সমুদ্রতল থেকে উঠবে টাইটানিক!
ডেস্ক রিপোর্ট:

রহস্য রোমাঞ্চ, মৃত্যু, বিয়োগান্ত নাটক আর ট্র্যাজেডি। গত শতকের গোড়ায় আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিকের সঙ্গে এসবই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অতল জলের তলা থেকে সেই জাহাজকে টেনে তুলতে চাইছে বিজ্ঞানীরা।
১০০ বছর আগের কথা। এই গ্রহের সবচেয়ে মূল্যবান প্রমোদতরী সমুদ্রে ভাসল। শয়ে শয়ে মানুষ তাতে উঠে পড়লেন। বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রী সংগ্রহ করে নিয়ে আটলান্টিকের অগাধ জলে একদিন গভীর রাতে সেই দৈত্যাকার জাহাজ হিমশৈলের ধাক্কা খেল। তারপর তলিয়ে গেল অকূল সমুদ্রে। গত শতকেরই নয়ের দশকে জেমস ক্যামেরনের ব্লকবাস্টার টাইটানিক ছায়াছবির কল্যাণে গোটা বিশ্বের কারোরই আর এসব তথ্য জানতে বাকি নেই। কিন্তু এই যে রোমান্টিক জাহাজখানা, যে কিনা সমুদ্রের নিচেই রয়ে গেছে, তাকে এবার তুলে আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সাগরতলে থাকা এই জাহাজকে প্রথম যিনি খুঁজে পান, সেই নামজাদা ডুবুরি রবার্ট ব্যালাড বলছেন, গুপ্তধনের জন্য নয়। টাইটানিককে স্রেফ সুরক্ষিতভাবে রক্ষা করা হোক।
টাইটানিকের সুরক্ষাই তো শুধু নয়, এর সঙ্গে বেশ ভালো করেই জড়িয়ে গেল আধুনিক বিজ্ঞানের দায়-দায়িত্বও। সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাওয়া এরকম কত ঐশ্বর্য আর কত ইতিহাস যে রয়ে গেছে, তার ইয়ত্তা নেই। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবজাতি এক দেশ থেকে অন্যদেশে সব সময়ই গেছে সমুদ্রপথে। রতনভরা কত বাণিজ্যতরী, কতশত জলদস্যুদের তরণী কিংবা সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়া কত অসহায় নাবিকদের জাহাজ এভাবেই ডুবে গেছে সমুদ্রে। তাদের অনেকেই আজও সেই অবিকৃত চেহারায় শুয়ে রয়েছে গভীর সমুদ্রে। শুধু তো সেই জাহাজগুলোই নয়, সমুদ্রের নিচে, নীল জলের বাতাবরণে থমকে রয়েছে সময়, থমকে রয়েছে ইতিহাস। আটকে রয়েছে মহাকালের স্পর্শ। যার দিকে খোলা চোখে তাকালে অবশ্যই সেই সময়টাকে ধরা যাবে।
টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে বের করার জন্য বিস্তর চেষ্টা-চরিত্র হয়েছে। কারণ, যেহেতু এই জাহাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক গল্প, রহস্য আর অনেক মর্মন্তুদ কাহিনী, সুতরাং এই জাহাজটি সমুদ্রের নিচে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা জানতে আগ্রহ ছিল গোটা বিশ্বের।
সময়টা ১৯৮৫। নামজাদা সমুদ্রবিদ ব্যালাডের আগে যে বা যারা টাইটানিকের খোঁজ করেছিলেন, তারা সবাই গভীর জলে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু সেখানে তো নেই টাইটানিক। যেহেতু তার আকৃতিটা বিশাল, তাই সবারই ধারণা হয়েছিল, টাইটানিক নিশ্চয়ই অনেক গভীর জলেই ডুবেছে। কিন্তু আসল ঘটনা হয়েছিল অন্য। সমুদ্রের মাত্র ৩৮০০ মিটার নিচে ছিল টাইটানিক। আর ব্যালাডই প্রথম জীবিত মানুষ যিনি টাইটানিকের সেই ৭৩ বছরের অহল্যার অপেক্ষার শেষ করেন। সমুদ্রতলের নীলাভ আলোয় প্রথমবার সেই বিখ্যাত জাহাজকে দেখে এসে তার খবর তিনি জানান গোটা বিশ্বকে।
এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল বললে ভুল বলা হবে না। সম্প্রতি রবার্ট ব্যালাডের একটা সাক্ষাত্কার নিয়েছে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ। যেখানে ব্যালাড জানিয়েছেন, টাইটানিককে প্রথমবার দেখার পরে তার অভিজ্ঞতা আর সেই মানসিকতার পরিবর্তনের কথা। ব্যাপারটা হয়েছিল এরকম, ব্যালাড বলছেন, আসলে টাইটানিককে প্রথম খুঁজে বের করে কোনো মানুষ নয়। একটি ডুবুরি রোবোট। তার কিছুদিন পরে রোবোটের দেয়া তথ্য অনুসরণ করে ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিনে চড়ে তিনি স্বয়ং যান সমুদ্রের নিচে। টাইটানিকের ঠিকানায় পৌঁছে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে তার কষ্ট হয়েছিল। স্বভাবতই এ এক মস্তবড় আবিষ্কার।
সুতরাং এরপর থেকে বদলে যায় আবিষ্কর্তা থেকে অন্য সবার মানসিকতা। তাই তাদের দাবি, টাইটানিককে যদি অতল জলের তলা থেকে তোলাও হয়, তবে সে কাজটা হবে শ্রদ্ধার সঙ্গে। লুটপাট করতে নয়। সে কাজ হবে শ্রদ্ধা জানাতে। বিজ্ঞানের অবদান অনেক সময়ে মানুষের আবেগের সামনে এসে থমকে যায়, তার প্রমাণ আবারও মিলল এই টাইটানিক কাণ্ডে। যেমন, টাইটানিকের আবিষ্কর্তা রবার্ট ব্যালাড বলছেন, আমার মত নেয়া হলে বলব, থাক ওই জাহাজ যেখানে আছে, সেখানেই। মাটির ওপরে তুলে আনলে রহস্যটাও তো সেইসঙ্গে হারিয়ে যাবে। আর কে না জানে, রহস্যই হল যাবতীয় রোমান্সের আসল চাবিকাঠি। তাই, বিজ্ঞান বলছে বলুক, রোমান্সটা যেন হারিয়ে না যায়। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
১০০ বছর আগের কথা। এই গ্রহের সবচেয়ে মূল্যবান প্রমোদতরী সমুদ্রে ভাসল। শয়ে শয়ে মানুষ তাতে উঠে পড়লেন। বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রী সংগ্রহ করে নিয়ে আটলান্টিকের অগাধ জলে একদিন গভীর রাতে সেই দৈত্যাকার জাহাজ হিমশৈলের ধাক্কা খেল। তারপর তলিয়ে গেল অকূল সমুদ্রে। গত শতকেরই নয়ের দশকে জেমস ক্যামেরনের ব্লকবাস্টার টাইটানিক ছায়াছবির কল্যাণে গোটা বিশ্বের কারোরই আর এসব তথ্য জানতে বাকি নেই। কিন্তু এই যে রোমান্টিক জাহাজখানা, যে কিনা সমুদ্রের নিচেই রয়ে গেছে, তাকে এবার তুলে আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সাগরতলে থাকা এই জাহাজকে প্রথম যিনি খুঁজে পান, সেই নামজাদা ডুবুরি রবার্ট ব্যালাড বলছেন, গুপ্তধনের জন্য নয়। টাইটানিককে স্রেফ সুরক্ষিতভাবে রক্ষা করা হোক।
টাইটানিকের সুরক্ষাই তো শুধু নয়, এর সঙ্গে বেশ ভালো করেই জড়িয়ে গেল আধুনিক বিজ্ঞানের দায়-দায়িত্বও। সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাওয়া এরকম কত ঐশ্বর্য আর কত ইতিহাস যে রয়ে গেছে, তার ইয়ত্তা নেই। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবজাতি এক দেশ থেকে অন্যদেশে সব সময়ই গেছে সমুদ্রপথে। রতনভরা কত বাণিজ্যতরী, কতশত জলদস্যুদের তরণী কিংবা সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়া কত অসহায় নাবিকদের জাহাজ এভাবেই ডুবে গেছে সমুদ্রে। তাদের অনেকেই আজও সেই অবিকৃত চেহারায় শুয়ে রয়েছে গভীর সমুদ্রে। শুধু তো সেই জাহাজগুলোই নয়, সমুদ্রের নিচে, নীল জলের বাতাবরণে থমকে রয়েছে সময়, থমকে রয়েছে ইতিহাস। আটকে রয়েছে মহাকালের স্পর্শ। যার দিকে খোলা চোখে তাকালে অবশ্যই সেই সময়টাকে ধরা যাবে।
টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে বের করার জন্য বিস্তর চেষ্টা-চরিত্র হয়েছে। কারণ, যেহেতু এই জাহাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক গল্প, রহস্য আর অনেক মর্মন্তুদ কাহিনী, সুতরাং এই জাহাজটি সমুদ্রের নিচে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা জানতে আগ্রহ ছিল গোটা বিশ্বের।
সময়টা ১৯৮৫। নামজাদা সমুদ্রবিদ ব্যালাডের আগে যে বা যারা টাইটানিকের খোঁজ করেছিলেন, তারা সবাই গভীর জলে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু সেখানে তো নেই টাইটানিক। যেহেতু তার আকৃতিটা বিশাল, তাই সবারই ধারণা হয়েছিল, টাইটানিক নিশ্চয়ই অনেক গভীর জলেই ডুবেছে। কিন্তু আসল ঘটনা হয়েছিল অন্য। সমুদ্রের মাত্র ৩৮০০ মিটার নিচে ছিল টাইটানিক। আর ব্যালাডই প্রথম জীবিত মানুষ যিনি টাইটানিকের সেই ৭৩ বছরের অহল্যার অপেক্ষার শেষ করেন। সমুদ্রতলের নীলাভ আলোয় প্রথমবার সেই বিখ্যাত জাহাজকে দেখে এসে তার খবর তিনি জানান গোটা বিশ্বকে।
এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল বললে ভুল বলা হবে না। সম্প্রতি রবার্ট ব্যালাডের একটা সাক্ষাত্কার নিয়েছে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ। যেখানে ব্যালাড জানিয়েছেন, টাইটানিককে প্রথমবার দেখার পরে তার অভিজ্ঞতা আর সেই মানসিকতার পরিবর্তনের কথা। ব্যাপারটা হয়েছিল এরকম, ব্যালাড বলছেন, আসলে টাইটানিককে প্রথম খুঁজে বের করে কোনো মানুষ নয়। একটি ডুবুরি রোবোট। তার কিছুদিন পরে রোবোটের দেয়া তথ্য অনুসরণ করে ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিনে চড়ে তিনি স্বয়ং যান সমুদ্রের নিচে। টাইটানিকের ঠিকানায় পৌঁছে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে তার কষ্ট হয়েছিল। স্বভাবতই এ এক মস্তবড় আবিষ্কার।
সুতরাং এরপর থেকে বদলে যায় আবিষ্কর্তা থেকে অন্য সবার মানসিকতা। তাই তাদের দাবি, টাইটানিককে যদি অতল জলের তলা থেকে তোলাও হয়, তবে সে কাজটা হবে শ্রদ্ধার সঙ্গে। লুটপাট করতে নয়। সে কাজ হবে শ্রদ্ধা জানাতে। বিজ্ঞানের অবদান অনেক সময়ে মানুষের আবেগের সামনে এসে থমকে যায়, তার প্রমাণ আবারও মিলল এই টাইটানিক কাণ্ডে। যেমন, টাইটানিকের আবিষ্কর্তা রবার্ট ব্যালাড বলছেন, আমার মত নেয়া হলে বলব, থাক ওই জাহাজ যেখানে আছে, সেখানেই। মাটির ওপরে তুলে আনলে রহস্যটাও তো সেইসঙ্গে হারিয়ে যাবে। আর কে না জানে, রহস্যই হল যাবতীয় রোমান্সের আসল চাবিকাঠি। তাই, বিজ্ঞান বলছে বলুক, রোমান্সটা যেন হারিয়ে না যায়। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity