বরেণ্য সাংবাদিক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব ছিলেন তৃণমূল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ: কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : বরেণ্য সাংবাদিক অধ্যাপক আব্দুল ওহাবকে তৃণমূল সাংবাদিকতার একজন নিবেদিতপ্রাণ পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সাংবাদিকতা, সম্পাদনা, সংগঠকসত্তা ও জনসম্পৃক্ত কর্মজীবনের মূল্যায়ন করেছেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও কর্মের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রামাণ্য আর্কাইভ ও গবেষণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অধ্যাপক আব্দুল ওহাব স্মরণে ২২ আগস্ট আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে দেলোয়ার জাহিদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতিত্বও করেন।
দেলোয়ার জাহিদ বলেন, “অধ্যাপক আব্দুল ওহাব শুধু একজন শিক্ষক, সাংবাদিক বা সম্পাদক ছিলেন না; তিনি স্থানীয় মানুষের কথা বলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে সাংবাদিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।” তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় দৈনিক রূপসী বাংলা কুমিল্লার সমাজ, সংস্কৃতি, জনজীবন এবং স্থানীয় মানুষের নানা সমস্যা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিল।
তিনি বলেন, অতীতে সংবাদ সংগ্রহ, লেখা, সম্পাদনা, মুদ্রণ এবং পাঠকের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেওয়া ছিল অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ। সীমিত আর্থিক ও সাংগঠনিক সুযোগের মধ্যেও অধ্যাপক আব্দুল ওহাব সাংবাদিকতার প্রতি যে নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয়।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক এই সভাপতি বলেন, একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার শুধু তাঁর লেখা বা প্রকাশিত সংবাদ নয়; তিনি যে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং যাঁদের হাতে সাংবাদিকতার মশাল তুলে দিয়েছেন, তাঁরাই তাঁর প্রকৃত উত্তরাধিকার।
বর্তমান সাংবাদিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দেলোয়ার জাহিদ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন সাংবাদিকতার ধরন বদলে দিয়েছে, কিন্তু সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ বদলায়নি। **সত্য অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, জনস্বার্থ, নৈতিকতা, মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ক্ষমতার কাছে প্রশ্ন করার সাহস—এসবই সাংবাদিকতার চিরন্তন দায়িত্ব।** অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের কর্মজীবন এসব মূল্যবোধের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের কথা বলতে হবে, অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, জনসেবার দায়িত্ব হিসেবেও দেখতে হবে।
স্মৃতি সংরক্ষণের আহ্বান
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেলোয়ার জাহিদ বলেন, প্রবীণ সাংবাদিকদের স্মৃতি, পুরোনো কার্যবিবরণী, সদস্য তালিকা, ছবি, সংবাদপত্র, স্মারক, নির্বাচনী দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ করা জরুরি।
অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্য ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সহকর্মী ও সমসাময়িক সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, দৈনিক রূপসী বাংলার পুরোনো সংখ্যা সংগ্রহ এবং তাঁর নির্বাচিত লেখা ও সম্পাদকীয় নিয়ে সংকলন প্রকাশ করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, স্মরণসভাকে শুধু আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা ও ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগে পরিণত করতে হবে। স্মৃতি যদি নথিতে রূপান্তরিত না হয়, একসময় সেই স্মৃতিও হারিয়ে যায়।”**
অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের জীবন ও কর্ম এবং কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিকতার ইতিহাস নিয়ে একটি দলিলভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রয়াত সাংবাদিকদের অবদান সংরক্ষণের আহ্বান
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের পুনর্গঠনের আগের সময়ের প্রয়াত সাংবাদিক রজত নন্দী, আফতাবুর রহমান ও গোলাম মোস্তফা চৌধুরীসহ প্রবীণ সাংবাদিকদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তিনি অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, গণমাধ্যমের সীমাবদ্ধতার সেই সময়ে দৈনিক রূপসী বাংলা শুধু একটি সংবাদপত্র ছিল না; এটি ছিল একটি সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ।**
তিনি স্মরণসভাটিকে ভবিষ্যৎ গবেষণা ও ইতিহাস সংরক্ষণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বার্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার স্মৃতিচারণ
সম্মানিত অতিথি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) ড. কামরুল হাসান অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের সঙ্গে বার্ডের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন।
তিনি অধ্যাপক ওহাবের মূল্যবান ও গঠনমূলক পরামর্শের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় সংবাদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কথা, একটি গ্রামের সমস্যা, একটি এলাকার উন্নয়ন কিংবা কোনো অবহেলিত মানুষের ন্যায্য দাবি। অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এসব বিষয়ে ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সহায়ক।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ও নিউজ২৪ইউএসএ.কম’র সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম রূপসী বাংলায় তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতি তুলে ধরেন।
দৈনিক রূপসী বাংলার সম্পাদক মুহাম্মদ আসিফ তরুণাভ বলেন, অধ্যাপক আব্দুল ওহাব ছিলেন বহুগুণে গুণান্বিত একজন প্রজ্ঞাবান ও মেধাবী মানুষ। তিনি দলীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে, বিশেষ করে নতুন সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশে অধ্যাপক ওহাব সময় ও উৎসাহ দিতেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা টিম ছিল উদ্যোগী, উৎসাহী ও কর্মচঞ্চল। তিনি সহকর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো আপন করে নিয়েছিলেন।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি সাদিক মামুন স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে দৈনিক রূপসী বাংলায় তাঁর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দৈনিক ভোরের কাগজের কুমিল্লা প্রতিনিধি ম. ফিরোজ মিয়া অধ্যাপক ওহাবের সঙ্গে তাঁর কর্মসম্পর্কের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লার সাবেক পরিচালক ও নারী নেত্রী নাসিমা আক্তার গ্রামীণ সাংবাদিকতা ও নারী উন্নয়নে অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের পরামর্শ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।
প্রয়াত সাংবাদিকদের জন্য তথ্যভান্ডারের প্রস্তাব
অনুষ্ঠানের সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে প্রয়াত সাংবাদিকদের, বিশেষ করে প্রবাসে অবস্থানকারী ও প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের জন্য একটি তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
তিনি মরহুম সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, আফতাবুর রহমান, মাহমুদুল্লাহ, মমতাজ উদ্দিন, গোলাম মাহফুজ, নওশাদ কবির, বদিউল আমিন দুলাল, ম. সাদেক এবং সম্প্রতি প্রয়াত আমিনুল ইসলাম ও রমিজ খানসহ প্রয়াত সাংবাদিকদের অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, কুমিল্লার সাংবাদিকতার ইতিহাসে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের জীবন ও কর্ম নথিবদ্ধ করা শুধু তাঁদের প্রতি সম্মান নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাগুড়াস্থ পাণ্ড্রো ইউনিভার্সিটির সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আনোয়ার জাহিদ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শিরিন ফেরদৌসী, ইঞ্জিনিয়ার কোরা হাসান ইভানা সহ সাংবাদিক, শিক্ষক, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের সাংবাদিকতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক অবদানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর কর্ম ও আদর্শ কুমিল্লার সাংবাদিকতার ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ বলেন, অধ্যাপক আব্দুল ওহাবকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন প্রয়াত সাংবাদিককে স্মরণ করা নয়; মানুষের পক্ষে সাংবাদিকতার আদর্শকে স্মরণ করা।
তিনি সত্য, জনস্বার্থ এবং তৃণমূল মানুষের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
শেষে অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সাংবাদিকতার আদর্শ অনুসরণ, প্রয়াত সাংবাদিকদের অবদান সংরক্ষণ এবং কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
- Federal Court Strikes down Trump’s Visa Ban on 75 Countries
- বরেণ্য সাংবাদিক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব ছিলেন তৃণমূল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ: কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ
- নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক রাজু নিহত
- নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস এর কমিশনারের সঙ্গে এএবিইএ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘সেলিম-আলী’ পরিষদকে সমর্থন জানালো গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের দোয়া মাহফিল ও জায়নামাজ বিতরণ
- নিউইয়র্কে হৃদয়ে বাংলাদেশ’র ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আটলান্টিক সিটিতে দোয়া মাহফিল