নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে
Screenshot
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ইউনিয়ন নেতার বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কমিউনিকেশনস ওয়ার্কার্স অব আমেরিকা (CWA) লোকাল ১১৮২-এর সাধারণ সভা চলাকালে হামলার অভিযোগে ইউনিয়নের সেক্রেটারি/ট্রেজারার সাঈদ ইসলামকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযোগকারী নেতা খান শওকত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সঙ্গে সাঈদ ইসলামকে নিউইয়র্ক সিটি ট্রাফিক বিভাগ থেকে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৫ অক্টোবর, রোববার ম্যানহাটনের নরম্যান থমাস হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে ইউনিয়নের সাধারণ সভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন, নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটল। তবে হামলার অভিযোগ এবং আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য বা তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
খান শওকতের অভিযোগ অনুযায়ী, সভা চলাকালে ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার একপর্যায়ে সাঈদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তিনি কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, সাঈদ ইসলাম তাঁকে একাধিকবার থাপ্পড় মারেন। এতে তিনি আঘাত পান এবং তাঁর মোবাইল ফোন মাটিতে পড়ে যায়।
ঘটনাস্থলে ইউনিয়নের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে সাঈদ ইসলামকে সভাস্থল থেকে নিয়ে যায়। তাঁকে ম্যানহাটনের ১৪তম পুলিশ প্রিসিঙ্কটে নেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশপত্র দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, খান শওকত ম্যানহাটনের বেলভিউ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং মামলার নির্দিষ্ট ধারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে সেক্রেটারি/ট্রেজারার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার পর খান শওকত ও বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাঈদ ইসলাম এ পদে দুই মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। খান শওকতের দাবি, ইউনিয়নের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, হিসাবের নথি এবং নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।
খান শওকত অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়নের প্রায় চার মিলিয়ন ডলারের হিসাব, কেনাকাটার রসিদ এবং আর্থিক নথি নিয়ে প্রশ্নের যথাযথ জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, ফরেনসিক অডিটের নামে পরিচালিত পর্যালোচনায় কয়েকজন কর্মকর্তার কেনাকাটার রসিদ যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং পূর্ণাঙ্গ অডিটের পরিবর্তে আংশিক অডিট করা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা অডিটসংক্রান্ত নথি এই প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের অফিসিয়াল পোলো শার্ট তৈরি ও বিক্রির প্রক্রিয়ায় যথাযথ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। খান শওকতের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে সদস্যদের এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অজ্ঞাতে কেনাকাটার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্তের জন্য নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং CWA-এর জাতীয় কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খান শওকতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০১ সাল থেকে নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। সে সময় বিভাগটিতে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক আট থেকে দশজন। চাকরির সুযোগ সম্পর্কে তথ্য ও সেমিনারের মাধ্যমে বহু বাংলাদেশিকে এ বিভাগে যোগ দিতে সহায়তা করেছেন বলে তাঁর দাবি। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিয়নের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন।
খান শওকতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন নির্বাচনে তিনি সাঈদ ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, ইউনিয়নের হিসাব-নিকাশ নিয়ে সদস্যদের প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই রোববারের সংঘাত ঘটে।
খান শওকত বলেছেন, হামলার অভিযোগের পাশাপাশি ইউনিয়নের কথিত আর্থিক অনিয়মের বিষয়েও তিনি সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ চালিয়ে যাবেন। নির্বাচিত হলে আর্থিক নথি, কেনাকাটার প্রক্রিয়া এবং অডিটসংক্রান্ত বিষয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে সাঈদ ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
CWA লোকাল ১১৮২-এর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতৃত্বের বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। একদিকে হামলার অভিযোগ ও পুলিশি পদক্ষেপ, অন্যদিকে ইউনিয়নের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক বিভাগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তাঁদের কর্মক্ষেত্রের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় ইউনিয়নের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় নেতৃত্বের বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সংগঠনের কার্যক্রম ও সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক নথির স্বচ্ছতা এবং সংগঠনের বিধিবিধান অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি সদস্যদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আসন্ন নির্বাচনের আগে হামলার অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর কী নিষ্পত্তি হয়, এখন সেদিকেই নজর ইউনিয়নের সদস্য ও বাংলাদেশি কমিউনিটির।
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights
- নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে
- দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ
- নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান