কাঠগড়ায় সাঈদী

ইউএসএনিউজএনওয়াই ডেস্ক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গতকাল মঙ্গলবার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে যথেষ্ট যুক্তি না থাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানা জারি করেনি। প্রসিকিউশন লিখিত আবেদনে আরও কিছু সংযুক্ত করতে সময় চাইলে ট্রাইব্যুনাল আজ বুধবার সাঈদীর উপস্থিতিতে আবার শুনানির আদেশ দিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় জামায়াত নেতা সাঈদীকে আজ বুধবার আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে না। গতকাল রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারা কর্মকর্তা গত রাতে সমকালকে বলেন, দুপুরের পর সাঈদী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে তাকে বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।
গতকাল ট্রাইব্যুনাল একই সঙ্গে কারাবন্দি চার জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, ডিটেনশন প্রত্যাহার, কারামুক্তি ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্থগিত রাখাসংক্রান্ত পৃথক চারটি আবেদন শুনানি শেষে খারিজ করে দেন। এ আদেশের পর জামায়াতের চার শীর্ষ নেতাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। অপর দুটি আবেদন যথাযথ মর্মে উপস্থাপন হয়নি বলে খারিজ করা হয়। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জ এবং পল্লবী থানায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলা দুটির নথিপত্র ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে ফেরত পাঠানোর আবেদনটিও খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল।
গঠিত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে গতকাল পৃথক আটটি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রিজন ভ্যানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুরনো হাইকোর্ট ভবনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। প্রথমে তাকে ট্রাইব্যুনালের নিচতলায় হাজতখানায় রাখা হয়। এ সময় তার পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি ও পাজামা। হাতে ছিল মাম পানির বোতল। সকাল ৯টা ২৮ মিনিটে তাকে দোতলায় এজলাস কক্ষে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ১১টা ২৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখাতে গত ১ আগস্ট আবেদন করেন ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর। একাত্তরে পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামে পাঁচ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা এবং উমেদপুর গ্রামে হিন্দুপাড়ায় হত্যা, লুটপাট, বাড়িতে অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে যুবতীদের তুলে দেওয়ার অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাঈদীকে গ্রেফতারের আদেশ দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হয়। গত ৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সাঈদী অসুস্থ থাকায় সে সময় তাকে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এরপর তাকে ২৪ আগস্ট হাজির করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর হাজির করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
মঙ্গলবার আবেদনের ওপর শুনানিতে অংশ নিয়ে প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী আদালতকে জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হত্যা, লুণ্ঠন এবং গণধর্ষণে অংশ নেন। এ ব্যাপারে পিরোজপুরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেফতার দেখানো হোক।
গতকাল জামায়াতের শীর্ষ চার নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার পক্ষে করা ট্রাইব্যুনালের আদেশের অনুলিপি সরবরাহ ও তাদের মুক্তি দেওয়া এবং ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তরের বিরুদ্ধে দায়ের করাসহ পৃথক চারটি আবেদন শুনানি শেষে খারিজ করে দেন আদালত।
শুনানির শুরুতেই জামায়াত নেতাদের পক্ষে ব্যারিস্টার মাসুদ আহমেদ সাঈদ বলেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি না থাকায় আমাদের অসুবিধা হচ্ছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ওকালতনামা দিয়েছেন আবার পাওয়ার অব অ্যাটর্নির প্রয়োজন আছে কি? এ পর্যায়ে আদালত আবেদনটি খারিজ করেন।
অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে গত ২৬ জুলাই ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের আদেশ স্থগিত করার আবেদন জানান। আদালত বলেন, ট্রাইব্যুনালের রুলসের ৬ ও ৯ নম্বর ধারায় বলা আছে, অভিযুক্তদের যে কোনো পর্যায়ে গ্রেফতার করা যাবে। ট্রাইব্যুনালের বিধির ২ এর ১১ অনুচ্ছেদে বলা আছে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পারেন। সেটা তো এখনও হয়নি। তদন্ত চলছে এ অবস্থায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন কি-না এ সম্পর্কে আপনি বলুন। আমরা বিধি অনুযায়ী ওয়ারেন্ট জারি করেছি। আদালত বলেন, কী ঘটনায় এ অভিযোগ, এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে। একাত্তর সালের অপরাধের জন্য বিচার করতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত আবেদনটি যথাযথভাবে উপস্থাপন হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
তাদের আদালতের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। আদালত বলেন, তারা তো আসামি নয়, সন্দেহভাজন অভিযুক্ত।
শুনানির এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, একাত্তর সালে যুদ্ধ হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। আপনি যে কথা বলছেন এটার কোনো ভিত্তি নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি জেয়াদ আল মালুম বলেন, তাদের গ্রেফতার করার আদেশ দিয়ে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ন্যায়বিচার পরিপন্থী হয়নি। তারা একাত্তর সালে মন্দির-মসজিদ ধ্বংস করেছে। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান। এ সংবিধান চ্যালেঞ্জ করার অধিকার কারোর নেই। কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ৩৯ বছর তারা বাইরে ছিল। তারা সংসদেও ছিল। রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। তখন এ আইন বাতিল করেনি। তারা এ মুহূর্তে বাইরে থাকলে ঘোরতর আপত্তি থাকবে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা যারা বাইরে আছে, তারা ইন্টারনেটে ট্রাইব্যুনাল ও আমাদের হুমকি দিচ্ছে। অতএব তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আটক রাখা হোক। অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু বলেন, ট্রাইব্যুনালের আইন ও রুলসে কোনো অস্পষ্টতা নেই। যথাযথভাবে এসব আইন করা হয়েছে।
এছাড়া চারজনের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য মনোনীত ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়ার (লেটার অব অথরিটি) আবেদনটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল আদালতে আইনজীবী প্যানেলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, সদস্য সৈয়দ হায়দার আলী, জেয়াদ আল-মালুম, আবদুর রহমান হাওলাদার প্রমুখ। এ সময় জামায়াত নেতাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, মাসুদ আহমেদ সাঈদ প্রমুখ।
এর আগে গত ২ আগস্ট একই অভিযোগে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগি্নসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।সমকাল
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের