Saturday, 14 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ধর্মীয় সহিষ্ণুতা জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 77 বার

প্রকাশিত: September 14, 2012 | 3:01 PM

কাউসার মুমিন, নিউ ইয়র্ক : ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা যে কোন জাতির মানুষের জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। ধর্মের নামে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানো আত্মঘাতী প্রবণতা ছাড়া কিছু নয়। সকল ধর্ম বিশ্বাসী মানুষেরই জানা উচিত যে লিবিয়ার বেনগাজীতে অতি অল্প সংখ্যক বিপথগামী ধর্মীয় উন্মাদনার বশবর্তী হয়ে যে চারজন নিরীহ ও নিরপরাধ মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে, এর মাধ্যমে তারা মূলত ধর্মকে এবং ঈশ্বরকেই অবমাননা করেছে, কেননা ইসলামের অনুসারী এক বিলিয়ন মুসলমান কিংবা ইসলাম ধর্ম তা অনুমোদন দেয় না। ঠিক তেমনিভাবে একটি প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে ইসলামকে অবমাননা করার যে অপচেষ্টা করা হয়েছে তার সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের দূরতম সম্পর্ক নেই, কেননা যুক্তরাষ্ট্র যে কোন ধর্মীয় বিশ্বাসের ইচ্ছাকৃত অবমাননাকে নিন্দা জানায়। অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে আমি আবারও বলছি, ওই প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়বস্তু ও বার্তা দুটিকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করে- গতকাল ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদুল ফিতর পরবর্তী বার্ষিক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ কথা বলেন। প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছরই ঈদুল ফিতরের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঈদ উদযাপন উপলক্ষে রিসিপশনের আয়োজন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনকারী মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতগণ ছাড়াও এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশ নিয়ে থাকেন। এ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে অনেকটা লম্বা সফরে থাকায় কিছুটা বিলম্বে হলেও গত রাতে স্টেট ডিপার্টমেন্টের বেইন ফ্রাংকলিন কক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ছাড়াও আর বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে লিবীয়ার রাষ্ট্রদূত আলী সোলাইমান আউজালি, স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুসলিম কম্যুনিটি বিষয়ক বিশেষ দূত ফারাহ পণ্ডিত এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের জেনারেশন চেইঞ্জ  প্রোগ্রামের আওতায় সংবর্ধিত তিনজন ইয়াং মুসলিম আমেরিকান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় হিলারি প্রথমেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ সহ উপস্থিত সকলকে ঈদ মোবারক জানিয়ে বলেন, আজ রাতে আমরা এমন এক সময় মিলিত হয়েছি যখন লিবিয়ায় আমাদের রাষ্ট্রদূত ক্রিসতফার স্টিভেন্স সহ চারজন নিরপরাধ মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের আমেরিকার সাহসী সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, লিবিয়ার বেনগাজিতে যা ঘটেছে, এবং এই মুহূর্তে মিশরে, ইয়েমেনে আমাদের দূতাবাস প্রাঙ্গণে যা ঘটছে, আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ভাষায় এর নিন্দা জানাই। এ সময় হিলারি বেনগাজীতে চলমান সংকট নিরসনে লিবিয়া সরকারের সমর্থন ও সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লিবীয় রাষ্ট্রদূত আলী সোলেইমান আউজালিকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করেন। লিবীয় রাষ্ট্রদূত তার বক্তৃতায় লিবীয়ার জনগণ  ও সরকারের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন এবং মার্কিন জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে ও সমবেদনা জানিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য লিবীয় সরকার ও জনগণের দায় স্বীকার করে বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি এ ধরনের সহিংসতা সমর্থন করে না।’ পরলোকগত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেন্সকে নিজের ব্যক্তিগত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম সেক্রেটারি, আপনি মার্কিন জনগণকে বলুন, ক্রিস একজন সাহসী বীরপুরুষ ছিলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন যে ৪২ বছরের স্বৈরশাসনের পরও লিবিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। লিবিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজে তিনি নিজের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, আর এ প্রতিশ্রুতি পালন করতে গিয়েই তিনি প্রাণ দিয়েছেন।’ দিনের প্রথমভাগে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে হিলারি বলেন, আমার সহকর্মী মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো আমিও বিশ্বাস করি যে সকল ধর্মের নবীগণকে আমাদের সম্মান করা উচিত, কেননা তারা সামগ্রিকভাবে সমগ্র মানবতার প্রতীক। পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে যে কোন অন্যায়ের সহিংস প্রতিবাদ আরও অন্যায়ের জন্ম দেয়। ধর্মের নামে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানো এক ধরনের আত্মঘাতী প্রবণতা। যে কোন জাতির মানুষের জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা অপরিহার্য। হিলারি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে কোন ধরনের অবমাননার অনেক ঊর্ধ্বে ধর্মের অবস্থান, কেননা শত সহস্র বছর ধরে অনেক প্রতিকুলতার পরও ধর্ম ঠিকে আছে। তাই ধর্মীয় অবমাননার মুখে সহিংস প্রতিবাদ না করাটা  কোন ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের জন্য তাঁর ‘দুর্বলতা’ প্রকাশ নয়, বরং নিজস্ব বিশ্বাসের দৃঢ়তারই পরিচায়ক’। উল্লেখ্য যে, মুসলিম বিশ্বের ৬০% মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে ২০১০ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঈদুল ফিতর উদযাপন অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ইয়াং মুসলিম আমেরিকানরা যাতে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে সে লক্ষ্যে স্টেট ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ‘জেনারেশন চেইঞ্জ’ নামে একটি কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের জেনারেশন চেইঞ্জ প্রোগ্রামে বিশেষ অবদানের জন্য গতরাতের অনুষ্ঠানে উক্ত কর্মসূচির তিনজন ইয়াং মুসলিম লিডার-ভারতীয় আমেরিকান মুসলিম হুমায়রা রহমান, পাকিস্তানি আমেরিকান মুসলিম উজাহাত আলী এবং সোমালিয়ান আমেরিকান মুসলিম লিডার মোহাম্মদ মোহাম্মদকে সম্মাননা জানানো হয়। এর আগে ওয়াশিংটনে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র-মরক্কো দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত আলোচনার উদ্বোধনী বক্তৃতায় হিলারি বলেন, মার্কিন সরকারের সঙ্গে ভিডিওটির কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, আমরা এর বিষয়বস্তু ও বার্তা প্রত্যাখ্যান করছি। হিলারি চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলেন, বিদ্রূপাত্মক কোন উদ্দেশ্যে একটি মহান ধর্মকে অবমাননা ও এর মাধ্যমে ক্রোধকে উসকে দেয়ার বিষয়টি সেখানে প্রতীয়মান। মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট এমেন্ডমেন্ড-এ বর্ণিত মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতার কথা সম্মরণ করিয়ে দিয়ে হিলারি ক্লিনটন বলেন ‘আমি জানি যে অনেক লোকের পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন যে এসব ঘৃণ্য ভিডিও আলোর মুখ দেখার আগেই যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিহত করে না কেন। তবে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আজকের দুনিয়ায়, আজকের প্রযুক্তির কারণে সেটা কার্যত অসম্ভব। এছাড়া আমাদের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী এখানে অবাধে মতপ্রকাশের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা কাউকে তার মতপ্রকাশে বাধা দিই না, তা যত অরুচিকরই হোক কেন।’  হিলারি বলেন, ‘পৃথিবীতে বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে এই সাধারণ বিষয়ে কোন বিতর্ক থাকা উচিত নয় যে কথার জবাব সহিংসতা দিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV