নিউইয়র্ক সিটি মেয়র মামদানির প্রথম একশো দিন: প্রতিশ্রুতি বেশিরভাগই হয় পিছিয়ে গেছে, নয়তো কীভাবে ও কখন বাস্তবায়ন হবে সেটা অস্পষ্ট!
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। প্রতিশ্রুতি ছিল বড় বড়। বিতর্কিত গ্যাং ডেটাবেজ বাতিল করবেন। সোয়াট-স্টাইলের আক্রমণাত্মক পুলিশ ইউনিট ভেঙে দেবেন। তথাকথিত “কোয়ালিটি অব লাইফ” ইউনিট — যেগুলো সমালোচকদের মতে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিক নিউইয়র্কারদের লক্ষ্য করে কাজ করত — সেগুলো তুলে দেবেন। এবং খারাপ পুলিশকে শাস্তি দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা পুলিশ কমিশনারের হাত থেকে সরিয়ে একটি বেসামরিক তদারকি সংস্থার হাতে দেবেন।
একশো দিন পরে এসে দেখা যাচ্ছে — এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশিরভাগই হয় পিছিয়ে গেছে, নয়তো কীভাবে ও কখন বাস্তবায়ন হবে সেটা এখনও অস্পষ্ট।
জোহরান মামদানি যা করেছেন সেটাও উল্লেখযোগ্য। প্রথমবারের মতো একজন ডেপুটি মেয়র ফর কমিউনিটি সেফটি নিয়োগ দিয়েছেন — যা তার প্রতিশ্রুত নতুন বিভাগের দিকে প্রথম পদক্ষেপ, যে বিভাগটি মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের ৯১১ কলে পুলিশের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ পাঠাবে। এনওয়াইপিডিকে “ক্রিটিকাল ইন্সিডেন্টের” ৩০ দিনের মধ্যে বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করতে বাধ্য করার নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এবং ই-বাইক ও সাইক্লিস্টদের বিরুদ্ধে আগের প্রশাসনের আমলের ক্রিমিনাল সমন দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
অপরাধের পরিসংখ্যানও আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক। মামদানির প্রথম একশো দিনে খুনের ঘটনা গতবারের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে, গুলির ঘটনা কমেছে ২০ শতাংশ। ধর্ষণ ছাড়া বাকি সব প্রধান অপরাধই কমেছে — ধর্ষণ ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।
সিটি হলের মুখপাত্র স্যাম র্যাসকিন দাবি করেছেন, এই প্রশাসন “জরুরি গতিতে কাজ করছে” এবং সবে শুরু হয়েছে। কিন্তু তিনটি পক্ষ থেকে তিন রকম অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে — এবং তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন। তারা মামদানির সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করে, কিন্তু গতিতে হতাশ। সংস্থার সহকারী নীতি পরিচালক মাইকেল সিসিটজকি বললেন, এনওয়াইপিডির “প্রাক-বিদ্যমান সমস্যাগুলো” মোকাবেলা করা মেয়রের জন্য “হার্কিউলিয়ান টাস্ক” — অর্থাৎ হারকিউলিসের মতো শক্তির কাজ।
দ্বিতীয়ত, পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অর্থাৎ পুলিশ ইউনিয়ন। তারা মামদানির বড় প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়াকে স্বস্তিদায়ক মনে করছে, কিন্তু সন্দেহ কাটছে না। পিবিএ প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেন্ড্রি বললেন, পুলিশ অফিসারদের মধ্যে এই ধারণা এখনও আছে যে এই প্রশাসন “তাদের পিঠ আগলে দাঁড়াবে না।” তবে তিনি স্বীকার করলেন — সময় আছে, মেয়র সেই ধারণা বদলানোর সুযোগ এখনও নষ্ট করেননি।
তৃতীয়ত, ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা — ডিএসএ। এরাই মামদানিকে সিটি হলে পাঠিয়েছে। কিন্তু পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তারা ক্ষুব্ধ। পাবলিক ডিফেন্ডাররা বলছেন, টিশ অনেক ফৌজদারি বিচার সংস্কারের বিরুদ্ধে ছিলেন। জন জে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ডিএসএ সদস্য সুজান কাং বললেন, কিছু ডিএসএ সদস্য অধৈর্য হয়ে পড়লেও মামদানির পরিমিত পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ভালো ফল দেবে। তার ব্যাখ্যা — “ডিএসএ প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে কাজ করে। একজন মেয়রকে প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে কাজ করতে হয়।”
মামদানির এনওয়াইপিডির সাথে সম্পর্ক জটিল এবং পরিবর্তনশীল। ২০২০ সালে মিনেয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর তিনি বারবার “পুলিশকে তহবিল কাটো” স্লোগান দিয়েছিলেন — পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। পুলিশ কমিশনার হিসেবে টিশকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তও সেই পরিবর্তনেরই একটি অধ্যায়।
গ্যাং ডেটাবেজ প্রশ্নে মেয়র ও কমিশনারের মতের স্পষ্ট ফারাক আছে। টিশ বারবার এই ডেটাবেজকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা হাতিয়ার হিসেবে সমর্থন করেছেন। মামদানির অবস্থান ভিন্ন। তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেছেন, সংস্কার এগিয়ে নিতে প্রয়োজন হলে তিনি পুলিশ কমিশনারকে ওভাররুল করবেন — কারণ শেষ পর্যন্ত প্রতিটি সিটি এজেন্সির দায়িত্ব মেয়রেরই।
একশো দিন একটা শাসনামলের মাপকাঠি নয়, তবে সংকেত বটে। মামদানির ক্ষেত্রে সংকেতটি হলো — বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় একজন সংস্কারপন্থী নেতা ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে বুঝতে পারছেন বাস্তবতা কতটা জটিল। বড় প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও অপূর্ণ, কিন্তু ছোট পদক্ষেপগুলো চলছে। অপরাধ কমছে, যদিও তার কারণ কি নতুন নীতি নাকি অন্য কিছু — সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে।
পুলিশ ইউনিয়ন সন্দিহান। সংস্কারপন্থীরা অধৈর্য। আর মামদানি নিজে বলছেন — সবে শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি অপেক্ষা করছে।
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
- Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
- নিউইয়র্কে ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের বৈঠক: এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান
- শিশু ও নারীর কল্যাণে বিনিয়োগ সুরক্ষায় ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান ড. তিতুমীরের
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ইউএসএ’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণ সভা