খুনিদের সংসদে বসিয়ে তত্ত্বাবধায়কের আইন হয়েছিল -নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী
ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিজ্ঞতা আমাদের খুবই বিচিত্র। খুনিদের সংসদে বসিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। এ আইনের ফলাফল আর যা-ই হোক, জনকল্যাণকর ছিল না। বাংলাদেশে একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন করতে। জনগণের ভোটের রায় পাল্টানোর রাজনীতি আমরা করি না।’ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হোটেল ম্যারিয়টের সম্মেলনকক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, নিজাম চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক সরকারের আমলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না—এ বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে এ ধারণা ভুল।’ তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে তিন বছরে আমরা প্রায় ছয় হাজারের মতো নির্বাচন করেছি। কোনো নির্বাচনেই কারচুপির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। সংবিধান সংশোধন করে ৭২ সালের সংবিধানের মূল চেতনায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিয়েছি। অসাংবিধানিক উপায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আর কেউ আসতে পারবে না।’ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ আরেকটি ১/১১ চায় না।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন, মঈনউদ্দিন—সবাই বিএনপির নিজস্ব লোক ছিলেন। বিএনপি আশা করেছিল এসব লোক তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরে জেনারেল মইনউদ্দিনের নিজেরই শখ হয়ে যায় ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার।’ নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একসময় আমাদের দল করতেন এমন একজন আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ ফতোয়া দিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকতে পারবে। নানা ফোরাম করে যিনি ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁর ফতোয়ায় কোনো কাজ হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এক-এগারোতে ফিরে যেতে চায় না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা যা করছি করেছি, ক্ষমতায় গেলে তার সবই পাল্টে দেবেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা পাল্টে দেওয়ার পক্ষে জনগণের রায় তিনি পাবেন না। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে আবারও দেশে খাদ্যঘাটতি দেখা দেবে। বাংলাদেশে আবারও সিরিজ বোমা হামলা হবে, জঙ্গিবাদ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।’ সংবর্ধনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আবার “হাওয়া ভবন”, “খোয়াব ভবন” করে লুটপাট হবে কি না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি, যেকোনো মূল্য তা রক্ষা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ বাংলা ভাইয়ের দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। আমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করেছি। বিশ্বমন্দার এ সময়েও আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি বলেছিলাম প্রযুক্তিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব। সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংক আবার প্রকল্পে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। আর এ কারণে বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি।’ অনুষ্ঠানে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য ক্যারোলাইন মেলোনি বক্তব্য দেন। তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভা ‘ফিলসফি অব স্টেটম্যান শেখ হাসিনা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। আওয়ামী যুবলীগ শেখ হাসিনার ৬৫তম জন্মদিন উপলক্ষে দুই ভাষায় বইটি প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা হোটেলের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী দলের নেতাদের ওপর দমনপীড়নের প্রতিবাদ জানান।
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








