্রথম মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সুখবর। ২০১১-১২ আর্থিক বছরে দেশের মোট রেমিট্যান্স থেকে আয় ছিল ১২৮৪ কোটি ডলার, টাকার অংকে প্রায় ৯০ হাজার কোটি। এ রেমিট্যান্স বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উত্স প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। দেশওয়ারি হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসছে সৌদি প্রবাসীদের কাছ থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ পাঠাচ্ছেন ইউনাইটেড আরব আমিরাত প্রবাসীরা। আর এদিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে পাঠিয়েছন ৩৬৮ কোটি ডলার, ইউনাইটেড আরব আমিরাতের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৪০ কোটি ডলার আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা পাঠিয়েছেন ১৫০ কোটি ডলার। অবশ্য এর আগের অর্থবছর ২০১০-১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেকর্ড পরিমাণ ১৮৫ কোটি ডলার দেশে পাঠান। শুধু ২০১১-১২ অর্থবছরের জুন মাসে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে পাঠান ৩০ কোটি ১৪ লাখ ডলার, ইউনাইটেড আরব আমিরাত প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২০ কোটি ৩০ লাখ ডলার আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা পাঠিয়েছেন ১৩ কোটি ডলার। ওই বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে পাঠান ১২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। অবশ্য এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দার ফলে এ দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের আয় কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স কিছুটা কম ছিল। এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ কনট্রিবিউশন সত্ত্বেও তাদের অভিযোগ, দেশের সরকার প্রবাসীদের মর্যাদা রক্ষায় তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীর মর্যাদা প্রদানে প্রকৃত অর্থেই যদি আরও ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তবে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও উত্সাহ বোধ করতেন। আলাপকালে তারা আরও বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও সরকার আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সেই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা চালালে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তারা অভিমত প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে মিডিয়ারও ভূমিকা রয়েছে। তারা বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক প্রবাসীর মনে নানা রকম বিভ্রান্তি রয়েছে। সেগুলো দূর করার জন্য সরকারেরই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হলে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সোনালি এক্সচেঞ্জের সিইও আতাউর রহমান বলেন, দেশে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রতি বছরই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধিও যথেষ্ট। তিনি বলেন, সোনালি এক্সচেঞ্জ নিউইয়র্কে ৬টি শাখা এবং নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে আরও তিনটি শাখার মাধ্যমে প্রবাসীদের অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে আতাউর রহমান বলেন, দেশে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীদের আরও উত্সাহিত করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে একদিকে যেমন দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু কিছু প্রবাসীর যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে তা দূর করার ক্ষেত্রে প্রচার-প্রচারণা চালানো দরকার, অন্যদিকে দেশে প্রবাসীদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণসহ নানা ধরনের ইনসেনটিভ প্রদান করতে হবে। যেমন প্রতি বছর অধিক সংখ্যক সিআইপি ঘোষণা, বিশেষ আয়কর সুবিধা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই রেমিট্যান্স আরও বৃদ্ধি পাবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে আরেকটি প্রধান মানি রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠান প্লাসিড এক্সপ্রেসের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর একেএম ফজলুল হক বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে প্লাসিড যুক্তরাষ্ট্রে কাজ শুরু করেছে। অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে তারা কাজ করে আসছেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্সের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগের মাসগুলোর তুলনায় চলতি মাসে তারা প্রায় দ্বিগুণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পাঠানো রেমিট্যান্স আশা করা যায় এ মাসেও রেকর্ড পরিমাণ হতে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সের পরিমাণ এ মাসে আরও বাড়বে।আমার দেশ
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity