বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি, নাকি রোগ!

অনলাইন ডেস্ক : প্রখর স্মৃতিশক্তি সব সভ্যতাতেই প্রশংসনীয়। তবে কজনেরই বা আছে এই বৈশিষ্ট্য! যাঁদের স্মৃতিশক্তি ভালো বলে খ্যাতি আছে, তাঁরাও হয়তো এ মুহূর্তে হঠাত্ করে ২০০২ সালের মে মাসের ১৭ তারিখে কী কী হয়েছিল, তা বলতে পারবেন না। কিন্তু, ব্রিটেনের অরেলিন হেম্যানের কথা ভিন্ন। সেদিন তিনি কী করেছিলেন, তা তো বলতে পারবেনই, কোন ধরনের পোশাক পরেছিলেন বা টেলিভিশনের খবরে কী বলা হয়েছিল অথবা আবহাওয়া কেমন ছিল—সব ঠিক ঠিক বলে দেবেন। আসলে, কুড়িতে পা দেওয়া অরেলিন হেম্যান হাইপারথিমেসিয়া নামের এক বিরল রোগে আক্রান্ত। এ রোগ ব্যক্তির মধ্যে চরম আত্মজৈবনিক স্মৃতিশক্তির জন্ম দেয়; অর্থাত্, নিজের চারপাশে যা ঘটে তা সে অবিকল মনে রাখতে পারে। অরেলিন কিন্তু তাঁর ছেলেবেলা নিয়ে আর সবার মতো এলোমেলো বক্তব্য দেন, যদিও ১১ বছর বয়স পেরোনোর পর যা ঘটেছিল, সব ঠিকঠাক মনে করতে পারেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এমনটা নয় যে, এক দিনে সব বুঝতে পেরেছি। যখন বয়স ১৪ পেরোল, তখন দেখি আমি বেশ কিছু ঘটনা ঠিক ঠিক মনে করতে পারছি।’ ধরা যাক, অরেলিনকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘আপনি ২০০৬ সালের ১ অক্টোবর কী করেছিলেন?’ তিনি বলে দেবেন, সেদিন আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা, তাই তিনি ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’ গান শুনেছিলেন; কোনো একজন নারীকে ডেকেছিলেন, অথচ সে তাঁর কথা শোনেনি। শুধু তা-ই নয়, সেদিন তিনি নীল টি-শার্ট পরে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন, এর পরদিন বাড়িতে বিদ্যুত্ চলে গিয়েছিল ইত্যাদি। ‘দ্য মেইল’ আজ সোমবার অরেলিন হেম্যানকে নিয়ে করা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বে এখন পর্যন্ত তাঁর মতো মাত্র ২০ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর বাবা মার্টিন, মা ড্যানি বা বোন—কেউ এ রোগে আক্রান্ত নন। একজন মানুষ তাঁর মস্তিষ্কের সামনের দিকের ‘দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি’ অংশ থেকে তারিখের মতো বিষয়গুলো মনে করতে পারে। অরেলিনের ক্ষেত্রেও তা ঘটে। কিন্তু, অরেলিন তাঁর মস্তিষ্কের বাম দিকের অংশও একই কাজে ব্যবহার করে। এ অংশ সাধারণত ভাষাবিকাশের কাজে ব্যবহূত হয়। আবার সে মস্তিষ্কের পেছনের একটি অংশও ব্যবহার করে, যা সাধারণত ছবি আকারে স্মৃতি সংরক্ষণ করে। অরেলিনের মধ্যে পুরো বিষয়টি ঘটে অবচেতন অবস্থায়। তিনি বলেন, ‘এটা করার জন্য কোনো কৌশল বা পদ্ধতি নেই। আমার মাথায় যে এটা কী করে ঘটে, তা বুঝতে পারি না। একটা ড্রয়ারে খুব দ্রুত ফাইল খুলে দেখার মতো একটা ব্যাপার ঘটে। দিনগুলো মনে হয় ছবির মতো। যেন পুরোটা একটা ছবির সারি।’ ডারহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র অরেলিন অবশ্য বলেছেন, তাঁর এ আশ্চর্য স্মৃতিশক্তি পরীক্ষার সময় বা কোনো কিছু লেখার সময় বাড়তি কোনো সাহায্যই জোগায় না। ‘সাধারণভাবে, আমার স্মৃতিশক্তি ভালো। এর অর্থ, আমার আত্মজৈবনিক স্মৃতি ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে এ স্মৃতি সত্যিই কোনো কাজ দেয় না।’ হাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুলিয়ানা মাজোনি অরেলিনের কয়েকটি পরীক্ষা নিয়েছেন। তিনি জানান, ‘ও যে জীবনের এত খুঁটিনাটি বিষয় মনে রেখেছে, তাতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। সপ্তাহের কোনো একটি দিনে সে আবহাওয়া বা টেলিভিশনের ধারাবাহিকগুলোর কথা হুবহু মনে করতে পারে। সব তথ্যই ঠিক থাকে।’ অরেলিন হেম্যানকে নিয়ে ব্রিটেনের চ্যানেল ফোর একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে। ‘দ্য বয় হু ক্যান্ট ফরগেট’ শিরোনামের তথ্যচিত্রটি ব্রিটিশ সময় আগামীকাল রাত নয়টায় প্রচারিত হওয়ার কথা।প্রথম আলো
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








